বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নেওয়া হয় হলি আর্টিজান হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি

Send
তোফায়েল হোছাইন
প্রকাশিত : ২০:৫৪, অক্টোবর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২৭, অক্টোবর ২১, ২০১৯




হলি আর্টিজান হামলাগুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার বিষয়ে জঙ্গিরা চূড়ান্ত পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। এই হামলার পেছনে ছিল তিনটি উদ্দেশ্য। প্রথমত জঙ্গিরা কূটনৈতিক এলাকায় হামলা করে নিজেদের সামর্থ ও শক্তি জানান দিতে চেয়েছিল। এছাড়া বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করে নৃশংসতার প্রকাশ এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে হামলার ব্যাপক প্রচার ও বর্হির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিও তারা নষ্ট করতে চেয়েছিল। ০

সোমবার (২১ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মামলার প্রকাশ্য ও গোপন সাক্ষ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক, ব্যালেস্টি ও ডিএনএ রিপোর্ট এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকে জানা যায় নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবি দেশে খেলাফত ও শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করতে নিজেদের নব্য জেএমবি পরিচয় দিয়ে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা চালায়।

তিনি আরও বলেন, হলি আর্টিজান হামলায় জড়িত জঙ্গিরা গত ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত হামলার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। পরে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট যে বাসায় হামলার পরিকল্পনা হয় সেটি শনাক্ত করে। হামলায় জঙ্গিদের শনাক্ত করে বিভিন্ন সময়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পরিদর্শক হুমায়ূন কবির বলেন, জঙ্গিদের গ্রেফতার করার জন্য তথ্য প্রযুক্তির সহায়তার পাশাপাশি ও স্পাই (গুপ্তচর) নিয়োগ করা হয়। গত ২০১৬ সালের ২৭ জুন কল্যাণপুরে অপারেশন স্টর্ম পরিচালনা করে জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যানকে আহত অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়। একই অভিযানে সাত জন নিহত হয়। পরে হামলায় জড়িত আট জনকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাদের বিভিন্ন মেয়াদের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, হলি আর্টিজান হামলার জন্য তানভির কাদেরি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় নিজের প্রাইভেটকার বিক্রি করে দেন। পরে সব টাকা তিনি সংগঠনের তহবিল হিসাবে জমা করেন। এরসঙ্গে ৪০ হাজার টাকা দেন আসলাম, হামলা বাস্তবায়নে হুন্ডির মাধ্যমেও টাকা আসে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, জঙ্গিরা হামলায় নিহত শ্রীলঙ্কান নাগরিকের মোবাইল দিয়ে অপর জঙ্গিদের সঙ্গে wickn me secure messenger এবং com.my wickn.wickn2 মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর আগে, গত ৮ আগস্ট আট জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। গত বছরের ২৩ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির সিএমএম আদালতের জিআর শাখায় মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত বছরের ২৬ জুলাই সিএমএম আদালত মামলাটি ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। ৩০ বছরের জুলাই মামলাটির অভিযোগপত্র গ্রহণ ও আসামিদের উপস্থিতির জন্য এ দিন ধার্য করেন।

অভিযোগপত্রে আসামি ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন মারা যাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। নিহত ১৩ জনের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানের সময় এবং ৫ জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়। অভিযোগপত্রে ৮ আসামি হলো—হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ।সব আসামিই কারাগারে রয়েছে। ঘটনাস্থলে নিহত পাঁচ আসামি হলো—রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।

এছাড়া বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানের সময় নিহত ৮ আসামি হলো—তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।

/টিটি/

লাইভ

টপ