দুর্নীতি মামলায় শামীম-খালেদকে গ্রেফতার দেখাতে দুদকের আবেদন

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৪৪, অক্টোবর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১৭, অক্টোবর ২২, ২০১৯

 



জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াবহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া ওরফে জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) এ আবেদন করেছে সংস্থাটি।

ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আল মামুনের আদালতে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের উপস্থিতিতে আগামী ২৭ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
শামীমকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন এবং খালেদকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম।
এর আগে সোমবার (২১ অক্টোবর) শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ এবং খালেদের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৫৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা দায়ের করা হয়।
শামীমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, তিনি ২০১৮-২০১৯ করবর্ষ পর্যন্ত ৫০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। এরমধ্যে আয়কর নথিতে ৪০ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ৭৪৪ টাকার তথ্য উল্লেখ করলেও মোট টাকার বৈধ উৎস পায়নি দুদক।
এছাড়া শামীমের বাসা থেকে উদ্ধার করা নগদ ১ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ছাড়াও ৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকার বিদেশি মুদ্রা, শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের নামে ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার এফডিআর, মায়ের নামে আরও ৪৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার ব্যবসার অংশীদার এবং জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানির শেয়ার, গাড়ি ও এফডিআর বাবদ ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৭১৯ টাকার অস্থাবর সম্পদের বৈধ উৎস পায়নি দুদক। অনুসন্ধানে শামীমের মায়েরও বৈধ আয়ের কোনও উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ মোট ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে মা ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
অপরদিকে খালেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৯০ লাখ ১৬ হাজার ৭০৯ টাকার অস্থাবর সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ১৮ সেপ্টেম্বর র‌্যাবের অভিযানে তার গুলশানের বাসা থেকে ১৭ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ টাকার সমমানের বিভিন্ন দেশের মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। দুদকের অনুসন্ধানে কিংবা জিজ্ঞাসাবাদে এর কোনও উৎস দেখাতে পারেননি খালেদ। অর্থাৎ তার বিরুদ্ধে মোট ৫ কোটি ৫৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৯ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে দুদক আইনে ২৭(১) ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে শামীম ও তার মায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আগামী ১৯ নভেম্বর এবং খালেদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ১৮ নভেম্বর তারিখ ধার্য করেছেন একই আদালত।

আরও পড়ুন: 

জি কে শামীম ছিলেন অঘোষিত ‘টেন্ডার কিং’

 

 

 

/টিএইচ/এইচআই/এমওএফ/

লাইভ

টপ