এক বছরেও অগ্রগতি নেই রুট র‌্যাশনালাইজেশনের

Send
শাহেদ শফিক
প্রকাশিত : ২১:৩২, অক্টোবর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৪, অক্টোবর ২২, ২০১৯

যানজটরাজধানীর যানজট নিরসনে কয়েকটি কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনার জন্য র‌্যাশনালাইজেশন-সংক্রান্ত কমিটি গঠনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তবে কমিটির প্রধান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র জানিয়েছেন, তারা অনেকদূর এগিয়েছেন। ইতোমধ্যে কমিটি ছয়টি কোম্পানির মাধ্যমে গণপরিবহন পরিচালনার জন্য নতুনভাবে রুট নির্ধারণ করেছে। ডেঙ্গুর কারণে এ কাজে তাদের কিছুটা স্থবিরতা এসেছে বলে জানান মেয়র।

এদিকে, কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বাস মালিকরা। তারা বলছেন, নির্দিষ্ট কোম্পানির মাধ্যমে গণপরিবহন পরিচালিত হবে এটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু বর্তমানে যেসব বাস রয়েছে সেগুলোর বিষয়ে সমাধান কী হবে সে বিষয়ে আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কমিটির প্রধান সাঈদ খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাঝপথে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের জন্য কিছুটা গতি হারিয়েছে কমিটি। তবে এরই মধ্যে রুট চূড়ান্ত করার জন্য পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছি। তারা অল্প সময়ের মধ্যে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন আমাদের কাছে জমা দেবেন। কমিটি সেটি যাচাই-বাছাই করে দেখবে। এরপর আমরা সেটি প্রধানমন্ত্রীকে দেখাবো। ইতিবাচক সাড়া পেলে বাস্তবায়ন শুরু হবে। আশা করছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটি করা যাবে। এজন্য সময়েরও প্রয়োজন রয়েছে।’

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন সময়ে নানা মহল থেকে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে আসলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এর মধ্যে গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন শুরু করলে নড়েচড়ে বসে সরকার। এ সেক্টরে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। সর্বশেষ গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা দক্ষিণের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন– ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক চেয়ারম্যান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এসএম সালেহ উদ্দিন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক। কমিটি গঠনের পর দীর্ঘ এক বছর অতিবাহিত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠকও হয়েছে।

মেয়র সাঈদ খোকনের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটির কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে বাস রুট রেশনালাইজেশন ও কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনা পদ্ধতি প্রবর্তনের বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছিলেন সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা; সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মাধ্যমে বাস রুট রেশনালাইজেশন এবং কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনা পদ্ধতি প্রবর্তন করা; বাস রুট রেশনালাইজেশন ও কোম্পারির মাধ্যমে বাস পরিচালনা পদ্ধতি প্রবর্তনের রোডম্যাপসহ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা; এসব বিষয়ের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ করা এবং কমিটির কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে নিয়মিত অবহিত করতে হবে।

তবে গত ৭ জুলাই নগর ভবনে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মেয়র আরও দুই বছর সময় চেয়েছেন। তবে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে ২২টি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মহানগরীর সব বাস ছয়টি কোম্পানির অধীনে যাত্রী পরিবহন করবে। ছয়টি কোম্পানির বাস ছয় রঙের (গোলাপি, কমলা, সবুজ, বেগুনি, মেরুন ও নীল) হবে। গত ১০ এপ্রিল কমিটির অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘আমরাও চাই সরকার যে উদ্দেশ্যে এবং যেজন্য এই কমিটি গঠন করেছে সেটি বাস্তবায়ন হোক। তবে আমরা বলেছি, সরকার কোম্পানির মাধ্যমে আমাদের বর্তমানে যেসব বাস রয়েছে সেগুলো কিনে নিয়ে যাক। তা না হলে এই বাসগুলো কোথায় যাবে?’

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে যানজটের অন্যতম একটি কারণ মাত্রাতিরিক্ত ব্যক্তিগত গাড়ি ও রিকশা। এছাড়া রাস্তার স্বল্পতা,  সমন্বয়হীন রুট পারমিট,  মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি চলাচল,  অপ্রশস্ত সড়ক, বেপরোয়া বাস-মিনিবাস, যত্রতত্র ট্রাকস্ট্যান্ড, রেলগেট, মিনিবাস ও মাত্রাতিরিক্ত হিউম্যান হলার যানজটকে স্থায়ী রূপ দিয়েছে। এজন্য কমিটির পক্ষ থেকে প্রাথমিক অবস্থায় প্রধান সড়কে রিকশা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি। তাছাড়া কমিটির কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কোনও ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। যে কারণে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। তবে এর মধ্যেও কমিটি দৃশ্যমান বেশ কয়েকটি কাজ করেছে। সেগুলো হচ্ছে– ধানমন্ডি-আজিমপুর; মতিঝিল-উত্তরা ও উত্তরা চক্রাকার বাস। এছাড়া পুরান ঢাকাসহ আরও বেশ কয়েকটি এলাকায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কমিটিকে কোনও বিষয়ে নির্দিষ্ট করে ক্ষমতাও দেওয়া হয়নি এটা সত্য। তবে কার্যবিবরণীতে যেসব বিষয় রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন সেটি আমরা করছি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ