লিট ফেস্ট বাংলাকে নিয়ে যাবে বিশ্বের কাছে: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১২:৫৫, নভেম্বর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০৯, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

নবমবারের মতো ঢাকায় শুরু হলো আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব ‘ঢাকা লিট ফেস্ট।’ বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) ক্লাসিক্যাল ড্যান্সের সঙ্গে সুরের মূর্ছনায় শুরু হয় এই আয়োজন। লিট ফেস্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বাবু ও ম্যানবুকার পুরস্কারের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া সাহিত্যিক মনিকা আলী। আরও ছিলেন ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক সাদাফ সায্, কাজী আনিস আহমেদ এবং আহসান আকবর, টাইটেল স্পন্সর বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল ও ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান। সাধনা নৃত্য গোষ্ঠীর পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘২০১১ সালে যার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজকে তার নবম আসর। বাংলা সাহিত্যকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে ঢাকা লিট ফেস্টের আয়োজন। আমাদের আশা, একদিন লিট ফেস্ট বাংলাকে নিয়ে যাবে বিশ্বের কাছে। এর আগে হে ফেস্টিভ্যাল ছিল বহির্বিশ্বের সাহিত্যকে বাংলাদেশে পরিচিত করার জন্য। যারা আয়োজক তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এরকম একটা শুভ উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য। ঢাকা লিট ফেস্টের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করছে। আগামী বছর এই আয়োজনের শ্রী এবং মান আরও বৃদ্ধি করা হবে বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সাহিত্যের ওপর প্রতিবেশীর যে আগ্রাসন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের যে অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ, সেটির বিষয়ে আয়োজকদের কাছ থেকে কিছু কিছু উত্থাপন করার জন্য অনুরোধ থাকলো। এই ১১ লাখ লোকের লালন-পালন আমাদের সাহিত্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে, তা থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই। তাদের সরকার যেন আমাদের সহায়তা করে। যেসব অতিথি বিদেশ থেকে এসেছেন, তারা তাদের দেশের সরকারের কাছে যেন বিষয়টি লেখালেখির মাধ্যমে তুলে ধরেন।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ
ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক, সাহিত্যিক, ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনের প্রকাশক কাজী আনিস আহমেদ বলেন, ‘আমরা ঢাকা লিট ফেস্ট আয়োজন করি একটি চিন্তার উৎসব হিসেবে। দর্শনার্থীদের উপস্থিতি এই উৎসবকে সরব ও সবল করে তোলে। তাই আজকে আমরা আমাদের এই অনুষ্ঠান শুরু করছি তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে। আমাদের গভীর আশা, এই বিশাল বাংলা এবং তার গোটা জনবল একদিন মুক্তচিন্তার বিশাল, সুদৃঢ় পাটাতনে পরিণত হবে।’
কবি ও ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক আহসান আকবর বলেন, ‘তিন দিনের এই উৎসবে দেশি ও বিদেশি সাহিত্যকে তুলে ধরা হবে। ঢাকা লিট ফেস্ট ফিকশনের সঙ্গে বিজ্ঞান, বিজ্ঞানের সঙ্গে কবিতা, কবিতার সঙ্গে কলার মেলবন্ধন ঘটায়। বাক স্বাধীনতা, বহুত্ববাদ এবং রাজনীতির বিভিন্ন প্রেক্ষাপট ও মুক্তচিন্তার গুরুত্ব নিয়ে আমাদের আয়োজন সাজানো হয়।’

কাজী আনিস আহমেদ
ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক ও কবি সাদাফ সায্‌ বলেন, ‘বই এবং কবিতা একজন মানুষের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে। আমরা তিন পরিচালক শব্দ ও আইডিয়ার শক্তিতে বিশ্বাস করি। এটি আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায় প্রতি বছর ঢাকা লিট ফেস্ট আয়োজন করতে। যেকোনও মূল্যে একটি সাহিত্য উৎসবের আয়োজন আজকের দিনে খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘ঢাকা লিট ফেস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শতবর্ষ উপলক্ষে  উৎসর্গ করেছে। তাই আমি গৌরবের সঙ্গে উচ্চারণ করতে চাই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের নাম। তিনি না থাকলে এই মঞ্চে বাংলা সাহিত্য নিয়ে, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বাংলাদেশকে নিয়ে, বাংলাদেশের সাহিত্য নিয়ে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এই অভিজ্ঞতা আমার হতো না।’
ঢাকা লিট ফেস্টে আসতে পারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ম্যানবুকারের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকায় মনোনীত সাহিত্যিক মনিকা আলী। এসময় তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
সাহিত্যিক মনিকা আলী ছাড়াও উপমহাদেশের অন্যতম সাহিত্য ব্যক্তিত্ব শংকর, পুলিৎজার প্রাইজ বিজয়ী লেখক জেফরি গেটলম্যান, ডিএসসি পুরস্কারজয়ী সাহিত্যিক এইচএম নাকভি, ইতিহাসভিত্তিক লেখক উইলিয়াম ডালরিম্পল, ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও লেখক শশী থারুর, কবি তিশানি দোশি, সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী, কবি ও সাংবাদিক মৃদুল দাশগুপ্ত, কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ইমদাদুল হক মিলন, শাহীন আখতারসহ অনেকে অংশ নিচ্ছেন সাহিত্যের এই উৎসবে।
প্রথমদিন এই উৎসবে দেওয়া হবে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সাহিত্য সম্মাননা জেমকন সাহিত্য পুরস্কার।
এই উৎসবের দ্বিতীয় দিনে প্রদর্শিত হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্মিত ডকুমেন্টারি ফিল্ম ‘হাসিনা: অ্যা ডটার্স টেল’। প্রদর্শন শেষে চলচ্চিত্র নির্মাতা পিপলু খান বলবেন এর নির্মাণ অভিজ্ঞতা নিয়ে। এছাড়া ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা কৌশিক মুখার্জি আসছেন তার চলচ্চিত্র নিয়ে আলাপ করতে।
উৎসবটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য মুখর থাকবে বিভিন্ন আয়োজনে।


দর্শনার্থী ও সাহিত্যপ্রেমী থেকে শুরু করে সকল অঙ্গনের মানুষের জন্য উন্মুক্ত এ আয়োজনে অংশ নিতে করতে হবে একটি রেজিস্ট্রেশন মাত্র। যেটি নিশ্চিত করবে অংশগ্রহণকারীর পরিচয়। রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে পাওয়া ই-টিকেটটি ব্যবহৃত হবে আয়োজনে অংশগ্রহণকারীর প্রবেশপত্র হিসেবে। তবে সবার সুবিধার্থে ই-টিকেটটি প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে বহন গ্রহণযোগ্য হবে। রেজিস্ট্রেশন করতে ক্লিক করুন এই ঠিকানায়: https://www.dhakalitfest.com/register
বিশেষ এ আয়োজনে অংশ নিতে যাওয়া বিশেষ বক্তাদের সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন নিম্নে উল্লেখ্য করা ঠিকানায়, যেখানে তুলে ধরা হয়েছে আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় থেকে শুরু করে সংক্ষিপ্ত আদ্যোপান্ত। https://www.dhakalitfest.com/2019
ঢাকা লিট ফেস্ট আয়োজিত হচ্ছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহযোগিতায়। এটির টাইটেল স্পন্সর ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন ও অনলাইন নিউজপেপার বাংলা ট্রিবিউন, প্ল্যাটিনাম স্পন্সর সিটি ব্যাংক। অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজনে রয়েছে যাত্রিক। সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে বাংলা একাডেমি। এছাড়া গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। সিলভার স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, সাউথ ইস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক। এছাড়া আরও পার্টনার হিসেবে রয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, নগদ, স্কলাস্টিকা, বিকাশ, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, ব্রিটিশ কাউন্সিল, ইন্টার কন্টিনেন্টাল, ঢাকাস্থ নরওয়েজিয়ান দূতাবাস, গোথে ইনস্টিটিউট, ইএমকে সেন্টার।

/এনএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ