ছোট ছোট জিনিসকে কাব্যিকতার ছোঁয়ায় বড় পরিসরে ধরাই ফিকশন: মনিকা আলী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:৩১, নভেম্বর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২৩, নভেম্বর ০৮, ২০১৯

মনিকা আলীছোট ছোট জিনিসকে আবেগ ও কাব্যিকতার ছোঁয়ায় বড় পরিসরে ধরাই হলো ফিকশন। এমনটাই বললেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখিকা মনিকা আলী।

ঢাকা লিট ফেস্টের প্রথম দিনের (বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর) প্রথম সেশন ‘প্ল্যানারি ফিকশন: রেজিস্ট্যানস অর রিফিউজ’ বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ অডিটোরিয়ামে শুরু হয় দুপুর ১২টায়। এতে উপস্থিত ছিলেন মনিকা আলীসহ পাঁচ দেশের পাঁচ জন নারী লেখক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভারতীয় লেখক সুমনা রায়। বাকিরা হলেন ব্রাজিলীয় লেখক মারিয়া ফিলোমেনা বইসো লেপেসকি, ফিনল্যান্ডের মিন্না লিন্ডগ্রেন, ব্রিটিশ-ব্রাজিলীয় জারা রদ্রিগেজ ফাউলার‌।

সুমনা রায় শুরুতেই প্রশ্ন করেন, ফিকশন কী? এর জবাবে মনিকা আলী বলেন, ‘ফিকশন হলো ছোট ছোট জিনিসকে আবেগ ও কাব্যিকতার ছোঁয়ায় বড় পরিসরে ধরা।’ তার মতে, সাহিত্যিক পরিচর্যায় যেকোনও ক্ষুদ্র জিনিস বড় পরিসরে তুলে ধরা যায়।

মিন্না লিন্ডগ্রেন বলেন, ‘সোশ্যাল লাইফের গল্পকে তুলে ধরা আমার কাজ। আমি বয়স্ক মানুষের গল্প লিখি। সাম্প্রতিক বইটিতে বয়স্ক ব্যক্তির ভালোবাসা ও অপ্রাপ্তির বিষয় ফুটিয়ে তুলেছি। তাই আমার কাছে ফিকশন হলো সমাজের কথা বলা।’

মারিয়া ফিলোমেনা বইমো লেপেসকি একজনও চিকিৎসক। তিনি বলেন, ‘সবার জন্যই কল্পনা শক্তি খুবই দরকারি, আমরা বই পড়লেই সবচেয়ে সুন্দর করে কল্পনা করা শিখি। সেজন্যই আমার কাছে ফিকশন হলো মনোরঞ্জনের মাধ্যম।’

জারা রদ্রিগেজ ফাউলার বলেন, ‘যেহেতু আমি নারীবাদী লেখিকা, সেহেতু আমার কাছে ফিকশন হলো সমাজের প্রতিচ্ছবিকে বইয়ের অক্ষরে ফুটিয়ে তোলা। নারীদের অধিকার, সুবিধা ও অসুবিধাগুলোকে গল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার জন্যই আমি ফিকশনকে ব্যবহার করি।’

এরপরেই সুমনা রায় অনুষ্ঠানের টাইটেল অনুযায়ী প্রশ্ন করেন সবাইকে: আপনারা লেখক হিসেবে আর একই সঙ্গে পাঠক হিসেবে কেমন করে নিজেদের উপস্থাপন করেন? এ ব্যাপারে সবার অভিমত প্রায় কাছাকাছি: নিজেদের পড়াশোনার প্রতিফলন ঘটে তাদের নিজেদের লেখালেখিতে। যেমন মারিয়া ফিলোমেনা বইসো লেপেসকি বলেন, ‘আমি রিদমিক মানুষ, সব সময় ব্যালেড ড্যান্সের রিদম ফলো করি, সেজন্য আমার লেখা গল্পেও তেমন রিদম খুঁজে পাওয়া যায়।’

এর সঙ্গে মিন্না লিন্ডগ্রেন যোগ করেন, ‘অনেকে মনে করেন আমি খুব হালকা টপিক নিয়ে লিখি। কারণ, আমি মডার্ন সোসাইটির বয়স্করা কী করেন বা কী করা উচিত, এমন টপিক নিয়ে লিখলেও আমার লেখায় প্রচুর হিউমার থাকে, সেজন্য মানুষ লেখাকে হালকা মনে করে। কিন্তু মিউজিক পছন্দের ক্ষেত্রে আমি আবার ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক পছন্দ করি।’

জারা রদ্রিগেজ ফাউলার বলেন, ‘আমার লেখার বিষয়ের সঙ্গে আমার মিউজিকের পছন্দের মিল পাওয়া যায় না। আমি পছন্দ করি পপ মিউজিক আর লেখালেখি করি নারীর অধিকার নিয়ে, কলোনিয়াল ফ্যামিনিজম নিয়ে।’

সুমনা রায় সবাইকে তাদের লেখক হিসেবে কী ধরনের সংগ্রাম, প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সে ব্যাপারে জানতে চান।  সবাইকে নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। যেমন মারিয়া বলেন, তাকে ইংরেজি শিখতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। এবং এ কারণেই তিনি লিড ফেস্টের মতো প্রোগ্রাম আসতে পেরেছেন। মনিকা আলীকে বাংলা ভাষাভাষী হয়ে ব্রিটিশদের কাছে নিজের লেখা তুলে ধরতে প্রচুর সংগ্রাম করতে হয়েছে। জারা রদ্রিগেজ ফাউলারও বললেন, তার নারীবাদী লেখার জন্য অনেক প্রকাশক তাকে ফিরিয়ে দেন। তাই তার সংগ্রামও কম নয়।

দর্শক সারি থেকে নানারকম প্রশ্ন আসে। একজন ভারতীয় লেখিকা প্রশ্ন করেন, ‘রাইটার্স ব্লক’-এ পড়লে তারা কীভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন? তারা বলেন, তাদের সবাই ২ থেকে ৩ বছর করে এমন ব্লকে পড়েছেন। তবে কেউই লেখা ছেড়ে দেবেন, তা চিন্তা করেননি। সবাই তখন প্রচুর পড়াশোনার করেছেন। পড়ার জন্য ‘রাইটার্স ব্লক’ খুব উপযোগীও বললেন মনিকা আলী।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

/এইচআই/এমওএফ/

লাইভ

টপ