‘এই উপমহাদেশের মানুষের কাছে জাতীয়তাবাদের ধারণা খুবই উগ্র’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:২৫, নভেম্বর ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৪, নভেম্বর ০৮, ২০১৯

কিশোরী মেয়েটি বলে উঠলো আমি কে? আমার পরিচয় কে? আমার অস্তিত্ব কী এখানে? ২০০৬ সালে একটি অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশের জেনেভা ক্যাম্পে জন্ম, বেড়ে ওঠা ‘বিহারী’ মেয়েটি কথাগুলি বলেছিল। সেটাই স্মরণ করলেন তাসনীম সিদ্দিকী।


ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিন (৮ নভেম্বর) বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ অডিটোরিয়ামে ‘স্টেট অব স্টেটলেসনেস’ শীর্ষক সেশনে গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর এবং রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটিং মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের চেয়ারপার্সন তাসনিম সিদ্দিকী, ভারতীয় লেখক সম্রাট চৌধুরী এবং আমেরিকান সাংবাদিক জেফ্রি গেটেলম্যান।
একটি রাষ্ট্রে বসবাস করেও রাষ্ট্রহীন হওয়া বলতে কী বোঝায়? গর্গ চ্যাটার্জির এমন প্রশ্নের উত্তরে তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, ‘এটা সম্পর্কিত সেই মানুষদের সাথে যারা ধর্মীয়, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক কারণে বিভিন্ন সময় বাস্তুহারা হয়েছে অথবা স্বেচ্ছায় বাস্তুভিটা ছেড়ে উত্তম জীবন অন্বেষণে অন্য কোথাও চলে গিয়েছে।’ এই রাষ্ট্রহীন মানুষগুলোর দুর্দশা চিহ্নিত করে তাসনীম আরও বলেন, ‘আজকে অন্য রাষ্ট্রে বসবাস করে বাস্তুহারা এই মানুষগুলো একেবারেই মৌলিক অধিকারহীন মানবেতর জীবন যাপন করছে।’
আসামের নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) প্রসঙ্গে ভারতের মেঘালয়ভিত্তিক লেখক সম্রাট চৌধুরী এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আসামের পাশের রাজ্য মেঘালয়েও এখন এনআরসি আতঙ্ক বিরাজ করছে। মেঘালয়ের চা বাগানের বাঙালি এবং অন্যান্য শরণার্থীদের মাঝে যারা ১৯৪৭ এ দেশভাগের আমলে বাংলাদেশের সীমানা ছেড়ে মেঘালয়ে এসেছিলেন।’ দেশভাগের কথা স্মরণ করে সম্রাট আরও বলেন, ‘যারা তখন মেঘালয়ের স্থানীয় ভাষা বলতে পারতো না, তারাই মূলত আক্রমণের শিকার হতো। শুধু বাঙালিই না, নেপাল থেকে উন্নত জীবনের খোঁজে আগত মানুষেরাও এই স্থানীয় উপজাতিদের আক্রমণের শিকার হতো। সম্রাট জানান, কিছুদিন আগেই তিনি পরিবারসহ পশ্চিমবঙ্গে নিজের ভিটেবাড়ি স্থানান্তর করেছেন। জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা প্রতিটি মানুষের কাছে খুবই উগ্রভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, যা নিয়ে বেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই লেখক।
সঞ্চালক গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে আমেরিকান সাংবাদিক জেফ্রি গেটেলম্যান আফসোসের সাথে বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে পড়াশোনা আর গবেষণার এক পর্যায়ে তিনি উপলব্ধি করেন এই উপমহাদেশের মানুষের কাছে জাতীয়তাবাদের ধারণা খুবই উগ্র এবং অনেকাংশে ভুল।’ আসামের এনআরসি প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আসামের বেশিরভাগ স্থানীয় মানুষজন সেখানে বসবাসরত বাঙালিদের কখনোই স্থানীয় মনে করে না, যদিও সেসব বাঙালির বেশিরভাগই দেশভাগ তত্ত্বের অনেক আগে থেকেই সেখানে বসবাস করছেন।’ জেফ্রি বলেন, এটা কতটা দুঃখজনক যে একটা জাতি প্রজন্মের পর প্রজন্ম বসবাস করেও আসামের সাম্প্রতিক নাগরিকপঞ্জিতে জায়গা পাচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারেও আক্ষেপ প্রকাশ করে জেফ্রি বলেন, ‘বার্মার স্থানীয় মানুষজনও রোহিঙ্গাদের তাদের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে না, যার ফলাফল ২০১৭ সালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জাতিগত শোধন।’ ভারতে ক্রমবর্ধমান উগ্র জাতীয়তাবাদ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সাংবাদিক। সাংবাদিক হিসেবে কাশ্মীর বা আসামে ভ্রমণ করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সংগ্রহে সরকারি বাধার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

/এনএ/

লাইভ

টপ