বিজ্ঞান ও বিশ্বাস নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:২৬, নভেম্বর ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫৮, নভেম্বর ০৮, ২০১৯



রসুনে ক্যানসার সারছে দাবি ইংরেজ বিজ্ঞানীদের— এই কথা দিয়ে ‘সায়েন্স: ট্রুথ ইন দ্য এজ অব মেক বিলিভ’ শীর্ষক সেশনের আলাপ শুরু করেন সঞ্চালক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। ঢাকা লিড ফেস্টের নবম আসরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বিকাল ৪টায় কসমিক টেন্টে অনুষ্ঠিত এই সেশনে অংশ নেন গণিতবিদ পিয়ার্স বুরসিল-হল, বায়োকেমিস্ট প্রণয় লাল ও আবহাওয়া বিজ্ঞানী সামিয়া সেলিম।

গর্গ চট্টোপাধ্যায় পিয়ার্স বুরসিল-হলকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এখন যেকোনও কিছু জানার দরকার হলে আমরা গুগল করি, সবার আগে যে লিংক আসে তা উইকিপিডিয়ার। এখন আমরা কোনটা বিশ্বাস করবো—বাস্তবতা নাকি উইকিপিডিয়া?’

পিয়ার্স বুরসিল-হল এর জবাবে বলেন, ‘আমরা জানি উইকিপিডিয়াতে গণিত বিষয়ে অনেক তথ্য আছে, সেগুলোর ব্যাপারে গণিতবিদরা নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখেন। কিন্তু তারপরও প্রচুর ভুল থেকে যায়। ধর্ম ও ইতিহাস নিয়ে ভুলগুলো বেশি নজরে পড়ে। ধর্ম ও ইতিহাসের ক্ষেত্রে নিজের মতামত ঢুকে যায় উইকিপিডিয়ায়, সেজন্যই বিতর্ক বেশি হয়। কিন্তু গণিতে একটু কম হয়। কারণ, যুক্তি দিয়ে গণিতের সমাধান করতে হয়।’

প্রণয় লাল বলেন, ‘সেজন্যই মানুষকে বিজ্ঞানের যুগে বাস করতে হলে ঈগলের দৃষ্টির মতো সবকিছু যাচাই করতে হবে। আধুনিক সমাজে আগের মতো মৌলিক সুযোগের অভাব নেই, কিন্তু বিতর্ক তৈরি হওয়া সহজ।’

সামিয়া সেলিম বলেন, ‘আমরা বড় হই রূপকথার গল্প শুনে, তারপর স্কুলে গিয়ে বিজ্ঞান পড়ি। কিন্তু বাস্তব জীবনের সঙ্গে আমরা নিজেদের পড়ার বিষয়কে মিলিয়ে দেখি না। আর সেজন্যই আমি নিজে পরিবেশবিদ হওয়ার পরও সমাজের ভাষায় জনসাধারণকে সচেতন করতে পারি না।’

‘ধর্ম বিশ্বাস করলে জীবন সহজ হয়, ধর্ম অবিশ্বাস করলে জীবন সবচেয়ে খারাপ হয়ে পড়ে। সেজন্য গণিতবিদকে সব কথা সব জায়গায় বলতে হয় না। কারণ, গণিত জনগণের জন্য কাজ করলেও জনগণ সব থিওরি বিশ্বাস করতে প্রস্তুত থাকে না’, এই বলে আলোচনায় সমাপ্তি টানেন পিয়ার্স বুরসিল-হল।

দর্শক সারি থেকে প্রশ্ন আসে, কেমন করে বিজ্ঞানমুখী হওয়া যায় ও গণিত শেখা যাবে? তখন বক্তারা বলেন, অবশ্যই যে বিজ্ঞান জানে এমন শিক্ষকের কাছে শিখতে হবে, জিওগ্রাফি জানা শিক্ষকের কাছে গেলে হবে না।

/এইচআই/এমওএফ/

লাইভ

টপ