‘নিজেদের পথ আমাদের নিজেদেরই করে নিতে হবে’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৪৪, নভেম্বর ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১৮, নভেম্বর ০৮, ২০১৯

২০১১ সালে সাদা-কালোয় ‘গান্ডু’ তৈরি করে উল্টো পথে হেঁটেছিলেন কিউ। বিতর্ক ও জনপ্রিয়তায় ছাপিয়ে গিয়েছিল তার নন-লিনিয়ার গল্প বলার ধরন। যাপিত জীবনে প্রথা বিবর্জিত পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র পরিচালক কৌশিক মুখার্জি ওরফে ‘কিউ’। ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিন (৮ নভেম্বর) বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে বিকালের এক সেশনে ‘আলতু ফালতু: বাংলা স্ট্রিট স্ল্যাং’–অ্যা নিউ এস্থেটিক?’ শিরোনামে লেখক ও প্রচ্ছদশিল্পী শিবু কুমার শীলের সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিউ।

স্ল্যাং বা অপভাষা নান্দনিকতার একটি নতুন ধরন কিনা এ বিষয়ে তার অন্যতম জননন্দিত অথচ কিছু অংশে বিতর্কিত ভারতীয় বাংলা সিনেমা ‘গান্ডু’র প্রেক্ষাপটে সঞ্চালক শিবুর বিভিন্ন প্রশ্নের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন কিউ। বাংলায় গ্রাফিক নভেল, মানে বাংলা অক্ষরে লেখা থাকবে, এ চাহিদা অভিজাত বাঙালি অনেক দিন ধরেই পোষণ করে আসছেন। অ্যাস্টেরিক্স, টিনটিনের অনুবাদ যুগ যুগ ধরে সেই স্বাদ মিটিয়ে আসছে। কিন্তু সবই ছোটদের জন্য। অ্যাডল্ট গ্রাফিক নভেল, তাও আবার বাংলায়, দেখলে চোখ ছানাবড়া হওয়ারই কথা। তাই গান্ডুকে সিনেমায় বন্দি না রেখে গ্রাফিক নভেলে মুক্তি দেওয়ার চিন্তা থেকেই বাংলা সাহিত্যচিত্রে ক্রমবিলীয়মান এই জায়গায় পা রেখেছেন পরিচালক কিউ।

কাউন্টকালচার, অ্যানার্কিজম, অল্টারনেটিভ, আন্ডারগ্রাউন্ড আর্ট চর্চার মিশ্রণ প্রসঙ্গে কিউ বলেন গান্ডু ছবিটা একটি সরলরেখায় চলে না। রবীন্দ্র পরবর্তী সময়ে গান্ডুর মতো সিনেমা বা গান্ডুর মুন্ডুর মতো গ্রাফিক নভেল ঠোকর খায়, অপমানিত হয়, হুমড়ি খেয়ে পড়ে। যার ক্ষোভ প্রকাশ পায় গান্ডুর ফিচার গানে। বাঙালিরা সভ্যতাকে আলিঙ্গন করে গান্ডুর মতো সমাজের নিচু স্তরে বেড়ে ওঠা সুবিধাবঞ্চিত সত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়েছে। কৃত্রিমতার জালে আটকা পড়ছে। ভাষাকে একটি নির্দিষ্ট ছকে, আঙ্গিকে বেঁধে ফেলছে। শ্রেণিবৈষম্য বাড়াচ্ছে, যা দিনকে দিন মানুষের ভেতরের সার্বিক দুর্বোধ্যতাকে উসকে দিচ্ছে।
গান্ডু শব্দটির উৎপত্তি নিয়ে বলতে গিয়ে কিউ জানান, ১৫০ বছর আগে উড়িষ্যার কোনও এক অঞ্চলে শব্দটি প্রথম পাওয়া যায়। যার অর্থ ‘কাউকে জড়িয়ে ধরে স্বস্তি পাওয়া’। অথচ ভুল ব্যবহার ও বিভিন্ন মাধ্যমে ভুল ব্যাখ্যার দরুন গান্ডু তার সঠিক অর্থ হারিয়ে অপভাষায় রূপান্তরিত হয়ে যায়।
বাকস্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে কিউ বলেন, ‘মনের ভাবের সাবলীল বহিঃপ্রকাশে আমরা এখনও বাধাপ্রাপ্ত হই। গুরুচণ্ডালী দোষে দূষিত হয়ে আমাদের লেখার অর্থই বদলে যাচ্ছে। শহুরে আর আনুষ্ঠানিকতার ঘাত-প্রতিঘাতে ভাষাগত চক্রান্তের শিকার হয়ে আমাদের মধ্যে বৈষম্য বাড়ছে, যা সামাজিক বিষণ্ণতার এক অন্যতম প্রভাবক। তাই কিছু ক্ষেত্রে প্রথা বিসর্জন করে নিজেদের পথ আমাদের নিজেদেরই করে নিতে হবে।’

/এনএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ