তীব্র জলোচ্ছ্বাসেও ভাসানচরে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেনি, দাবি আইএসপিআরের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৫:৩০, নভেম্বর ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৪, নভেম্বর ১১, ২০১৯

ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া জেলেদের খাবার দেওয়া হচ্ছে

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র প্রভাবে তীব্র জলোচ্ছ্বাস ও পানির উচ্চতা বৃদ্ধির পরও ভাসানচরে জোয়ারের পানি প্রবেশ করতে পারেনি বলে দাবি করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)। তারা আরও জানিয়েছে, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে তিন শতাধিক জেলেকে আশ্রয় দিয়েছে নৌবাহিনী। এ ছাড়া, ভাসানচরে নির্মাণকাজে নিয়োজিত প্রায় তিন হাজার শ্রমিকও ওই কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন।

আইএসপিআর জানায়, ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের “প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় ও ত্রাণ তৎপরতা মনিটরিং সেল” সব মন্ত্রণালয় এবং বাহিনীগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী বাহিনীগুলোর কার্যক্রম গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে আসছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় ও ত্রাণ তৎপরতা মনিটরিং সেল।

আইএসপিআর আরও জানায়, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের অনুরোধে যশোর থেকে সেনাবাহিনীর ১২০ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও যানবাহন নিয়ে শ্যামনগরে মোতায়েন রয়েছে। সেনাবাহিনী স্থানীয় জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরে সহায়তা করেছে। সেনাবাহিনীর সব ব্রিগেড ও ডিভিশনগুলো স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে প্রয়োজনীয় উদ্ধার সামগ্রী নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী সহায়তার জন্য জরুরি প্রয়োজনে ওষুধ, খাবার পানি, শুকনো খাবার বিতরণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেনাবাহিনীকে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্ষয়ক্ষতিরোধে জরুরি সহায়তার জন্যও সব প্রস্ততি গ্রহণ করা হয়েছে।’

সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের আনুমানিক ২ হাজার সেনা সদস্যকে ১৫টি দলে বিভক্ত করে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে জানিয়ে আইএসপিআর জানায়, ৫টি চিকিৎসা সহায়তাদানকারী দল, সাত হাজার ৫০০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট, ৩টি পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট এবং উদ্ধারকাজ চালাতে ৪৫টি ‘ট্রাই শাক’ বোট যশোর সেনানিবাসে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জিওসি, ৫৫ পদাতিক ডিভিশন এবং এরিয়া কমান্ডার, যশোর এরিয়া মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসানের নির্দেশনায় ডিভিশন সদর দফতরে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতির নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সর্বদা সমন্বয় করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা সেনানিবাস ৭ পদাতিক ডিভিশন ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বরিশাল, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও ঝালকাঠির সব উপজেলায় সেনা সদস্য দ্রুত মোতায়েনের প্রস্ততি নিয়েছে। প্রত্যেক উপজেলায় উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও অন্য সরঞ্জাম আলাদাভাবে প্রস্তত রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সম্ভাব্য উদ্ধার সামগ্রী এবং নৌপথে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর লক্ষ্যে বিশেষ ধরনের নৌযান ‘ট্রাই শার্ক’ বোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী প্রাথমিক মানবিক ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনার জন্য খাবার ও রশদ সামগ্রীসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক খাবারের প্যাকেট ও প্রয়োজনীয় খাবার পানি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য আহত ও অসুস্থ দুর্গত লোকজনকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতি উপজেলায় একটি করে মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চিকিৎসা সেবার লক্ষ্যে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও যন্ত্রপাতিসহ অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে। সম্ভাব্য হতাহতদের জরুরি উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঝড়ের অবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন কাজ সমন্বয়ের জন্য ২৪ ঘণ্টার জন্য ফর্মেশন কন্ট্রোল সেল কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

নৌবাহিনী

গভীর সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া সন্দ্বীপ ও হাতিয়ার ৪০টি মাছ ধরার নৌকার প্রায় তিন শতাধিক জেলে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে শনিবার (৯ নভেম্বর) রাতে ভাসানচরে আশ্রয় নেয়। সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য নৌবাহিনী নির্মিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে এসব জেলেকে আশ্রয় দেওয়া হয়। এ সময় নৌসদস্যরা তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা দেন। বর্তমানে আশ্রয় নেওয়া জেলেরা সুস্থ ও নিরাপদে রয়েছেন। এ ছাড়া, ভাসানচরে নির্মাণকাজে নিয়োজিত প্রায় তিন হাজার শ্রমিকও বর্তমানে নিরাপদ আশ্রয়ে এই চরে অবস্থান করছেন।

বিমান বাহিনী

বিমান বাহিনী সদর দফতরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল সচল রাখা হয়েছে। বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ও ফিক্সড উইং এয়ার ক্রাফট দুর্যোগ পরবর্তী রেকি ও যেকোনও জরুরি মিশনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিমান বাহিনীর একটি অগ্রগামী দুর্যোগ মোকাবিলা দল ইতোমধ্যে বরিশালে অবস্থান করছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে আসলেই বিমান বাহিনী দুর্গত এলাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য পর্যবেক্ষণ মিশন পরিচালনা করবে।

 

/জেইউ/এমএ/

লাইভ

টপ