behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ডাকছে স্বচ্ছ সোমেশ্বরী, সবুজ পাহাড়ের বিরিশিরি

হানিফ উল্লাহ আকাশ, নেত্রকোনা॥১৮:৫১, জুলাই ২০, ২০১৫

birishiriছুটির দিনে বৃষ্টি-বাদলের উৎপাত সবার কাছেই অসহ্য! কিন্তু, অফিস বা ব্যবসার কাজে আবারও যোগ দেওয়ার আগে মহার্ঘ্য যে ছুটিটুকু পাওয়া গেছে ঈদের সৌজন্যে বৃষ্টির চোখ রাঙানিতে ঘরে বসেই কি তা শেষ করে ফেলবেন? তা করতে না চাইলে একটা উপায় বাতলে দিতে পারি। ঘুরে আসুন পাহাড় নদী গাছ-গাছালিঘেরা আদিবাসী অধ্যুষিত নেত্রকোণার দূর্গাপুর! বাজি রেখে বলতে পারি, গারোদের দেশে পা ফেলতেই আপনার মন প্রফুল্ল হয়ে উঠবে। কবি হয়ে কেউ লিখে ফেলবেন কবিতা, কেউবা গলা ছেড়ে গাইবেন গান। আর যারা প্রকৃতির এই বিপুল সৌন্দর্যের এক মুঠো সন্দেশ হিসেবে নিতে চান তারা যে সেলফি আর স্ন্যাপ শটে মগ্ন হয়ে যাবেন-এতে কোনও ভুল নেই।

Shomeshwari_River

হেমন্তের এই সোমেশ্বরী বর্ষায় জলে টইটম্বুর, একটু উত্তাল তবুও অসাধারণ স্বচ্ছ। ছবি: সংগৃহীত।

আপনি যদি এ মুহুর্তে ঢাকা কিংবা বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকায় অবস্থান করেন তো এটা আপনার জন্য সুবর্ণ সুযোগ! পরিবার কিংবা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে গারোদের দেশে যাওয়ার এখনই সময়। থৈ থৈ পানিতে টইটম্বুর সোমেশ্বরী নদী, বর্ষায় ধোয়া নবীন সবুজ পাতাভরা বৃক্ষরাজি, পাহাড়ি আঁকাবাঁকা মেঠো পথ আর বিরিশিরির আদিবাসী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আপনাকেই ডাকছে!

রাজধানীর কেউ যেতে চাইলে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রথমে ময়মনসিংহ কিংবা নেত্রকোণার বাসে উঠে সোজা ময়মনসিংহ চলে আসবেন। পরে ময়মনসিংহ-নেত্রকোনার রাস্তা ধরে শ্যামগঞ্জ মোড়ে এসে নামতে হবে। এখান থেকে পূর্বধলা সড়ক দিয়ে দূর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি কালচারাল একাডেমিতে এসে উঠবেন। আগে থেকে যোযোগ করে এলে এখানে রাত কাটানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। এখানে অবস্থান করেই উপভোগ করতে পারবেন বিরিশিরি সংলগ্ন সোমেশ্বরী নদী, পাহাড় ও আশেপাশের এলাকার সৌন্দর্য।

pic-16

আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসব। ছবি: বাংলা ট্রিবিউন

এছাড়াও পর্যটকরা দূর্গাপুর উপজেলা ঘুরে উপভোগ করতে পারবেন, কমলা রাণীর দীঘি, গারো পাহাড়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি, সুসং দুর্গাপুরের জমিদার বাড়ি, টংক আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ, সাধু যোসেফের ধর্মপল্লী, রাশিমণি স্মৃতিসৌধ, বিজয়পুরের সাদামাটির পাহাড় ও নীল পানির লেক ইত্যাদি।

গারো পাহাড়ের পাদদেশের এই উপজেলায় আদিবাসীদেরই বেশি বসবাস। বাঙালিদের পাশাপাশি তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে মাথা উঁচু করে বেঁচে আছে বহুকাল ধরে। গারো পাহাড়ের এই আদিবাসীদের সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে স্থাপিত হয় ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক একাডেমি। যেখানে তারা তাদের সংস্কৃতি চর্চা করে। তাদের সংস্কৃতি চর্চায় অতিথিদের বরণ আনন্দ দেয় এখানে আসা পর্যটকদের।

একটু সসাং দূর্গাপুরের বন্দনা করে নেই। নেত্রকোনা জেলার উত্তর প্রান্তে গারো পাহাড়ের পাদদেশের জনপদ এটি। এখানে পাহাড়ি পথের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে টলটলে জলের সোমেশ্বরী আর দিগন্ত হারিয়েছে আকাশ ছোঁয়া সবুজ পাহাড়ে। ছোট্ট জায়গাটির পরতে পরতে জড়ানো অমলিন সৌন্দর্য।

Lake01

নীল পানির লেক

আসার পথেই পড়বে দুর্গাপুরের বাসস্ট্যান্ডের পাশেই অবস্থিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি । এ অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবন যাত্রার নানা নিদর্শন সংরক্ষিত আছে এখানে। সুসং দুর্গাপুর ও এর আশপাশের উপজেলা কলমাকান্দা, পূর্বধলা, হালুয়াঘাট এবং ধোবাউড়ায় রয়েছে গারো, হাজং, কোচ, ডালু, বানাই প্রভৃতি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস। এদের জীবন ধারা যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি তাদের সংস্কৃতিও। এসব ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং চর্চার জন্যই ১৯৭৭ সালে সুসং দুর্গাপুরে সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি । এখানে প্রায় সারা বছরই নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সোমেশ্বরীর আরেকটু বর্ণনা শুনুন তবে। দুর্গাপুরের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে এ অসাধারণ সুন্দর নদীটি। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় থেকে সৃষ্ট এ নদী মেঘালয়ের বাঘমারা বাজার হয়ে রানিখং পাহাড়ের পাশ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। লোকে কয়, সোমেশ্বর পাঠক নামে এক সিদ্ধপুরুষ এ অঞ্চলের দখল নেওয়ার পর থেকে নদীটি সোমেশ্বরী নাম লাভ করে। আহা, একেক ঋতুতে এ নদীর সৌন্দর্য একেক রকম! তবে সারা বছরই এর জল টলটলে স্বচ্ছ। বর্ষা মৌসুমে বেড়ে গেলেও শীতে সোমেশ্বরীর জল অনেকাংশেই কমে যায়।

আছে সুসং দুর্গাপুরের জমিদার বাড়ি। সুসং দুর্গাপুরের সোমেশ্বর পাঠকের বংশধররা এ বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। বাংলা ১৩০৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে জমিদার বাড়িটি একেবারে ধ্বংস হয়ে গেলে তাদের উত্তরসূরীরা এটি পুনঃনির্মাণ করেন। এ জমিদার বাড়িটি চারটি অংশে বিভক্ত। বড় বাড়ি, মেজো বাড়ি, আবু বাড়ি ও দুই আনি বাড়ি।

দূর্গাপুরে ইতিহাস ভীষণ জীয়ন্ত! এ উপজেলায় বিভিন্ন সময় মানুষ তাদের অধিকার আদায়ে যে আন্দোলন সংগ্রাম করেছিল সেসব স্মৃতি এখনও অমলিন। ১৯৪৬-৫০ সালে মণিসিংহের নেতৃত্বে পরিচালিত টংক আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে স্মৃতিসৌধ। সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে কিছু দূর এগুলেই এম.কে.সি.এম হাই স্কুল এর পাশেই চোখে পড়বে এ স্মৃতিসৌধটি। প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বর মণিসিংহের মৃত্যু দিবসে এখানে সাত দিনব্যাপী মণি মেলা নামে লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়।

Pic-1

চীনা মাটির পাহাড়

সুসং দুর্গাপুর থেকে সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে রিকশায় গেলে পাওয়া যাবে সাধু যোসেফের ধর্মপল্লীর নির্দশন। রানিখং থেকে বিজয়পুর পাহাড়ে যাওয়ার পথে বহেরাতলীতে অবস্থিত রাশিমণি স্মৃতিসৌধ। রাশিমণি স্মৃতিসৌধ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে বিজয়পুরে আছে চীনা মাটির পাহাড়। এখান থেকে চীনা মাটি সংগ্রহের ফলে পাহাড়ের গায়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট ছোট পুকুরের মতো গভীর জলাধার। পাহাড়ের গায়ে স্বচ্ছ জলাধারগুলো দেখতে চমৎকার।

সুসং দুর্গাপুর এলে অবশ্যই ঘুরে যাবেন ভবানীপুর, বাদামবাড়ি, ডাহাপাড়ার গারো পাহাড়ে। দুর্গাপুর বাজার থেকে আত্রাখালি নদী পার হয়ে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে দূর্গাপুরকে। আর দূর্গাপুর এখন আপনার অপেক্ষায়।

/এএ/টিএন/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ