behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ছিটমহল বিনিময়: অপেক্ষা ৩১ জুলাই মধ্যরাতের

লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥২০:২২, জুলাই ৩০, ২০১৫

Chitmahalদীর্ঘ ৬৮ বছরের দোলাচলের পর অবশেষে ৩১ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিটে আসতে যাচ্ছে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ। যে সময় থেকে নতুন অস্তিত্বে যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার ১৬২টি ছিটমহলের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। আগত সময়টি স্মরণীয় করে রাখতে দু’দেশের ছিটমহলের বাসিন্দারা এখন ব্যস্ত নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে দিনটি উদযাপনে।

ভারতের কুচবিহার জেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলে বাস করছেন প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার নাগরিক। অপরদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলে পাওয়া গেছে ৪১ হাজার ৪৪৯ জন নাগরিক। এদের মধ্যে ৯৭৯ জন ভারতে যাওয়ার জন্য আবেদনপত্র ফরম পূরণ করেছেন। চলতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এসব নাগরিক বিশেষ ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে ভারতে ফেরত যাবেন, যাদের মধ্যে আছেন ৮১৬ জন সনাতনধর্মী ও ১৬৩ জন মুসলমান। এসব ছিটমহলগুলোর মধ্যে আছে লালমনিরহাটে ৫৯টি, কুড়িগ্রামে ১২টি , পঞ্চগড়ে ৩৬টি ও নীলফামারীতে ৪টি।

ভারত-বাংলাদেশের জরিপ কার্যক্রম

ছিটমহল বিনিময় চুক্তি হয় তৎকালীন মুজিব-ইন্দিরার ক্ষমতাকালেই। সে সময় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বাধীন তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার চুক্তিটি বিনিময়ের জন্য কণ্ঠভোটে পাস করলেও দীর্ঘদিন ঝুলেছিল ভারতীয় পার্লামেন্টে।পরবর্তীতে কংগ্রেস সরকার ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির আদলেই প্রটোকল চুক্তিস্বাক্ষর করে। ২০১১ সালে ছিটমহল বিনিময়ের জন্য দু’দেশেই হেডকাউন্টিং করা হয়। কংগ্রেস সরকার চেষ্টাও করে বিলটি পাস করাতে পারেনি। তবে ২০১৪ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা সেই ‘স্থল সীমান্ত’ বিলটি ভারতীয় পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশভাবে পাস হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দু’ দেশের ১৬২ ছিটমহলে চলতি বছর ৬ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত যৌথ হালনাগত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সরকারি সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ এখন শুধু বাকি ছিটমহলবাসী স্থানান্তর।

ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় কমিটির কর্মসূচি:

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ছিটমহল ৩১ জুলাই রাত ১২টা ১মিনিটে সংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের মানচিত্রের সাঙ্গে একীভূত হয়ে যাবে। সেই মাহেন্দ্রক্ষণটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রত্যেক ছিটমহলে সংগঠনের তরফ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। তবে বাংলাদেশ ইউনিটের নেতারা কুড়িগ্রামের দাশিয়ারছড়া ছিটমহলে সবচেয়ে বড় কর্মসূচি পালন করবে এবং ওই কমিটির নির্দেশে প্রত্যেক ছিটমহলে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে বিজয় উল্লাস। সে লক্ষ্যে গত ৬৮ বছরের অনিশ্চয়তার গ্লানি ঝেড়ে ফেলতে জ্বালানো হবে ৬৮টি মোমবাতি। এছাড়া বিভিন্ন কর্মসূচিতে ছন্দ ফুটে তুলতে থেমে থেমে রাখা হয়েছে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দাসিয়ারছড়া ছিটমহলের অনুষ্ঠানমালা আঁচড়ে পড়েছে লালমনিরহাটের ৫৯ ছিটমহলে বসবাসকারী মানুষের মাঝে। সেই বিজয়-উল্লাস আনন্দে যোগ দেবেন ভারতে যেতে আগ্রহী বাসিন্দারাও।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় কমিটির লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন,‘এখন ছিটমহল শব্দটি ইতিহাসের কলঙ্কিত স্থান থেকে মুছে গেছে। আমরা নবজাতক বাংলাদেশি। আমরা বাঙালি। সব ভেদাভেদ ভুলে আমরাও বাংলাদেশ বির্নিমানে কাজ করবো।’

তিনি আরও বলেন,‘লালমনিরহাটের অভ্যন্তরে পাটগ্রামের ৫৫ ছিটমহলের মধ্যে ১৯টিতে কোনও জনবসতি নেই। এছাড়া ৩৬টি, হাতীবান্ধার ২টি ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার ২টি ছিটমহলে ৩১ জুলাই মধ্যরাতে দিনটিকে স্মরণ রাখার জন্য ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রামের দাসিয়ারছড়া থেকে একযোগে কর্মসূচি পালিত হবে।’

ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি যাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন:

ওপারে সাংবাদিক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত ও এপারে অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে দু’দেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপ্রধান মুজিব-ইন্দিরা প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাবেন। ছিটমহল বিনিময়ের আলোর পথ দেখানোয় তাদের প্রতি সবার আগে শ্রদ্ধাঞ্জলি থাকবে, এরপর মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রটোকল চুক্তি স্বাক্ষর করে ছিটমহল বিনিময়কে আরও একধাপ এগিয়ে নেওয়ার জন্য ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান হবে। একইভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিও। তবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জায়গা থেকে বাদ পড়ছেন না কংগ্রেসের সভানেত্রী শ্রীমতি সোনিয়া গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। এছাড়াও বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানানো হবে ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির মূল নায়ক দীপ্তিমান সেনগুপ্তের প্রয়াত পিতার প্রতি।

বাংলাদেশ ইউনিটের আইন উপদেষ্টা আইনজীবী আব্রাহাম লিংকন বলেন,‘কুড়িগ্রামের দাসিয়ারছড়া ছিটমহল থেকেই ৩১ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিটে মূল কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে ১১১টি ছিটমহলে। প্রত্যেক ছিটমহলে ৬৮ মোমবাতি ও প্রদীপ জ্বালানোর পরেই ১টি মশাল জ্বালানো হবে। এরপর প্রত্যেকেই গেয়ে উঠবেন বাংলাদেশি জাতীয় সঙ্গীত। এসবের মধ্যদিয়ে শুরু হবে অন্যান্য কর্মসূচি।’

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার দেলোয়ার বখত বলেন, ‘সরকারিভাবে কোনও নির্দেশনা নেই। স্বাভাবিকভাবেই এসব ছিটমহল বিনিময় হয়ে যাবে। এখন এসব ছিটমহলের ভূমি জরিপ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। ৩০ নভেম্বরের আগেই ভূমি জরিপ কাজ শেষ করে কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহ করা হবে। ভারতে যেতে ইচ্ছুক নাগরিকদেকেও ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ভারতে পাঠানো হবে।’


 

ছিটমহল বিনিময় বিরোধী ছিট ইউনাইটেড কাউন্সিলেরও বিজয় র‌্যালি:

ছিটমহল বিনিময়ের সমর্থনের পাশাপাশি ছিল বিরোধিতা। যাতে সরাসরি ভূমিকা রেখেছিল জামায়াত সমর্থিত ‘ছিট ইউনাইটেড কাউন্সিল’ নামের একটি স্থানীয় সংগঠন। এই কমিটির সব ছিটমহলে কার্যক্রম না থাকলেও পাটগ্রাম উপজেলার ২/৩টি ছিটমহলে সীমিত কার্যক্রম চালিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল তিনবিঘা করিডোরের মতই প্যাসেস ডোর স্থাপন করে মূল ভূ-খণ্ডের সঙ্গে ছিটমহলগুলোকে একীভূত করা। তবে ছিটমহল বিনিময় সংক্রান্ত যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের পর নিজেদের দাবি থেকে সরে এসেছে ছিট ইউনাইটেড কাউন্সিলও। তারাও ১লা আগস্ট পাটগ্রামে বিজয় র‌্যালি করবেন। এ বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি গোলাম মতিন রুমী বলেন,‘যেহেতু ছিটমহল বিনিময় হয়েই গেছে। এখন শুধু অপেক্ষা। তাই প্যাসেস করিডোরের জন্য আন্দোলন করে কোনও লাভ নেই তা তো বোঝাই যাচ্ছে। তাই আন্দোলন বাদ দিয়ে বিজয় মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।’

/এআই/টিএন/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ