‘চেতনা সৃষ্টি হবে, এই লোভেই বেঁচে আছি’

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০০:১৭, ডিসেম্বর ০১, ২০১৫ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৩১, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৫

সিদ্দিক মোল্লাসিদ্দিক মোল্লা। মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৭ বছরের টগবগে যুবক। দেশ স্বাধীনের নেশায় যুদ্ধে অংশ নেন ফরিদপুর অঞ্চলে। ১৯৯১ সালের পর ঢাকায় এসে ২৫ বছর থেকে আবার ফিরে গেছেন ফরিদপুরে, নিজ গ্রামে। ২৫ বছরের ঢাকা-জীবনে বেঁচে থাকার তাগিদে কখনও চালিয়েছেন রিকশা, করেছেন মিস্ত্রির কাজ। না খেয়েও কাটিয়েছেন অনেক রাত। তবে আক্ষেপ একটাই। যুদ্ধজয়ের পর যে জীবন চেয়েছিলেন তা পাওয়া হয়নি আজও।

রক্তে তার যুদ্ধ মিশে আছে। তাই সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখেন এখনও। গ্রামে ফিরে গিয়ে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের স্বপ্ন দেখছেন। সিদ্দিক মোল্লার ভাষায়, ‘আমার বিপ্লবতো শেষ হয় নাই। সবার মনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগিয়ে রাখতে হবে, তবেই না সমাজ বদলাবে।’

তখনও জানি না যুদ্ধ কিভাবে করা যায়, কোথায় অস্ত্র পাব, কোথায় যেতে হবে।

সমাজ বদলের চিন্তায় ১৯৯৬ সালে সম্পৃক্ত হন উদীচি শিল্পীগোষ্ঠীর সাথে। কখনও স্কুলের রাস্তায় না যাওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন নিজেকে ‘অশিক্ষিত’ বলতে ভালবাসা এই মুক্তিযোদ্ধা এখন নিজে গান লেখেন, সুর করেন- গণসঙ্গীত কিভাবে মানুষকে পাল্টে ফেলতে পারে সেই বিশ্বাস বুকে লালন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধের গল্প, জীবনের গল্প তিনি বলেছেন বাংলা ট্রিবিউনকে।

যুদ্ধের গল্প শুনতে চাইলে বেশ শুদ্ধভাষায় বলে চলেন সিদ্দিক, ‘১৯৭০ সালে আমি খুলনায় চাকরি করতাম জুট মিলে। নির্বাচন হওয়ার পর থেকে আমাদের সবার মনে প্রশ্ন- কী হতে চলেছে। সামনে পাকিস্তানিরা কী সিদ্ধান্ত নেবে আর আমাদের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কী ভাবছেন। নিজেরা সেসব নিয়ে আলাপ করি। দেশ স্বাধীন করার আকাঙ্ক্ষাতো তখন শ্রমিকদের মধ্যে প্রবল।’

একদমে বলে চলেন, ‘এদেশের গরিব মানুষ ছাড়া, অর্থশালী ও আলেম ধরনের যারা ছিল বেশিরভাগই মুসলীম লীগের নেতা ছিল। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ লুকিয়ে। কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষ ভাবতো আমার এমন একটা দেশ দরকার যেটা শান্তির আধার হবে। খালিসপুরে যে বিহারি কলোনি ছিল, বিশ্বাস করবেন না তাদের সাথে আমাদের বিরোধ কোন পর্যায়ে গিয়েছিল। তারা অনেক অপরাধ করেছে বাঙালির সাথে। আমাদের সব সুযোগ পাওয়ার অধিকার থাকলেও কেবল পাঞ্জাবি আর বিহারিরাই বিভিন্ন চাকরিতে ঢোকার সুযোগ পেত। আমরা অতিষ্ট হয়ে গেছিলাম। বলে কী! আমার দেশ, আমার ভিটা কিন্তু আমরা চান্স পাব না। সেসময় যেকোনও জায়গায় ৯৯ জন পাকিস্তানি আর বিহারির বিপরীতে একজন মাত্র বাঙালি সুযোগ পেত। এটা ছিল বাস্তবতা। শ্রমিক ছিল যারা তাদের এক ধরনের চেতনা সবসময়ই আছে। তার পাশাপাশি তারা বঙ্গবন্ধুর চেতনা ধারণ করেছিল।

রাস্তায়, দোকানে, বাজারে যেখানেই নান্না রাজাকারকে দেখা যেত কেউ না কেউ জিজ্ঞেস করতো- ‘আপনি নাকি রাজাকার ছিলেন’

তো, সেসময় আমরা ভাবছি নির্বাচনতো হলো, কিন্তু কী হতে চলেছে। এরই মধ্যে হঠাৎ যুদ্ধ ঘোষণা হয়ে গেল। আমরা কিন্তু ২৫ মার্চের পরই প্রতিরোধ গড়ে তুলি। তখনও জানি না যুদ্ধ কিভাবে করা যায়, কোথায় অস্ত্র পাব, কোথায় যেতে হবে। ২৬ মার্চ সকাল থেকেই আমরা মিছিল করে রাস্তা বন্ধ করা শুরু করি। তারপর সে কী নির্যাতন! অবশেষে বিহারি ও পাকিস্তানি সেনারা মিলে আমাদের খুলনা ছাড়া করলো। ততদিনে খোঁজ পেতে শুরু করেছি। ভারতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আমি আরও কয়েকজনের সাথে বাগদা বাজার হয়ে ভারতে প্রবেশ করি। প্রথমে যাই রানাঘাট।সেখানে প্রশিক্ষণে আমাকে নেয় নাই। সেখান থেকে গেলাম কল্যানি। কল্যানিতে থেকে তালিকাভুক্ত হয়ে গেলাম চাপড়া আর সেখানে আরও বড় প্রশিক্ষণের জন্য চকরিয়া। ২১ দিন আমাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেওয়া শেষ হলে আবার এই পথেই ফিরি আমরা।

ফেরার পর প্রথম যুদ্ধ হলো যশোর আড়পাড়ায়। টানা ৬ ঘণ্টা ফাইট। সেই ফাইটে আমার সহযোদ্ধা সাবু মারা যায়।আমরা তার লাশ নিয়ে ফিরতে পারিনি। যুদ্ধ করছি দেশ স্বাধীন করতে হবে এই চিন্তা থেকে। সবার ভেতর অলৌকিক একটা শক্তি না থাকলে সেসময় কী নিয়ে কিভাবে যুদ্ধ করেছি বলে বোঝানো যাবে না।’

এরপর তিনি গোপালগঞ্জের দিকে যান বলে জানান। সিদ্দিক বলেন, ‘ভাটিয়াপাড়ায় একটা শক্তিশালী বাঙ্কার ছিল। রকেট লাঞ্চার মারলেও কিছু করার অবস্থা নাই। আমরা সব মুক্তিযোদ্ধা সেটা ঘিরে রেখেছিলাম।এর মাঝে ছোট ছোট সম্মুখ সমরে অংশ নিতে হয়েছে এলাকায়। কিন্তু পর্যবেক্ষণে রাখা আর রাস্তাঘাট অকেজো করে দেওয়ার কাজগুলো বেশি করা হতো। দুর্ভাগ্যের বিষয়, দেশে ১৬ তারিখ বিজয় অর্জিত হলেও আমাদের এলাকা ২৩ তারিখ শত্রুমুক্ত হয়। সেই ঘটনাটা আমাদের আজও তাড়া করে।’

স্বাধীনতা ধরে রাখতে পারলাম না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ হাতের বাইরে চলে গেল।

সেটা কী? আমাদের বলবেন?

কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন সিদ্দিক, ‘আমরা ওই বাঙ্কার নজরে রেখেছিলাম। সেখানকার একজন পাকিস্তানি আর্মি পালানোর চেষ্টা করেছিল। তাকে আমরা ধরে এনে বাঙ্কারের মুখে নিয়ে বলি বাঙ্কারের সামনে মাইক লাগিয়ে সবাইকে বেরিয়ে আসতে বলতে হবে। তাকে যতবারই বলি ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে তোমরা আত্মসমর্পণ করো’ এই কথা বলতে সে বলে, ‘পূর্ব পাকিস্তান আজাদ হো গ্যায়া, তুম লোগ সারেন্ডার করো।’ আমাদের প্রতিরোধে মুখে সে আবার মাইকে ঘোষণা দেয়: ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে তোমরা আত্মসমর্পণ করো’।

একে একে প্রায় সাড়ে ৩শ সেনা বের হয়ে আসে। কারওর কিচ্ছু হয়নি। কিন্তু ওদের একজন অস্ত্র নিয়ে বের হওয়ার সময় নিজের বুলেটে নিজে মারা যায়। আমরা জানতাম সরকারি আইনে সারেন্ডার করলে সৈন্যকে মারা যায় না। ততক্ষণে আমরা আনন্দ ফূর্তি করছি। এরমধ্যে মর্মান্তিক দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গেলো চোখের সামনে। বাঙ্কার থেকে একে একে বেরিয়ে এলো প্রায় ৩৫টা মেয়ে। তারা ভীষণ কান্নাকাটি করছিল আর বারবারই আমাদের বলছিল, আমাদের কী হবে, আপনারা আনন্দ করছেন। আমরা কোথায় যাব? আমাদেরতো আর বেঁচে থাকার উপায় রইল না। বিশ্বাস করবেন না, আমাদের সকল উল্লাস মুহূর্তে নাই হয়ে গেলো যখন বুঝলাম তারা সকলে সন্তানসম্ভবা। এত নারীক পুনর্বাসনে সেই প্রত্যন্ত এলাকায় কে কী করবে? পরে তাদের সবাইকে কোথাও না কোথাও চলে যেতে হয়েছিল। সেই কিছু না করতে পারার যন্ত্রণা এখনও রয়ে গেছে।’

 

এলাকার যারা রাজাকার বা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি ছিল তাদের জন্য কী ব্যবস্থা নিয়েছিলেন আপনারা?

তখনতো সবাই খুব ক্ষিপ্ত। আমাদের কাছে খবর ছিল, খান বাহাদুর সাহেবের বাড়ির মজিবর রাজাকার এই মেয়েদের কাশিয়ানি থেকে ধরে নিয়ে গেছে পাকিস্তানি সেনাদের কাছে। তাকে মুক্তিযোদ্ধারা মেরে ফেলেছিল। নান্না রাজাকার ছিল আমার এলাকায়, তাকে স্বাধীনতার পর গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান বিচার বন্ধ করে দিলে সে বেরিয়ে আসে। বেরিয়ে আসলেও সে কখনোই আমাদের এলাকায় স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ পায়নি। আমরা সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলার কারণে কে রাজাকার ছিল সেটা ছোটবড় সবাই জানতো। রাস্তায়, দোকানে, বাজারে যেখানেই নান্না রাজাকারকে দেখা যেত কেউ না কেউ জিজ্ঞেস করতো- ‘আপনি নাকি রাজাকার ছিলেন’। একসময় সে বাড়ি থেকে বের হওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করলেন সেই ভয়ে শোকেই নান্না মরে গেল।

 

তার মানে আপনি যুদ্ধের পুরো সময়টা ফরিদপুরে?

-পুরো সময় আর দেশে কে থাকতে পারসে। এপ্রিলের শুরুতে গিয়ে এতগুলো স্তরে প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরে আসতে আসতেই জুন-জুলাই হয়ে গেছে। এরপর আর কয় মাস। কিন্তু খুলনায় শ্রমিক পরিবেশে থাকার কারণে আমাদের মধ্যে এক ধরনের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রবণতা ছিল। এবং ফিরে এসে সেটাকেই কাজে লাগিয়েছি। ফরিদপুরে এখন যে অংশটা গোপালগঞ্জে পড়েছে তার কিছু এলাকায় আমি যুদ্ধ করেছি।

আমার কথা থেকে কারও মনে চেতনা সৃষ্টি হবে এ্ই লোভেই তো বেঁচে আছি।

তারপর দেশ স্বাধীন হলো, কী দেখলেন?

-স্বপ্ন বাস্তবায়ন শুরু করার চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু শুরু করা যায়নি। দেশ শত্রুমুক্ত হয়নি আসলে। পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করলো কিন্তু দেশীয় রাজাকার আলাবদররা তো ঘাপটি মেরে থেকে গেল। স্বাধীনতার পর দেশ গড়ার জন্য যেটুকু থিতু হওয়ার দরকার ছিল তা হতে পারা যায়নি। বঙ্গবন্ধু জানুয়ারিতে ফিরে এসে আদেশ করলেন নিজ নিজ থানা কমান্ডারের কাছে হাতিয়ার জমা দাও। দিয়েছি। কিন্তু তারপর আমার করণীয় কী সেটা বলে দেওয়া হয়নি। আমি মানে কেবল আমি সিদ্দিক না, মফস্বলের সব মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বলছি। এরপর বঙ্গবন্ধু বললেন, আমিতো দুই লক্ষ মুক্তিকে চাকরি দিলাম। সবইতো দিলাম। তাইলে বাকি রয়ে গেল কেন? সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বঙ্গবন্ধু যে চিন্তাধারায় চলতে চেয়েছিলেন গাদ্দারদের জন্য সেটা করতে পারেন নাই। আবার এটাও ঠিক তিনি দেশ নিয়ে, দেশের মানুষ নিয়ে অনেক আবেগী ছিলেন। যেটাও বারবার তাকে ক্ষতি করার চেষ্টা করছিল। ভাগ্যের পরিবর্তন তিনি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শ্রমিক-কৃষককে বাদ দিয়ে সেটা সম্ভব না। সেসময় উনি সারা দুনিয়ায় ঘুরেছেন, চেষ্টা করেছেন, সাহায্যের জন্য। কিন্তু কারওর কাছে মাথা বিক্রি না করে। স্বাধীনতা ধরে রাখতে পারলাম না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ হাতের বাইরে চলে গেল।

 

যুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে পেশাজীবন কিভাবে শুরু করলেন?

দিন পাল্টে যেতে থাকলো। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আরও পাল্টে গেল সব। আমি ৯০ সাল পর্যন্ত খুলনায় থেকে ঢাকায় যাই। বিশ্বাস করেন, সরকারি কোনও সুবিধা নেইনি। কারণ আমি তোয়াজ করতে পারি না। নিজের গায়েগতরে খেটে কষ্ট করে জীবন কাটিয়েছি। ৯১’তে ঢাকায় গিয়ে ৯৬-এ উদীচিতে ঢকলাম। ঢাকায় খুব কষ্ট করতে হয়েছে। রিকসা চালিয়েছি। মূলত পুরান ঢাকায় নিমতলী নতুন রাস্তায় রিকসা চালাতাম। তার আগে মিস্ত্রির কাজ করেছি শহিদুল্লাহ হলের পেছনে। তাতেও টিকতে পারিনি। এ করে ২৫ বছর কাটিয়ে দিলাম। কিন্তু শরীরে আর সহ্য হয় না।এরপর ফিরে আসি গ্রামে।

 

এখন কী করছেন?

ফিরতে চাইলেও ঘরে ফেরা হয় না। এলাকায় নতুন করে স্বপ্ন দেখছি। এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন কোনও উদ্যোগ নিতে পায় ভয়। আমি একটা সংগঠন করেছি আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক জোট নামে। আমি নতুন প্রজন্মকে যা দিতে চাই সেই গণসঙ্গীত, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কিছু গান এসব নিয়ে এগিয়ে যেতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর সংগঠনের কাজ শুরু করতে চাই।

 

যা করতে চেয়েছিলেন পারেননি, এমনটা মনে হয়?

মনে হয়েছে। প্রতিনিয়ত মনে হয়েছে। আবার আশায় বুক বেঁধেছি। তাইতো আমি গান গাই। মনের কথা বলি। আমার জন্য বিপ্লবটা এখনও বন্ধ হয়নি। আমার গানের কথা সেটাই বলে।’

এটুকু বলেই গান ধরেন সিদ্দিক- 

 

‘ধনীর সাথে গরীব লোকের পিরিত সাজে না

ওরা মুখে বলে মিষ্টি কথা কাজের বেলা থাকে না;

নির্বাচন আসিলে পরে বন্ধুর অভাব নাই

নির্বাচন ফুরায়ে গেল খুঁজিয়া না পাই

গরীব থাকে কি না খাইয়া মরে

বন্যা কি সিডরে মরে তাদের খবর রাখে না;

ধনীর সাথে গরীব লোকের পিরিত সাজে না।

 

আমাদের দেশে ৭৭টা জুটমিল ব্যক্তিমালিকানায় ছিল। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রীয়করণ করেছিলেন। আর জিয়া ক্ষমতায় যাওয়ার পরে ৩৫টা জুটমিল ব্যক্তি মালিকানায় দিয়ে দিল। এখন কী হলো? সব উইপোকায় খাইলো। শেষে আদমজী বন্ধ হওয়ার পরে আমার এই গানটা:

 

‘বড় বড় কল কারখানা বন্ধ করে দিয়ে
শ্রমিকদের রাখে ওরা বেকার বানাইয়া

এখন শ্রমিক থাকে না খাইয়া তাদের খবর রাখে না;

ধনীর সাথে গরীব লোকের পিরিত সাজে না।

পাগল সিদ্দিক ভেবে বলে কৃষক শ্রমিক ভাই
এ সমাজটা পাল্টানো ছাড়া কোনও উপায় নাই

সমাজটা পাল্টাতে হলে বসে থাকলে চলবে না

ধনীর সাথে গরীব লোকের পিরিত সাজে না।’

আমাকে এলাকায় অনেকে বলেন, তুমি গান টান গাও, তোমারে তো মেরে ফেলবে। আমি বলি, ৭১-এ মরে গেছি। কারণ ফিরে আসব, বেঁচে থাকবো ভাবিনি। এখন যে জীবন কাটাচ্ছি সেটা বোনাস।

সমাজ তাহলে কিভাবে বদলানো সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?

সমাজ বদলাতে হবে মুখে বললেইতো হবে না। এ জন্যই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করছি নিজের ভেতর সে কথা বলে বেড়াই। বর্তমান প্রজন্মের ভেতর সেটা দিয়ে যেতে হবে। আমার কথা থেকে কারোর মনে চেতনা সৃষ্টি হবে এ্ই লোভেইতো বেঁচে আছি। আমি গরীব মানুষ, তার ওপর লেখাপড়া জানি না। আমার মতো করেও যদি শিক্ষিতরা ভাবতে চাইতো দেশ বহু আগে বদলে যেত।

আমাকে এলাকায় অনেকে বলেন, তুমি গান টান গাও, তোমারেতো মেরে ফেলবে। আমি বলি, ৭১-এ মরে গেছি। কারণ ফিরে আসব, বেঁচে থাকবো ভাবিনি। এখন যে জীবন কাটাচ্ছি সেটা বোনাস। আমাদের জন্ম হয়েছে সত্য বলার জন্য। কিছু পাব বলেতো মুক্তিযুদ্ধে যাইনি। অসাম্প্রদায়িক দেশ হবে, সুন্দর হাসিমুখর দেশ হবে, সকলে মিলে ভাল থাকবো এটাই চেয়েছিলাম আমরা।

 

ছবি: কংকন নাগ

 

/এফএ/

লাইভ

টপ