behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ভিক্ষা করে জীবন চলে মুক্তিযোদ্ধা সাহেব আলীর

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া১৯:৪৫, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৫

সাহেব আলী সর্দ্দারনাম তার সাহেব আলী সর্দ্দার। ১৯৭১ সালের আগে সাহেব আলী ছিলেন আনসার বাহিনীর সদস্য। সে সময় দেশের টানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। লড়াই করে অর্জন করেন লাল-সবুজের বাংলাদেশ। কিন্তু দেশ স্বাধীন করে কী পেলেন—এই প্রশ্ন বারবার উঁকি দেয় তার মনে। রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত হয়ে এবং অসুস্থ্ ও বৃদ্ধ শরীর নিয়ে কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ভিক্ষা করে এখন জীবন চালাচ্ছেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধা সাহেব আলীর জন্ম গোপালগঞ্জ জেলার মুকসেদপুরে। সহায় সম্বল কিছু না থাকায় ১৯৮৮ সালের দিকে সেখান থেকে চলে আসেন কুষ্টিয়ার মিরপুরে। পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড খন্দকবাড়ীয়ায় রেলের ধারে এক চিলতে জায়গায় চার মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। কৃষিকাজের পাশাপাশি রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন খুব কষ্ট করে। এভাবেই  চলতে থাকে তার কষ্টের জীবন।

এর মধ্যেই সাহেব আলীর শরীরে বাসা বাঁধে কঠিন অসুখ। লিভারের সমস্যা নিয়ে তাকে দীর্ঘদিন থাকতে হয়েছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অসুস্থতার কারণে এখন আর কাজকর্ম করতে পারেন না। বাধ্য হয়েই নেমে পড়েন ভিক্ষাবৃত্তিতে। লজ্জা আর অপমানে মুখ লুকাতে নিজ এলাকা ছেড়ে দূরে গিয়ে ভিক্ষা করেন তিনি।

সংসারে এক মেয়ে বাদে সবারই বিয়ে দিয়েছেন সাহেব আলী। ছোট মেয়ে উচ্চ-মাধ্যমিক পাশ করেছেন। এই মেয়ের একটা চাকরি হলে সেই সংসারের হাল সেই ধরতে পারতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহেব আলী সর্দ্দার বলেন, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। ৮ নং সেক্টরের অধীনে তিনি যুদ্ধ করেন। শিকারপুরে যুদ্ধের সময় তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে জীবনের ঝুঁকি নিতে কার্পন্য করেননি । কিন্তু স্বাধীন দেশে কী পেয়েছেন সবার কাছে এই প্রশ্নই করে বেড়ান সাহেব আলী।

/এফএস/টিএন/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ