Vision  ad on bangla Tribune

‘হামেরা ভোট না দিলে দ্যাশ চলিবে কী করি?’

নীলফামারী প্রতিনিধি১৭:৫১, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৫

বয়স একশ ছুঁইছুঁই। এ বয়সেও শীতের সকালে ভোট কেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের দুন্দিবাড়ি গ্রামের বৃদ্ধ আফান উদ্দীন (৯৮)। বুধবার উপজেলার ওয়ার্যের দুন্দিবাড়ি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন তিনি। ভোট দেওয়ার পর কথা হয় ওই বৃদ্ধার সঙ্গে। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে আনন্দিত তিনি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোট দেওয়ার অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন,‘হামেরা ভোট দেই। এমপি হয়, মেম্বর-চেয়ারম্যান-মেয়র হয় ওমারা দ্যাশ চালায়। হামেরা ভোট না দিলে দ্যাশ চলিবে কি করি ?’

ব্রিটিশ শাসন থেকে দেশ ভাগ ও মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন বলে জানান এই বৃদ্ধা।

জলঢাকায় ভোটারদের সারি

ওই কেন্দ্রের ভোটার রহিমা বেগম (৬০) বলেন,‘হামেরা গরিব মাইনষি। ভোটত মেয়র, কাউন্সিল হয়া ওমারা হামাক পরিচলনা করিবে। ভোটোত ভালো মাইনষি জিতিবার পারে। এই জন্য কষ্ট করি হইলেও হামেরা ভোট দিবার আসি।’

ওই ভোটকেন্দ্রে সকাল ১০টায় দেখা গেছে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। পুরুষদের চেয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। সেখানে কোনও প্রার্থীর পক্ষে বিশেষ কোনও প্রভাব নেই বলে জানান তারা।

ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার  তরিকুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা দুই হাজার ৭০৪। সেখানে সকাল আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত চারশ ভোট পড়েছে।

দুপুর ১২টায় চেরেংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র দেখা গেছে সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে আছেন নারী ও পুরুষ ভোটার। এ সময়  ওই কেন্দ্রের ভোটার আব্দুর রহিম (৫০) বলেন,নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল সকালে বেশি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের উপস্থিতি কমতে শুরু করে এবং বাড়তে শুরু করে পুরুষ ভোটার।

ভোটের পরিবেশের ব্যাপারে তিনি বলেন,‘নির্দ্বিধায় আমি আমার ভোট দিতে পেরেছি।’

ভোটারের মধ্যে যেমন কোনও অভিযোগ নেই তেমনি নেই প্রার্থীদের মধ্যেও। বুধবার দুপুরে বিএনপির প্রার্থী ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী নির্বাচনি পরিবেশের ব্যাপারে বলেন,এখন পর্যন্ত কোথাও কোনও ধরণের ঝামেলা নেই।

অপরদিকে সকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান পৌর মেয়র ইলিয়াছ হোসেন বলেন,মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোট দিতে পারছে।

বেলা সাড়ে ১২টায় কাজির হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,দুপুর একটায় বগুলাগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,দুপুর দেড়টার দিকে পশ্চিম বগুলাগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি।  

দলীয় নির্বাচনে জলঢাকা পৌরসভার ছয় প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ,বিএনপি,জাতীয় পার্টি,ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ছাড়াও রয়েছন জামায়াতের সমর্থন নিয়ে স্বতন্ত্র ও অপর এক স্বতন্ত্র প্রার্থী। সেখানে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪২ জন, নারী সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৪ জন রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৮ দশমিক ২২ বর্গ কিলোমিটারের ওই পৌরসভার ভোটার সংখ্যা ২৯ হাজার ৫৭৬ জন। এর মধ্যে নারী ১৫ হাজার ৪৯ ও পুরুষ ১৪ হাজার ৫২৭। নয়টি ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্র সংখ্যা ১০ টি।

/এএ/

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ