জিতেও পার পাচ্ছেন না আ. লীগের বিদ্রোহীরা

পাভেল হায়দার চৌধুরী১৯:০৭, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৫

পৌর নির্বাচন-আ.লীগদলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই করে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীরা জিতে এলেও মন গলেনি আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকদের। শাস্তি পেতেই হবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের। বিজয়ী হয়ে আসার পর ফুলের মালা দিয়ে বরণ করার অতীত নজির এবার দেখা যাবে না। ক্ষমতাসীন দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা এমন তথ্যই জানিয়েছেন। তাদের মতে, এবার শাস্তি না দিলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী দমনে আরও হিমশিম খেতে হবে। এ কারণেই আগের সিদ্ধান্তেই অনড় আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, দলের বিদ্রোহীরা জিতেছেন বলে তাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করার ঘটনা এবার ঘটবে না। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে শাস্তি তাদের পেতেই হবে। তারা বলেন, অতীতে বিজয়ী হলে ফুলের মালা দেওয়ার সংস্কৃতি থাকলেও বিদ্রোহী পৌর মেয়ররা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে শাস্তি হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ১৭ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া আরও তিনজন নির্বাচিত হয়েছেন বলে একটি সূত্র জানায়।  

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অনড় অবস্থান নেওয়ার অন্যতম কারণ, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। পৌর নির্বাচনের মতোই দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। তাই বিদ্রোহীদের ব্যাপারে এখন পিছু হটলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এর ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। তাই, আগে ভাগেই ইউনয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহীর আধিক্য দূর করতে পৌরসভা নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায় ক্ষমতাসীনরা। তাদের মতে,

সূত্রগুলো বলছে, বিদ্রোহী প্রার্থীরা জিতেছেন বলে এখন তাদের ক্ষমার চোখে দেখলে ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন কাজ হবে।  

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ‘ডিসিশন’ চূড়ান্ত। ‘ডিসিশন ইজ ডিসিশন’। শাস্তি তাদের পেতেই হবে।

যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, বিদ্রোহীদের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ আগের অবস্থানেই আছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে পৌর নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী হয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিলেন, তাদের প্রতি নমনীয় ভাব দেখানো হবে না। তিনি বলেন, দলের আগামী নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের সভায় বিদ্রোহী প্রার্থীর ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, এর আগে বিভিন্ন নির্বাচনে বিদ্রোহ প্রকাশ করে ভোট করলেও বিজয়ী হয়ে আসার পরে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে এমন দৃষ্টান্ত আছে। কিন্তু এবার আর তা হবে না। দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল পদে থেকে যারাই নির্বাচন করেছেন তাদের শাস্তি পেতেই হবে। বিজয়ী হয়েছেন, এ বিবেচনায় ক্ষমা করে দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আমার জানামতে, বিদ্রোহীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্তে অনড় আওয়ামী লীগ।

সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেহেতু স্থানীয় নির্বাচন দলীয়ভাবে হওয়ার বাধ্যবাধকতা হয়েছে সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ক্ষমা করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, তাহলে ভবিষ্যতে নির্বাচনগুলোয় বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। শাস্তির নজির স্থাপন করে ভবিষ্যত বিশৃঙ্খলা দূর করতেই বিদ্রোহীদের ব্যাপারে অনমনীয় অবস্থান রয়েছে। আগামীতে স্থানীয় অন্য নির্বাচনও হবে। বিদ্রোহীদের এবার ক্ষমা করা হলে সামনে এর মাত্রা আরও বাড়বে।

  /এমএনএইচ/

লাইভ

টপ