behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

আরও একটু ভালো নির্বাচন চেয়েছিল ইসি!

এমরান হোসাইন শেখ২২:৪২, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৫


নির্বাচন কমিশনপৌরসভা নির্বাচন নিয়ে পুরোপুরি খুশি হতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আরও একটু ‘ভালো’ নির্বাচন চেয়েছিল ইসি। এ জন্য  শুরু থেকে নির্বাচনের শেষ সময় পর্যন্ত প্রতিটি অনিয়ম ও অভিযোগের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে ইসির চাওয়া-পাওয়ার পুরো হিসাব মেলেনি। পূরণ হয়নি তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা। একাধিক কমিশনারসহ ইসি সচিবালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
অবশ্য সর্বশেষ পর্যালোচনা অনুযায়ী কমিশন মনে করছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে এ অবস্থার উত্তরণ অনেকটা অসম্ভব।
পৌরসভা নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদসহ অন্য কমিশনারদের  মনোভাব তুলে ধরে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিশন দেশবাসীকে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে এবার শুরু থেকেই খুবই আন্তরিক ছিল। যে কারণে তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠ‍ানের শেষ সময় পর্যন্ত যত ধরনের অনিয়ম, আচরণবিধি লঙ্ঘন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলাসহ যেসব অভিযোগ পেয়েছে, এর প্রতিটির ক্ষেত্রেই ব্যবস্থা নিয়েছে। কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গণমাধ্যমের খবরের সূত্র ধরে ও বেনামি অভিযোগ পেয়েও কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। এসবের পেছনে ইসির অভিপ্রায় ছিল, ২০১৪ সাল-পরবর্তী উপজেলা পরিষদ ও তিনি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে যে ‘বদনামের’ অংশীদার হতে হয়েছিল, তা ঘুচিয়ে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা। তবে, কমিশনের কর্মকর্তা মনে করেন উপজেলা বা সিটি করপোরেশনের মতো ‘খারাপ’ নির্বাচন না হলেও পৌরসভা নির্বাচনে তারা যতটা প্রত্যাশা করেছিল, সেখানটায় পৌঁছতে পারেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কমিশনার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অনিচ্ছার পরও তারা আগের দুটি নির্বাচনে কিছুটা দুর্নামের ভাগ তাদের নিতে হয়েছে। এবার যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য আমরা শুরু থেকেই সতর্ক ছিলাম। সেই অনুযায়ী চেষ্টাও করেছি। এতে কিছুটা সফলতা এলেও কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

নির্বাচন কতটা ভালো হয়েছে জানতে চাইলে এই কমিশনার দেশের স্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় সমর্থনের কথা তুলে ধরে বলেন, যদি কোনও নির্বাচনে গোপালগঞ্জ জেলায় ধানের শীষ জয়ী হয়, সেই নির্বাচনকে যেমন ভালো বলা খুব কঠিন, তেমনি যদি ফেনী বা লক্ষ্মীপুরে বিপুল ভোটে নৌকা জেতে, সেটাতেও তেমনি ভালো বলাটা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

পৌরসভা নির্বাচনে কমিশনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে কি না, জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার ইসি সচিব মো.  সিরাজুল ইসলাম সরাসরি জবাব দেননি। তিনি বলেন, নির্বাচনে ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তারা উৎসমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন।

নির্বাচনে অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, আপনারা যে ধরনের ‍সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছেন, তার জন্য আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ের সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যখন গণমানুষের ওপর নির্ভরশীল হবে, তখনই আমরা সেই ধরনের নির্বাচন দেখতে পাব। 

বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পৌর নির্বাচন নিয়ে কমিশন কতটা সন্তুষ্ট জানতে চাইলে সেই প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান।

নির্বাচন কমিশনার মো, শাহনেওয়াজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নির্বাচনের অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা চেষ্টা করেছি। নির্বাচনের দিনও দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো কমিশনে এসে আমাদের ভূমিকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ফল জানার পর  কেউ যদি ভিন্ন মন্তব্য করেন,  সেটা তাদের মানসিকতার ব্যাপার।

নির্বাচন কেমন ভালো হয়েছে জানতে চাইলে এই কমিশনার বলেন, ভালো একটি আপেক্ষিক বিষয়। ভালোর কোনও শেষ নেই। আমরা যেটা করেছি ভালো করেছি। এর চেয়ে ভালো হলে আমরা আরও খুশি হতাম।

এদিকে, সাবেক নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন সার্বিকভাবে বাংলাদেশের পৌর নির্বাচন তেমন সুষ্ঠু হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন। বিবিসিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনটি তেমন সুষ্ঠু হয়নি যেমনটি হওয়ার কথা ছিল।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে সাখাওয়াত বলেন, কমিশন চেষ্টা করেছে, তাদের পূর্ববর্তী অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে। কিন্তু সেটা পুরোপুরি পারেনি, কিছু কিছু জায়গায় তাদের আরও কঠোর হওয়া দরকার ছিল কিন্তু তারা সেটা পারেনি।

বুধবার দেশের ২৩৪টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কমিশন বৃহস্পতিবার দুপুরে এর মধ্যে ২১৪টি পৌরসভার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। এতে দেখা যায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ১৬৮টি, বিএনপি ১৯টি, জাতীয় পার্টি ১টি  স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ২৬টি পৌরসভায় বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছে। এক বা একাধিক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকার কারণে ১৯টি পৌরসভার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া, একটি পৌরসভার ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। নির্বাচনে ৭৩ দশমিক ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে। ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল।

ইসির প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০৮ পৌরসভায় ৬০ লাখ ৬৩ হাজার ৭২৯জন ভোটারের মধ্যে ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ৭৬০ জন ভোটার পৌর নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ৭৮ হাজার ৯২৫টি ভোট বাতিল হয়েছে। এ নির্বাচনে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৪৪ লাখ ২ হাজার ৮৩৫টি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, সাতজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আর কেন্দ্র স্থগিত হওয়ার কারণে ১৯ পৌরসভার হিসাব করা হয়নি। এক্ষেত্রে মোট ২০৮টি পৌরসভার প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে, স্থগিত কেন্দ্রের ভোট বাদ দিয়ে হিসাব করে সংশ্লিষ্ট ১৮ রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ফলাফল পাঠাতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার সকালে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ওই ১৮ জন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠান ইসির সহকারী সচিব রাজীব আহসান। এক্ষেত্রে স্থগিত কেন্দ্রের ভোট বাদ দিয়ে কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করা গেলে বিজয়ী ঘোষণা করার ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে ওই নির্দেশনায়।

/এমএনএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ