behind the news
IPDC  ad on bangla Tribune
Vision  ad on bangla Tribune

পৌর নির্বাচনে সহিংসতা ঠেকাতে পেরে ফুরফুরে আ. লীগ

পাভেল হায়দার চৌধুরী২২:৫৬, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৫

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগপৌর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভের চেয়েও সহিংসতা এড়াতে পেরে বেশি স্বস্তিবোধ করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নিবার্চনকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও তা একেবারেই আমলে নিচ্ছে না দলটি। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা ও দুজন মন্ত্রী তাদের স্বস্তির কথা জানান। নিরঙ্কুশ বিজয়ের ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চিত হলেও সহিংসতা নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) পৌর নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল কয়েক জন নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য জানা গেছে।
ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মন্তব্য, বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই ‘বেড সিগন্যাল’ দিয়ে আসছিল। নির্বাচনকে বিতর্কিত করারও প্রাণপণ চেষ্টা করেছিল। কিন্তু দল ও সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও কৌশল বিএনপির সকল অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। দলটির নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সহিংসতাহীন নির্বাচন অনুষ্ঠানে স্বস্তিবোধ করেছেন। তারা জানান, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেও জয়ের চেয়ে সহিংসতা এড়াতে পেরে বেশি স্বস্তি বোধ করেছেন। শেখ হাসিনার মনে করেছেন জয়-পরাজয় নির্ধারণ করার মালিক জনগণ। সরকারের দায়িত্ব নির্বাচনি সহিংসতা দূর করা। সরকার সেখানে শতভাগ সফলতার পরিচয় দিয়েছে। এটাই স্বস্তি।

জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, সহিংসতা আওয়ামী লীগ করে না। আওয়ামী লীগ চায়ও না। আওয়ামী লীগ সবসময় সহিংসতার শিকার হয়। তবে আক্রান্ত হলে জবাবও দেয়। এটাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি। কৃষিমন্ত্রী বলেন,  সহিংসতাহীন নির্বাচন ও নিরঙ্কুশ বিজয় দুটোই আওয়ামী লীগের জন্যে স্বস্তির।

কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, সহিংসতার জোরালো কোনও অভিযোগ উত্থাপন করতে পারেনি প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিও। অথচ নির্বাচনকে ঘিরে আতঙ্ক-আশঙ্কা ছড়ানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সবাই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়ে ঘরে ফিরেছেন। ওইসব নেতার মতে, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে সব ধরনের আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হবে। তিনি এও বলেছিলেন, পৌরসভা নির্বাচন হবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো।

কেন্দ্রীয় নেতারা আরও জানান, আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল। গত ৭ বছরের সরকারের উন্নয়নের যে ধারা অব্যাহত ছিল, তার একটি স্থায়ী ছাপ এ নির্বাচনে পাওয়া যাবে। এমন প্রত্যাশা তাদের ভেতরে জোরালো ছিল। পাশাপাশি এর বিপরীতে বিএনপির ধ্বংসযজ্ঞ, দানবীয় হিংস্রতা—এ সব মানুষ নিশ্চয়ই প্রত্যাখ্যান করবে। সর্বশেষ বিএনপি নির্বাচনের আগে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের এগিয়ে থাকা আরও নিশ্চিত করেছে। 

নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো আরও জানায়, পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দল ও সরকারের সার্বক্ষণিক চিন্তা ছিল নির্বাচনি পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা। নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা যেন না হয়, তা নিশ্চিত করা। সর্বশেষ তা নিশ্চিত হয়েছে। এই নির্বাচনে এটাই আওয়ামী লীগের জন্য সরকারের জন্যে বড় অর্জন। 

বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনি মাঠে থাকার বিষয়টিও আওয়ামী লীগ নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, বিএনপি মাঠে যত কথাই বলুক, শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আস্থাশীল হয়েছে। সারাদেশে এ বার্তা পৌঁছেছে। এছাড়া, আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারকে মেনে নেওয়া আরও পরিষ্কার হয়েছে। ক্ষমতাসীনরা মনে করে, এ সরকারের অধীনে পৌর নির্বাচনে বিএনপির যাওয়া একটি দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনের জন্যে এটি ইঙ্গিত হিসেবে নিয়েছে।  

জানতে চাইলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, বিজয়ের চেয়ে সহিংসতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল সরকার ও আওয়ামী লীগ। শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সেই দুশ্চিন্তা একেবারেই দুর হয়ে গেছে। নিরঙ্কুশ বিজয় তো এসেছেই। জাফরউল্যাহ বলেন, পৌর নির্বাচন প্রমাণ করে, ভবিষ্যতে বিএনপি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাচনেও অংশ গ্রহণ করবে।

যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, আমাদের কাছে অগ্রাধিকার ছিল সহিংসতা এড়ানো, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা। আমরা তা করতে সক্ষম হয়েছি। বিজয়ের চেয়ে এটাও কম স্বস্তি নয়। তিনি বলেন, যেহেতু এ নির্বাচন সরকার বদলের নির্বাচন নয়, সেহেতু জয়-পরাজয় নিয়ে তেমন ভাবিনি আমরা।  

/এমএনএইচ/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ