behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

১০ বছরেও সমাবর্তন হয়নি জবির,আন্দোলনের চিন্তা-ভাবনা

রশিদ আল রুহানী০৬:১০, জানুয়ারি ২৩, ২০১৬

সমাবর্তনের দাবিতে ফেসবুক পেজে প্রচারণাপ্রতিষ্ঠার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও সমাবর্তন থেকে বঞ্চিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রায় ৪০ হাজার স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী। সমাবর্তন আয়োজনের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে স্থান সঙ্কুলানকে দায়ী করে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। কিন্তু তার এই বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মনে আরও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।শিক্ষার্থীদের কাছে জায়গা সংকট নিছক একটি অজুহাত ছাড়া কিছুই নয়।তাই সমার্বতনের দাবিতে সংশ্লিষ্টরা আন্দোলনে নামার চিন্তা-ভাবনা করছেন।
২০১২ সালের ১৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে বলা হয়,কলেজ আমলের দুটি ব্যাচসহ ২২ হাজার ৬৬৫ শিক্ষার্থী মাস্টার্স শেষ করেছেন।তবে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সে সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
তৎকালীন জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপদানের জন্য আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ২০০৩-০৪ ও ২০০৪-০৫ সেশনের শিক্ষার্থীরা। ২০১৪ সালের এপ্রিলে সমাবর্তন ছাড়াই তাদের সনদ বিতরণের ঘোষণা দেয়া হয়।এর পর থেকেই সমাবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন করে যারা কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দিয়েছিলেন তারাই সমাবর্তন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
গত বছর জানুয়ারিতে বড় ধরনের আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন জবি শিক্ষার্থীরা।ফেসবুকে সমাবর্তনের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন আন্দোলন, আমরা সমাবর্তন চাই-সহ আরও কয়েকটি আলাদা পেইজ খুলে আন্দোলনের জন্য শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানানো হয়।গণস্বাক্ষর কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ জবি সংসদের আহ্বায়ক আবু তাহের।পরবর্তীতে বিএনপির লাগাতার হরতাল-অবরোধের কারণে সে আন্দোলন বেশিদূর এগোয়নি।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম বলেন,‘জায়গা সংকটের কথা বলে জবি কর্তৃপক্ষ আমাদের সমাবর্তন থেকে বঞ্চিত করছেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসসহ পুরান ঢাকায় জবির নিজস্ব জায়গা ধুপখোলায় বিশাল মাঠ পড়ে আছে।কেরানীগঞ্জের ২০ বিঘা জমি ক্রয় করেছে জবি কর্তৃপক্ষ।  সেখানেও জায়গার কোনও অভাব নেই। তবুও কর্তৃপক্ষ বলেন জায়গা নেই।’
তার মতে,‘এসব জায়গায় অস্থায়ীভাবে সমাবর্তনের আয়োজন করলে খুব ভালোভাবেই তা করতে পারেন কর্তৃপক্ষ।’
বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে এমন ঘোষণা আসার পরে জবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন,‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের রেকর্ড ভেঙে সমাবর্তন করতে যাচ্ছে। অথচ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও সমার্বতনের আয়োজন করতে পারছে না। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পরে প্রতিষ্ঠিত হয়েও সমাবর্তন অনুষ্ঠিত করে ফেলেছে। এর চেয়ে লজ্জা আর হতে পারে না।’
এদিকে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন,‘আন্দোলন ছাড়া কোনও অধিকার আদায় করা যায় না। বেদখল হল উদ্ধার আন্দোলনে নেমে ৪টি হল উদ্ধার করেছি আমরা।সমাবর্তনের দাবিতে আমাদেরকে এখন কঠোর আন্দোলনে যাওয়া উচিত।
সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে শুক্রবার বিকেলে ফোন করে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সমস্যার সমাধান হোক, তারপর দেখা যাবে।’
/আরএআর/ এমএসএম/আপ-এআর/

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ