behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

জিকা ভাইরাস: শঙ্কা নেই, প্রতিরোধে প্রস্তুত স্বাস্থ্য অধিদফতর

জাকিয়া আহমেদ০০:৪৯, জানুয়ারি ৩১, ২০১৬

জিকা ভাইরাসজিকা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক কাজ করলেও বাংলাদেশে শঙ্কার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জিকা ভাইরাস নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। সতর্কতা অবলম্বন করলেই এ ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। এদিকে, জিকা ভাইরাস  প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।  সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।জিকা ভাইরাস প্রথম আফ্রিকাতে শনাক্ত হয় বানরের শরীর থেকে। কিন্তু কখনও সেটি মহামারি আকারে ছড়ায়নি। তবে, নতুন করে গত বছরের মাঝামাঝি ব্রাজিলে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। এরইমধ্যে ব্রাজিলসহ আশেপাশের ২৩টি দেশে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। জিকার কোনও প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কার হয়নি।
জানতে চাইলে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইডিসিআর) পরিচালক ড. মাহমুদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এটি নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তবে, সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। জিকা নিয়ে ভয়ের কিছু আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, একেবারেই নাথিং। তবে, সেন্ট্রাল আফ্রিকায় এটি এই সময়ের একটি বড় সমস্যা। যেসব নারী গর্ভবতী হতে চান, তাদের সাবধান থাকতে হবে। যদি বাংলাদেশ থেকে ওখানে কেউ যান এবং গর্ভবতী হন, তাহলেই কেবল আতঙ্কের বিষয় আছে।
ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, পুরুষ কিংবা স্বাভাবিক নারীদের ক্ষেত্রে জিকার কোনও সমস্যা  নেই।  এতে মৃত্যু খুবই কম।এটি এডিস মশা বাহিত এবং লক্ষণগুলো আমাদের দেশের ডেঙ্গুর মতো। তবে, মোটেও ডেঙ্গুর মতো সিরিয়াস নয়। সমস্যা হলো, গর্ভবতী নারীর বাচ্চার ক্ষেত্রে। বাংলাদেশ একেবারেই মুক্ত জিকা থেকে। তবে কোনও নারী যদি আফ্রিকা থেকে গর্ভবতী হয়ে আসেন, তাহলেই কেবল তার ক্ষেত্রে ভয় আছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) সামিউল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জিকা ভাইরাস তো এখনও নেই বাংলাদেশে। এডিস মশা তো আছেই। বিষয়টা এমন যে, ওইসব এলাকায় যারা ভ্রমণ করছেন, তাদেরই এই আশঙ্কা রয়েছে। তবু সর্তকতার একটা বিষয় রয়েছে। আমাদের প্রস্তুতি এবং ব্যবস্থাপনা রয়েছে সম্পূর্ণ, ভয়ের কিছু নেই। জিকা ভাইরাস প্রতিরোধে আমরা স্বাস্থ্য অধিদফতর একটি বৈঠক করব।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জিকা ভাইরাস ডেঙ্গুর মতো একধরনের জ্বর। লক্ষণ হিসেবে শরীরে জ্বর থাকে, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা থাকে। বিশেষ করে হাত এবং পায়ের জয়েন্টে বেশি ব্যথা হয়। গায়ে ফুসকুড়ি থাকে।

প্রিভেনটিভ মিডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, জিকা ভাইরাসের ধরন অনেকটা ডেঙ্গু ও চিকুন গুনিয়া জ্বরের মতো। এতে রক্তক্ষরণ হয় না। সাধারণত জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত দশজনের মধ্যে একজনের লক্ষণ দেখা যায়। আর জিকা ভাইরাসের জন্য চিকিৎসারও খুব দরকার নেই। এর জন্য দরকার পানি পান করা, বিশ্রামে থাকা, তাজা ফলমুল-শাকসবজি বেশি খাওয়া ও ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়াতেই এর চিকিৎসা সম্ভব। কিন্তু সমস্যা হলো, কোনও গর্ভবতী নারী যদি জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হন, তবে তার গর্ভস্থ শিশু বিকলাঙ্গ হতে পারে। মস্তিষ্ক বৃদ্ধিটা যথাযথ হয় না। ফলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু জন্ম নেয়। 

উল্লেখ্য, আমেরিকার ২৩টি দেশে জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার তথ্য দিয়েছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। মাইক্রোসেফালিতে (অস্বাভাবিক আকৃতির মাথা নিয়ে জন্ম নেওয়া) আক্রান্ত শিশুদের জন্মের হার বাড়তে থাকায় নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। কেবল ব্রাজিলেই ৪ হাজার মানুষ মাইক্রোসেফালি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার জেনেভায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. মার্গারেট চ্যান জানান, জিকা ভাইরাস হালকা হুমকি থেকে বিপজ্জনক অবস্থায় চলে গেছে। জিকা প্রতিরোধের জন্য দ্রুত সমাধান খোঁজারও তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

আমেরিকান দেশগুলোয় জিকা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ লাখ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন চ্যান। আগামী সোমবার জিকা ভাইরাসকে হুমকি বিবেচনা করে বিশ্বব্যাপী সতর্কতা জারি করা হবে কি না—এ বিষয়ে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার একটি বৈঠক হওয়ারও কথা রয়েছে। ব্রাজিলে প্রথম শনাক্ত হলেও ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার ২১ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। ব্রাজিলে এখনপর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৯০০ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে ৩০০ জনের সংক্রমণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। ব্রাজিল সরকার আক্রান্তের সংখ্যা নির্ণয়ে জরিপ চালাতে ২ লাখ সেনা ও ৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করেছে।    
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জিকা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রোগের পরীক্ষা, ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। গর্ভাবস্থায় এই ভাইরাসের আক্রমণ মারাত্মক বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথম তিন মাস সময়ে যখন অনেক নারী গর্ভাবস্থা নিয়ে নিশ্চিত  থাকেন না, সে সময়েই আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সর্বাধিক বলে জানিয়েছেন তারা। কেননা, এই ভাইরাস প্ল্যাসেন্টা বেয়ে শিশুর শরীরে পৌঁছে যায় ও শিশুর মস্তিষ্ককে পূর্ণরূপ নিতে বাধা দেয়।

/এমএনএইচ/ আপ-এমএসএম

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ