Vision  ad on bangla Tribune

৭৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জনই পোষ্য!

জাবি প্রতিনিধি০২:১০, ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৬



জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অস্বাভাবিক হারে পোষ্য কোটায় ১৭ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। বিভাগের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের সুযোগ করে দিতেই এককভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিভাগের শিক্ষার পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। এছাড়া, মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও উপজাতি কোটায় আরও শিক্ষার্থী ভর্তি হলে সংকট ঘনীভূত হবে বলেও আশংকা প্রকাশ করছেন তারা।
জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেস্বর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে এক একাডেমিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভাগের অবকাঠামো ও শ্রেণিকক্ষের পরিধির কথা বিবেচনা করে পাঁচজন পোষ্যসহ সর্বোচ্চ ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত হয়। এবছরও সর্বোচ্চ ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত জানানো হয় প্রশাসনকে।
কিন্তু কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটি ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে কোটা ছাড়াই ৬০টি আসন বরাদ্দ করে। মেধা তালিকায় ওই ৬০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা ছাড়াও আরও ১৭ জন শিক্ষার্থী পোষ্য কোটায় ভর্তি করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ২৬ জানুয়ারি আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি সাহাব এনাম খানের সভাপতিত্বে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায়  নতুন শিক্ষাবর্ষে পোষ্য হিসেবে ভর্তি বিজ্ঞপ্তিটি (স্মারক সংখ্যা: জাবি/ রেজি/ শিক্ষা/ ৬৮১৬(১৫০), তারিখ: ২৫-০১-২০১৬) পর্যালোচনা করে শিক্ষকরা বিস্ময় প্রকাশ করেন। ফলে একাডেমিক কমিটি পোষ্য কোটায় ভর্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সভায় বিভাগের ১৫ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
বিভাগের শিক্ষকরা জানান,আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের জন্য পাঁচটি শ্রেণীকক্ষ বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে বড় দুইটি শ্রেণীকক্ষে সর্বোচ্চ ৬৫ জন এবং ছোট দুইটি শ্রেণীকক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ জন করে শিক্ষার্থী ক্লাস করতে পারেন। তাই অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলে তাদেরকে শিক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহায়তা প্রদান সম্ভব হবে না বলে দাবি করেন তারা।

এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ৯ জন, আইআইটিতে ৮ জন, দর্শনে ৭ জনসহ বিভিন্ন বিভাগে ৬৭ জন পোষ্য ভর্তি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটায় ভর্তির সুনির্দিষ্ট কোনও নীতিমালা নেই। নির্ধারিত নেই আসন সংখ্যাও।প্রতিবছর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাপে কমানো হয় উত্তীর্ণের নাম্বারও। ফলে আবারও পোষ্য কোটায় ভর্তির নীতিমালা প্রণয়ণের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি সাহাব এনাম খান বলেন, এমনিতেই বিভাগে অবকাঠামোগত সংকট রয়েছে। পোষ্যকোটায় অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি হলে সংকট আরও বাড়বে। ক্ষতিগ্রস্থ হবে শিক্ষা কার্যক্রম।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, বিভাগভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে যতজন পোষ্য উত্তীর্ণ হয়েছে তাদেরকে ভর্তি করা হয়েছে। অনুষদভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা হলে এ সংখ্যাটা কম হত। 

এসআরএস/ এমএসএম

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ