behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার ক্রমেই কমছে

রশিদ আল রুহানী২৩:৫২, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৬

এই সব শিশুদের একটা বড় অংশ প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতে পারে না।প্রাথমিকে শিশুদের ঝরে পড়ার হার ক্রমেই কমছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর পরিচালিত বার্ষিক প্রাথমিক স্কুল জরিপ-২০১৫ বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। জরিপে দেখা গেছে,গত দশ বছরধারাবাহিক ঝরে পড়ার হার কমেছে। জরিপটি পরিচালনা করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন) মো. সাবের হোসেন। তবে ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে ঝরে পড়ার হার কম মাত্র দশমিক ৫ শতাংশ। এই অবস্থায় ঝরে পড়া রোধে সরকারের সফলতা নিয়ে সংশয়ে শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা।
দেশে স্বাক্ষরতার হার শতভাগে উন্নীত করা ও ঝরে পড়ার হার কমাতে শিশুদের বিনামূল্যে বই বিতরণ, ছাত্রীদের পর ছাত্রদেরকেও উপবৃত্তি প্রদান,স্কুলে বাড়তি বিনোদনের ব্যবস্থা, দুপুরে খাবার দেওয়াসহ বেশকিছু কার্যক্রম চালু রেখেছে সরকার। এসব কর্মসূচি থাকায় ঝরে পড়ার হার খানিকটা হলেও কমছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি এক লাখ ২২ হাজার ১৭৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ২০১৫ সালে ১ কোটি ৯০ লাখ ৬৭ হাজার ৭৬১ জন শিশু ভর্তি হয়। এর মধ্যে ৯৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮২ জন ছাত্রী ও ৯৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭৯ জন ছাত্র। বছরের শুরুতে প্রাথমিকে ভর্তি হওয়া মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ঝরে পড়েছে ৩৮ লাখ ৮৯ হাজার ৮২৩ জন। শতকরা হিসেবে এই হার ২০ দশমিক ৪ শতাংশ।
অন্যদিকে,২০১৪ সালে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৫২ হাজার ৯৭৯ হাজার শিশু স্কুলে ভর্তি হয়েছিল। এর মধ্যে ৯৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫ ছাত্র এবং ৯৯ লাখ ১৩ হাজার ৮৮৪ ছাত্রী। ঝরে পড়ার সংখ্যা হচ্ছে ৪০ লাখ ৮৬ হাজার ৫৭৩ জন। শতকরা হার ২০দশমিক ৯ শতাংশ।

অন্যদিকে, ২০০৫ সালে ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ, ২০০৬ সালে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০০৭ সালে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০১০ সালে ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০১২ সালে ২৬ দশমিক ২ শতাংশ।

জাতীয় শিক্ষানীতি কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক কাজী খলীকুজ্জমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘প্রাথমিকে ধারাবাহিকভাবে ঝরে পড়া কমছে। ঝরে পড়া আরও কমে আসবে,হয়ত একটু সময় লাগবে’।

তবে দরিদ্রতাকেই ঝরে পড়ার পেছনে বড় কারণ বলে মনে করছেন অনেকে। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক সাবের হোসেন বলেন,‘মূলত আর্থিক কারণেই শিশুরা ঝরে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের স্কুলে ধরে রাখতে বিনামূল্যে বই, দুপুরের খাবার ও উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে’।
অন্যদিকে জরিপ বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে ১০ লাখ ১৫ হাজার ৫৪২ শিক্ষার্থী একই শ্রেণিতে একাধিকবার ভর্তি হয়। এদের মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে পুনভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৪৯ হাজার ২৪৬ জন। একই ক্লাসে থেকে যাওয়া বা ‘রিপিটেশনের’ কারণে চতুর্থ শ্রেণিতে গত বছর বেশি শিক্ষার্থী ঝরে গেছে বলে জরিপ থেকে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সাবের হোসেন বলেন,‘একটু পাকাপোক্ত হয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ওঠার জন্য ২০১৫ সালে সব থেকে বেশি শিক্ষার্থী চতুর্থ শ্রেণিতে পুনরায় ভর্তি হয়।’ 

জেলাভেদে ঝরে পড়া বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছর গাইবান্ধা জেলায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। এখানে ঝরে পড়ার হার ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ।আর সবচেয়ে কম চট্টগ্রাম জেলায় কম ৮ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে ভোলায় এই হার ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ, কক্সবাজারের ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ, লক্ষ্ণীপুরে ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ, ঢাকায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ,শেরপুরে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ ও ঝিনাইদহে ২১  শতাংশ। ঢাকা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়েছে শেরপুরে।

 

গাইবান্ধা জেলা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষক বলেন,‘সাধারণত দরিদ্রতার কারণে স্কুল ছাড়ে শিশুরা। এতে অবশ্য তাদের নিজেদের কোনও হাত নেই, অবিভাবকই স্কুল থেকে শিশুকে ছাড়িয়ে নেয়’।

 

ঝরেপড়া ঠেকাতে সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াতে হবে, অভিভাবক ও স্কুল শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করেন সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম।তিনি এ জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দেন।

 

তিনি আরও বলেন,একটি টাস্কফোর্স যদি গঠন করা যায়, যার প্রধান হবেন প্রাধানমন্ত্রী নিজে অথবা তিনি বিশেষ কাউকে এর প্রধান করবেন,যিনি এই কাজ ছাড়া অন্য কাজের সঙ্গে জড়িত থাকবেন না।এই টাস্কফোর্সের আওতায় দেশের বিভিন্ন স্তরে বিপুলসংখ্যাক সদস্যের একটি টিম থাকবে শিক্ষার মানসহ বিভিন্ন বিষয় মনিটরিং করার জন্য এবং তারা রিপোর্ট করবে।সেই রিপোর্ট অনুযায়ী সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।সুতারং সরকারের এই খাতে আরও বাজেট বাড়ানো উচিত।

 

তিনি বলেন,গত বছরে ঝরে পড়ার হার যদি আরও কম হতো তাহলে খুশি হতাম। এ হার আরও কম হোক এটা আশা করি।

 

/আরএআর/এমএসএম

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ