নির্যাতিত সাংবাদিক তাসনিম খলিলের সাক্ষাৎকারডিজিএফআইয়ের সঙ্গে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ ছিল মাহফুজ আনামের!

Send
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:১৯, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৪, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৬

তাসনিম খলিলএক-এগারোর সময় ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের সঙ্গে ডিজিএফআইয়ের (সেনা গোয়েন্দা সংস্থা) বিশেষ ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ ছিল। সে কারণেই সংস্থাটির পছন্দ হয়নি বলে ডেইলি স্টারের ‘ফোরাম’ নামের ম্যাগাজিনের একটি সংখ্যা তখন বাজার থেকে প্রত্যাহারও করা হয়েছিল। ওই সংখ্যায় তারেক রহমান, ডিজিএফআই এবং জঙ্গি মদদের ওপর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছিল। বাংলা ট্রিবিউনকে এমন তথ্যই জানিয়েছেন পত্রিকাটির সাবেক সাংবাদিক তাসনিম খলিল।
তাসনিম খলিল এক-এগারোর সময় ডেইলি স্টারের সম্পাদনা সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি এক পর্যায়ে ডিজিএফআইয়ের হাতে আটক হয়ে নির্যাতনের শিকার হন। ডেইলি স্টারের ফোরাম ম্যাগাজিনে ‘তারেক রহমান, ডিজিএফআই এবং জঙ্গি মদদের’ বিষয় নিয়ে প্রতিবেদনটি তিনিই করেছিলেন। তাসনিম ছাড়া পাওয়ার পর বাংলাদেশ ছেড়ে দেশের বাইরে চলে যান। এখন তিনি সুইডেন থেকে প্রকাশিত ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া লিখিত সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, ‘মাহফুজ আনামের উচিৎ হবে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার স্বার্থে ওই সময়ে তার পত্রিকায় যা হয়েছে তা পুরোপুরি প্রকাশ করা। ডেইলি স্টারে সেই সময় ডিজিএফআইয়ের কনডুইট বা প্ল্যান্ট কে বা কারা ছিলেন তা জানানো। এজন্য একটি কমিশনও করা যেতে পারে।’
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘জানার পরও নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা তথ্য প্রকাশ সাংবাদিকতার কোন নীতিমালায় পড়ে?’ বলেছেন, ‘২০০৭ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসে আমাকে গ্রেপ্তারের পূর্বে বিভিন্ন রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীদের চরিত্র হননকারী যে খবরগুলি ডেইলি স্টারে ছাপা হয়েছিল, সেগুলো কাদের অনুমতি বা প্ররোচনায় প্রকাশিত হয়েছিল? এ প্রশ্নের জবাব সম্ভবত মাহফুজ আনামই ভালো দিতে পারবেন।’
তিনি দাবি করেন, ‘রাজনীতিবিদদের নির্যাতন করে আদায় করা বক্তব্য তখন ডেইলি স্টারসহ আরও অনেক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বলা হচ্ছে তারা অডিও টেপ শুনে লিখেছেন। কিন্তু এগুলো ছিল ভিডিও টেপ। আর তাতে নির্যাতনের চিত্র স্পষ্ট ছিল। আর এ কারণেই চালাকি করে অডিও টেপের কথা বলা হচ্ছে।’
তাসনিম খলিলের লিখিত সাক্ষাৎকারটি এখানে হুবহু তুলে ধরা হলো।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনিতো এক-এগারোর সময় ডেইলি স্টারে কর্মরত ছিলেন। তখন আপনাকে আটক এবং নির্যাতনের ঘটনাটি বলবেন? কেন এমন করা হয়েছিল?
তাসনিম খলিল: ২০০৭ সালের মে মাসের ১১ তারিখ রাতে আমি ডিজিএফআইয়ের হাতে আটক হই। আমার সেন্ট্রাল রোডের বাসা থেকে আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে সেনানিবাসের ভেতরে একটি নির্যাতনকেন্দ্রে আটকে রাখা হয়। আমার চোখ বেঁধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীগুলির বিভিন্ন অনাচার নিয়ে আমার রিপোর্টিং ও বাংলাদেশে সামরিকতন্ত্রের সমালোচনাই সম্ভবত ছিল আমার অপরাধ। আমার আটক ও নির্যাতনের ব্যাপারে আমার জবানবন্দির ভিত্তিতে ২০০৮ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, আগ্রহীরা ‘The torture of Tasneem Khalil: How the Bangladesh military abuses its power under the state of emergency’ শিরোনামের উক্ত প্রতিবেদনটি পড়ে দেখতে পারেন।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনার মুক্তির ব্যাপারে মাহফুজ আনাম বা ডেইলি স্টারের কোনও ভূমিকা ছিল?
তাসনিম খলিল: আমাকে গ্রেপ্তারের অনেক অনেক আগে থেকেই আমি নামে-বেনামে বিভিন্ন ধরনের হুমকি পাচ্ছিলাম। এ ব্যাপারে আমি মাহফুজ ভাইকে বারবার অবহিত করেছি। তিনি খুব একটা আমলে নেননি, বরং আমাকে এই বলে আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন, ডিজিএফআইয়ের সঙ্গে তার এক ধরনের ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ আছে, তাকে না জানিয়ে ডেইলি স্টারের কোনও সাংবাদিকের ব্যাপারে সংস্থাটি কোনও পদক্ষেপ নেবে না। এর মধ্যে অবশ্য ডিজিএফআইয়ের পছন্দ হয়নি বিধায় তিনি ‘ফোরাম ম্যাগাজিনের’ একটি সংখ্যা বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। তারেক রহমান, ডিজিএফআই ও জঙ্গি প্রতিপালন বিষয়ে আমার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছিলো সেই সংখ্যাটিতে। আমার আটকের পরে অবশ্য আমার মুক্তির ব্যাপারে তার বিশেষ ভূমিকা ছিলো। বিশেষ ভূমিকা ছিলো তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূতেরও। অন্যদের মধ্যে জাফর সোবহানের কথা বলতেই হয়। আবার বিশ্বব্যাপী শত শত সহকর্মী, সহযোদ্ধারা আমার মুক্তির জন্য লড়েছেন।

 

বাংলা ট্রিবিউন: মাহফুজ আনাম তো বিবৃতি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ব্যক্তিগত কারণে আপনি আটক হয়েছেন।
তাসনিম খলিল: মাহফুজ আনামের যে বিবৃতিটির কথা আপনি বলছেন, সেটি তিনি দিয়েছিলেন আমার সঙ্গে কথা বলেই, আমাকে রক্ষার জন্য। এর জন্য তার প্রতি বিন্দুমাত্র কোনও ক্ষোভ আমার নেই। ডিজিএফআইয়ের জন্য বিবৃতিটি ছিলো তাদের ‘ফেস সেভিংয়ের’ অংশ। এ ব্যাপারে আমি এইচআরডাব্লিউ কর্তৃক প্রকাশিত জবানবন্দিতে বিস্তারিত বলেছি, আগ্রহীরা পড়ে দেখতে পারেন।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনি মাহফুজ আনাম, ডেইলি স্টার এবং এক-এগারো নিয়ে চলমান বিতর্ক নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন?
তাসনিম খলিল: এই বিতর্কটি কিন্তু বেশ কৌতুহল উদ্দীপক। এখানে একটি দল মাহফুজ আনাম কতো ভালো লোক ও মহান সাংবাদিক সেটি প্রমাণে ব্যস্ত, অন্যদিকে আরেকটি দল মাহফুজ আনামকে কেন শুলে চড়ানো জরুরি সেটি প্রমাণে ব্যস্ত। মাহফুজ আনাম কাণ্ডের পর বাংলাদেশে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে যে সমস্যাটি নিয়ে সকলের কথা বলা উচিত ছিল, তা নিয়ে কিন্তু কেউ কিছু বলছেন না।
এক-এগারো পরবর্তী সেনা শাসনকালে শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীদের তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনকেন্দ্রে আটক রাখা হয়েছে, অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছে। আবদুল জলিলের মতো বর্ষীয়ান রাজনীতিককে নির্যাতন করে বানোয়াট জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এইসব নির্যাতনলব্ধ তথ্য, যাকে ইংরেজিতে আমরা বলি ‘টর্চার-টেইন্টেড ইনফরমেশন’, ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমে চালান দিয়েছেন, আর সম্পাদক সাহেবরা ছেপেছেন।
আপনি একটি ব্যাপার লক্ষ্য করবেন। কিছু কিছু অতি চালাক সাংবাদিক ইদানিং বলেন, ওই জবানবন্দিগুলো নাকি ‘অডিও টেপে’ এসেছিল। তারা ভিডিও টেপকে ‘অডিও টেপ’ বানিয়ে দেন কেন? কারণ ভিডিওগুলোতে কিন্তু সেই টর্চার চেম্বারটি স্পষ্ট দেখা যায়। দেখা যায় কালো কাপড়ে চোখ বেঁধে আবদুল জলিলকে বসিয়ে রাখা হয়েছে, পিছনের সিলিং থেকে যেটিকে আমরা বলি ‘টর্চার রোপ’ সেটি ঝুলছে।

বাংলাদেশের সংবিধানে যে কয়টি অপরাধ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, টর্চার বা নির্যাতন তার একটি। এক-এগারো পরবর্তী সময়ে ডিজিএফআই ব্যাপকভাবে এই অপরাধটি করেছে। আমি একজন শিক্ষকের কথা জানি, যাকে রাতের আঁধারে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফেরত নিয়ে গিয়ে সামরিক বাহিনী বিরোধী দেয়াল লিখনগুলি চেটে পরিষ্কার করতে বলা হয়েছিল। এক সাংবাদিককে পিটিয়ে তিনদিনের জন্য অচেতন করে ফেলা হয়েছিল। সে যাই হোক, মূল সমস্যাটি কিন্তু এখানে, রাজনীতিকদের টর্চারের মাধ্যমে বানোয়াট জবানবন্দি আদায় করে ডিজিএফআই সংবিধান লঙ্ঘন করেছে, আর সেই সব জবানবন্দি ছেপে সম্পাদকরা সংবিধান লঙ্ঘনে ইন্ধন দিয়েছেন।
সেই সময় গণতন্ত্রের পক্ষে কে কতগুলি সম্পাদকীয় নিবন্ধ রচনা করেছেন তার একটি হিসাব আমরা সম্প্রতি পেয়েছি। কিন্তু নির্যাতন আর সংবিধান লঙ্ঘনে কীভাবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় বা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয় তা অবশ্য আমি ঠিক জানি না।
বাংলা ট্রিবিউন: আসলে তখন পরিস্থিতি কেমন ছিল? ডেইলি স্টারের পক্ষে কি চাপ উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল?
তাসনিম খলিল: এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত শ্রদ্ধাভাজন জায়েদুল আহসান পিন্টুর একটি কলামের কথা আমাকে বলতেই হয়। ফেসবুকে আমার বন্ধু তালিকায় আছেন এমন অনেক প্রাজ্ঞজনই কলামটির প্রশংসা করছেন দেখে সেটি আমি পড়তে গিয়ে দেখলাম, পিন্টু আমার কথাও লিখেছেন। তিনি কুলীন সাংবাদিক, আমার মতো নগণ্য একজন সংবাদকর্মীর নামটিও তার মনে থাকবে না, আমাকে তিনি ‘ছেলেটা’ হিসেবে বর্ণনা করবেন সেটাই স্বাভাবিক। তবে আমি যে ডেইলি স্টারের ‘কন্ট্রিবিউটর’ (প্রদায়ক) ছিলাম না, বরং একজন বেতনভুক্ত সম্পাদনা সহকারী ছিলাম, তা তিনি জানেন না দেখে আমি একটু বিব্রতই হয়েছি। সে যাই হোক, পিন্টুর কলামটি কিন্তু কিছু নতুন কৌতুহলী প্রশ্নের জন্ম দেয়।

পিন্টুর দাবি বা ভাষ্যমতে আমার (কন্ট্রিবিউটার ছেলেটার) আটক ও নির্যাতনের ঘটনার পরই মাহফুজ আনাম বিচলিত হয়ে ডিজিএফআইয়ের সরবরাহকৃত বানোয়াট খবরগুলো ছাপার অনুমতি দেন। এখানে প্রশ্ন থাকে ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে মে মাসে আমাকে আটকের আগে থেকেই বিভিন্ন রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীদের চরিত্র হননকারী যে খবরগুলো ডেইলি স্টারে ছাপা হয়েছিল, সেগুলো কাদের অনুমতি বা প্ররোচনায় প্রকাশিত হয়েছিল? এ প্রশ্নের জবাব সম্ভবত মাহফুজ আনামই ভালো দিতে পারবেন।
এক-এগারো পরবর্তী সময়ে ডিজিএফআই কর্তৃক সরবরাহকৃত বানোয়াট খবর ছাপানোর ব্যাপারটি কিন্তু নতুন কিছু ছিল না। বিশ্বের অনেক জাতীয় নিরাপত্তাবাদী রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন সংবাদপত্রে গোয়েন্দা সংস্থাগুলির বশংবদ বা পালিত কিছু সাংবাদিক থাকেন। এরাই গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ফরমায়েশি খবরের কনডুইট হিসেবে কাজ করেন। তারা বিভিন্ন সুযোগসুবিধার বিনিময়ে (আর্থিক সুবিধা, ‘স্কুপ’ এর লোভ) গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ফরমায়েশ মতো খবর তৈরি করেন এবং প্রকাশ করেন। এটি তারা এক-এগারোর আগেও করেছেন, এক-এগারো পরবর্তী সেনা শাসনকালেও করেছেন, এখনও করছেন। ডেইলি স্টারে সেই সময়টিতে ডিজিএফআইয়ের কনডুইট বা প্ল্যান্ট কে বা কারা ছিলেন এটি অবশ্য জায়েদুল ইসলাম পিন্টু নাম-পদবীসহ বলতে পারবেন। 

বাংলা ট্রিবিউন: মাহফুজ আনাম তো বলেছেন ডিজিএফআইয়ের চাপে করেছেন। এটা কী যথেষ্ঠ নয়? 

তাসনিম খলিল: এ ব্যাপারে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের জন্য আমার খুবই সরল একটি প্রস্তাব আছে। মাহফুজ ভাইয়ের সদিচ্ছা থাকলে প্রস্তাবিত পদক্ষেপটি তিনি আগামীকালও নিতে পারেন অথবা আগামী সপ্তাহেও নিতে পারেন। আমি মনে করি, ডেইলি স্টারের এখন উচিত একটি ট্রুথকমিশন প্রতিষ্ঠা করা। সর্বজন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক রেহমান সোবহানকে এই কমিশনটির প্রধান করা যেতে পারে। শ্রদ্ধেয় হামিদা হোসেনের মতো মানবাধিকার কর্মীদের কমিশনার করা যেতে পারে। 

প্রস্তাবিত ট্রুথ কমিশনটির কাজ হবে সেই সময়টিতে ঠিক কী হয়েছিলো সেই সত্যটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা। ঠিক কোন রিপোর্টগুলি নির্যাতনলব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছিল; ডিজিএফআইয়ের যেসব কর্মকর্তা এসব তথ্য সরবরাহ করেছিলেন, তাদের নাম-পদবীসহ পরিচয়; ডেইলি স্টারের কোন সাংবাদিক তখন ডিজিএফআইয়ের কনডুইট বা প্ল্যান্ট ছিলেন, তাদের পরিচয়। এই বিষয়গুলি নিয়ে ট্রুথ কমিশন মাহফুজ আনাম, জায়েদুল আহসান পিন্টু এদের জবানবন্দি শুনবেন। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের বা তাদের পরিবারের সদস্যদের (যেমন সজীব ওয়াজেদ জয়) কথাও শুনবেন। তারপর একটি পরিপূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হবে ডেইলি স্টারে। ২০০৭ সালে তারা যদি ডিজিএফআইয়ের দেওয়া টর্চার-টেইন্টেড ইনফরমেশন ছাপতে পারেন, তবে ২০১৬ সালে নিশ্চয়ই তারা এই ট্রুথ কমিশনের রিপোর্টটিও ছাপবেন। 

এর মাধ্যমে অতীতের ভুলটি যেমন সংশোধনের সুযোগ সৃষ্টি হবে, তেমনি বর্তমান এবং ভবিষ্যতের ভুলগুলিও নিয়ন্ত্রিত হবে। গণমাধ্যমে গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সরবরাহকৃত তথ্যের যে বাজারটি রয়েছে, সেটি ধ্বংস হবে; গোয়েন্দা সংস্থাগুলির যেসব কর্মকর্তা বন্দি নির্যাতনের মাধ্যমে তথ্য আদায় করে সেই তথ্য সংবাদমাধ্যমে চালান দেন, তারা এহেন অনাচার বন্ধ করবেন; অন্যদিকে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলির বশংবদ সাংবাদিকরাও নিরস্ত হবেন। 

এ ধরনের ট্রুথ কমিশন প্রতিষ্ঠায় ডেইলি স্টারের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার হবে। মাহফুজ ভাই বলতে পারবেন,  এই আমাদের ভুল ছিলো, এই কারণে ভুলটি হয়েছিলো এবং এই পন্থায় আমরা বর্তমান এবং ভবিষ্যতে ভুল করার রাস্তাটি বন্ধ করে দিলাম! 

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের কী করা উচিৎ?

তাসনিম খলিল: এ ব্যাপারেও আমার খুবই সরল একটি প্রস্তাব আছে। বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলি ঘোষণা দিয়ে একটি করে বিশেষ প্যানেল প্রতিষ্ঠা করতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির চাপে যে সমস্ত ভুয়া খবর এখন প্রকাশিত হচ্ছে বা ভবিষ্যতে হবে, সেগুলির বিস্তারিত বিবরণ এই প্যানেলের কাছে গচ্ছিত থাকবে। আবার বিভিন্ন ধরনের হুমকির কারণে যে খবরগুলি এখন প্রকাশ করা যাচ্ছে না, সেগুলির বিস্তারিত বিবরণও থাকবে। ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে এই বিবরণগুলিও প্রকাশ করা হবে। 

আমার অনুজপ্রতীম অনেক সাংবাদিকই এখনও বিভিন্ন মহলের চোখরাঙানির বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে জানতে চান। আমি তাদের একটি পরামর্শই দেই, নাম আর তারিখগুলি টুকে রাখো। নেতা-মিনিস্টার আর কর্নেল সাহেবরা যেদিন ইতিহাসের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাবেন, সেদিনকার ইতিহাসটি কিন্তু আমরাই লিখবো। 

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি এখন কী করছেন?

তাসনিম খলিল: আমি বর্তমানে সুইডেন থেকে প্রকাশিত ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট’ পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক। এছাড়া সম্প্রতি দক্ষিণ এশীয় ঘাতকবাহিনীগুলি ও এ অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বিষয়ক আমার একটি বই বের হয়েছে লন্ডনের প্লুটো প্রেস থেকে। ২০০৭ সালে আমি সম্পাদনা সহকারী হিসেবে ডেইলি স্টারে কর্মরত ছিলাম। আটক এবং নির্যাতনের পর ছাড়া পেয়ে সে বছর জুন মাসে আমি সপরিবারে নির্বাসনে আসতে বাধ্য হই। 

/এইচইউআর/এজে/

লাইভ

টপ