behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

একান্ত সাক্ষাৎকারে কমান্ডার মুফতি মাহমুদস্পর্শকাতর হলেও গণমাধ্যম উপভোগ্য

জামাল উদ্দিন২১:৩০, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৬

মুফতি মাহমুদস্পর্শকাতর ও কঠিন জায়গা হলেও গণমাধ্যমকে উপভোগ্য বলে মনে করেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ। তিনি বলেন,  সব মিডিয়াকর্মীই চান র‌্যাবের সব অপারেশনের তথ্য আগে-আগে পেতে। এ নিয়ে অনেকেই অনুযোগ-অভিযোগও করেন। পরে যখন বুঝতে পারেন, ইলেক্ট্রনিক্স পদ্ধতির মাধ্যমেও সবাইকে একসঙ্গে তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়, তখন আর র‌্যাবের মুখপাত্রের প্রতি সেই অনুযোগ থাকে না। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে  তিনি এসব কথা বলেন।
সশস্ত্র বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার অনুভূতি কেমন—এমন প্রশ্নের জবাবে মুফতি মাহমুদ বলেন, এনজয়েবল। গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে ব্যক্তিগতভাবে আমার দায়িত্ব ও কর্তব্যকে উপভোগ করি।
মুফতি মাহমুদ বলেন, র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ে কাজ করছি ২০১৪ সালের ২৩ জুলাই থেকে। এরপর থেকে ইলেক্ট্রনিক্স, প্রিন্ট ও অনলাইনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের কাছ থেকে সবসময় সহযোগিতা পেয়ে আসছি। র‌্যাবের পক্ষ থেকে যখনই কোনও তথ্য দিয়েছি, গণমাধ্যম সেগুলো সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছে। সংবাদ প্রকাশের পর নিজের কাছেও ভালো লাগে।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার এ পরিচালক বলেন, অপারেশনাল নিউজগুলো সবাই চান আগে পেতে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সবসময় সবাইকে একসঙ্গে সব নিউজ দেওয়া সম্ভব হয় না। এখন ইলেক্ট্রনিক্স সিস্টেমের যুগ। ইলেক্ট্রানিক্স সিস্টেমের মাধ্যমেই সবাইকে তথ্য দেওয়া হয়। এর মধ্যেও ব্যতিক্রম আসবে। কেউ আগে পাবেন, কেউ পরে পাবেন।  সেক্ষেত্রে অনেকে আবদারের সুরে বলেন, ভাই আমি যদি আগে পেতাম তাহলে ভালো হতো। কিন্তু পরে সেটা তারা বুঝতে পারেন। আসলে এটা সম্ভব নয়। তারপরও আমাদের চেষ্টা থাকে। যেন তারাও সময়মতো তাদের মিডিয়ায় সেটা সুন্দরভাবে প্রচার করতে পারেন।

কমান্ডার মুফতি মাহমুদ, র‌্যাবের আভিযানিক সফলতা যেগুলো আছে, সেগুলো দ্রুত মিডিয়ায় দিতে চাই আমরা। র‌্যাবের সব কাজইতো জনগণ ও দেশের জন্য। অপরাধ থেকে শুরু করে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় যদি গণমাধ্যমে সুন্দরভাবে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়, তাহলে মানুষ অপরাধের কারণ জানতে পারে। অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে যেতে পারলে ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত হন ও স্বস্তি পান। নিরাপত্তার বিষয়ে মানুষকে আমরা স্বস্তি দিতে চাই। 

মুফতি মাহমুদ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার জন্যই বিশেষভাবে র‌্যাবকে এলিট ফোর্স হিসেবে গঠন করা হয়েছে। র‌্যাব গঠনের পর থেকেই জঙ্গি ও শীর্ষ সন্ত্রাসী দমন, মাদকবিরোধী অভিযানসহ বড় অপারেশনগুলো পরিচালনা করছে র‌্যাবের ব্যাটালিয়নগুলো।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে তথ্য দেওয়ার পর সেটা কখনও কেউ বিকৃতভাবে প্রকাশ করেছে কি না—জানতে চাইলে মুফতি মাহমুদ  বলেন, আসলে বিষয়টি ওইভাবে বলা ঠিক হবে না। কারণ সব সংবাদ সব গণমাধ্যমে একভাবে আসবে না। এটাই স্বাভাবিক। তারা চাইবেন, যেখানে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব আছে, সেটার মধ্যে থেকে যেকোনও সংবাদ ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে লিখতে। যেন নিজের লেখা নিউজটি অন্য কারও সঙ্গে না মেলে। যেন একটু অন্যরকম হয়। অধিকাংশ সময়েই মূল বক্তব্য যেটা থাকে, সেটা ঠিকই থাকে। এর বাইরে তারা তাদের শাব্দিক অলঙ্কার দিয়ে হেডলাইন হোক আর টেক্সট হোক বা আগের কোনও ঘটনার যোগসূত্র থাকলে, সেগুলোও জুড়ে দেন। সেক্ষেত্রে আমরা কখনও কোনও সমস্যার মুখোমুখি হইনি। তিনি বলেন, যখন সংবাদকর্মীরা  দেখেন, তাদের পরিবেশিত সংবাদটি সঠিকভাবে প্রকাশ করেননি, তখন তারা নিজ উদ্যোগেই সেই নিউজের সংশোধনী দিয়ে থাকেন। এটা অবশ্যই তাদের পেশাদারিত্বের মনোভাবের প্রতিফলন।

একপ্রশ্নের জবাবে কমান্ডার মুফতি মাহমুদ  বলেন,  সিলেটে র‌্যাব-৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে কাজ করেছি। সেখানে অনেক বড়-বড় অভিযান পরিচালনা করেছি। এরমধ্যে সাতছড়িতে যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক উদ্ধার করেছি, সেটা র‌্যাবের ইতিহাসে অন্যতম একটি বড় সফল অভিযান ছিল। তিনি বলেন, র‌্যাব-৯-এ থাকতেই মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতাম। কিন্তু এখানে যোগ দেওয়ার পর আরও বৃহত্তর পরিসরে কাজ করতে হচ্ছে। সব ব্যাটালিয়নের তথা সমগ্র র‌্যাবের মুখপাত্র হিসেবে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে ও কাজ করতে হয়। ফলে এখানে অনেক লোকজনের সঙ্গে পরিচয় ঘটেছে। কেবল সাংবাদিকদের সঙ্গেই নয়, টকশোয়ও কথা বলতে হয়েছে র‌্যাবের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। 

/এমএনএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ