behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বাংলা ট্রিবিউনকে সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগরশহীদদের নিয়ে অভিসন্দর্ভ রচনা করবে ছাত্রদল

সালমান তারেক শাকিল২০:০০, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৬

সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগরএই প্রথমবারের মতো সংগঠনের সম্পাদক পরিষদে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক’ নামে পদ যুক্ত করেছে  জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে এ পদে মনোনীত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০২-০৩ সেশনের শিক্ষার্থী সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগর। সমাজকল্যাণ গবেষণা ইন্সটিটিউটের এই শিক্ষার্থী বর্তমানে ঢাবির আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে কোরিয়ান ভাষার ওপর কোর্স করছেন। নতুন পদে মনোনীত হয়ে কথা বলেছেন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে। আলাপে-আলাপে সুর মেলালেন পূর্বসূরিদের কণ্ঠেই।
এর আগে মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিরূপণের আহ্বান জানিয়ে যে বিতর্ক তুলেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নির্বোধ বলেছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। একই ভাষায়ই বললেন সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগর। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, একাত্তরে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা কী ছিল, এটি নিয়ে সুরাহা হওয়া উচিত। তারা নির্বোধ ছিলেন কি না, তারা কেন মারা গেলেন বা মারা যাওয়ার পেছনে কী ভূমিকা ছিল, তার সুরাহা করতে হবে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করে সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগর বলেন, বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে আমাদের কটাক্ষ নেই। তাদের সম্মান দেওয়া দরকার, সেটা খালেদা জিয়াই দিয়েছেন। কারণ, বাংলাদেশের যে স্বাধীনতা ও একুশে পদক, এই দুটো পদক প্রবর্তন করেছেন  খালেদা জিয়া।
প্রসঙ্গটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ছাত্রদলের মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক বলেন, একাত্তরে অনেকে মুক্তিযুদ্ধপন্থী ছিলেন। যারা বুদ্ধিজীবী ছিলেন, অনেকে মাঠে নেমে গেছেন, আমাদের চিত্রপরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম মাঠে নেমে গেছেন। তিনি একজন বুদ্ধিজীবী, তিনি নিজেই যুদ্ধ করেছেন। কেউ-কেউ গিয়েছেন, কেউ-কেউ যাননি। যারা যাননি, তারা কেন যাননি, তারা কিভাবে ছিলেন, একাত্তরে তাদের কী ভূমিকা ছিল, এগুলো এখন বিচার বিশ্লেষণ হওয়া উচিত। অভিন্ন জাতি গঠনে এটি করা উচিত। ঠিক যেভাবে খালেদা জিয়াও বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে।

শহীদদের সংখ্যা নিয়ে সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগর বলেন, আমরা বলে থাকি ত্রিশ লাখ শহীদ হয়েছেন। এই সংখ্যা নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। বরং একটা জাতি যত বেশি ত্যাগের মাধ্যমে তাদের স্বাধীনতা অর্জন করে, সে জাতি তত বেশি মহিমান্বিত। সংখ্যাটা যদি ত্রিশ লাখ না হয়ে তিনকোটি হয়, তাহলে আমি ব্যক্তিগতভাবে আরও খুশি হব। আমরা তিন কোটি প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। তিনি বলেন, সংখ্যাটা আসলে কত, এটা কি ত্রিশ লাখ, না কি তিন কোটি? না কি তিন লাখ? এটা আসলে নিরূপণ হওয়া খুব জরুরি। কারণ এখন পর্যন্ত সরকারি গেজেট অনুযায়ী মাত্র ভাতা পান মাত্র ২ লাখ ৭৫ হাজার শহীদের পরিবার। তারা তো ভাতা পায়। তো বাকি ২৭ লাখ ২৫ হাজার শহীদের পরিবারের ভাতা কে খায়? এটা কি ভূতের পেটে যায়,  না কি কোনও কালো বিড়ালের পকেটে যায়? এটা সুরাহা হওয়া খুব জরুরি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের সময়ের কথা উদ্ধৃত করে সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগর বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের বেশ কিছু ভিডিও ক্লিপ আছে, যেগুলো আমি সংগ্রহে রেখেছি। সেখানে কোথাও মিলিয়নস, কোথাও ফিউ মিলিয়নস বলেছেন। এছাড়া তৎকালীন পত্র-পত্রিকার কাটিংয়ের দেখা গেছে এই সংখ্যাটা নিয়ে বিতর্ক আছে। সুতরাং এই সংখ্যা নিয়ে যে বিতর্ক আছে, সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমার নেত্রী  খালেদা জিয়া এই বিতর্কের একটা সমাধান চেয়েছেন। তার সময়েই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় করা হয়। তার অন্য উদ্দেশ্য নেই।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে আমিরুল বলেন, যুদ্ধাপরাধের  বিচারের নাম তো সরকার পাল্টে দিল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হিসেবে। এরপরও আমরা চেয়েছি বিচারমান আন্তর্জাতিক হতে হবে। এরই মধ্যে আমাদের দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। এ বিষয়ে কিন্তু আমাদের দল আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তার মানে হলো, আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধীদের শাস্তি চাই, সাজা চাই। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে। আর যেটা হয়ে গেছে, কাদের মোল্লা বা আমাদের সালাহউদ্দিন সাহেব, তাদের ফাঁসিটা সঠিক না ভুল, সেটা সময়ে বিচার হবে। এক সময় এর বিচার হবে, তাদের ফাঁসি সঠিক না ভুল ছিল?

নতুন পদে নিযুক্ত হয়ে কর্মপরিকল্পনা কী—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা দুটো প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে একটির কাজ শুরু হয়েছে। এটি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা সেল। এই সেলের কাজ হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিরূপণ কেন হয়নি, এর পেছনে কী বাধা ছিল, কারা ছিল, এসব বিষয় নিয়ে অভিসন্দর্ভ রচনা করা হবে। আশা করি, আগামী ২৬ মার্চ এটি সেমিনারের মাধ্যমে পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করা হবে।দ্বিতীয় প্রকল্পটি হচ্ছে, ২৬ মার্চের পর মুক্তিযুদ্ধ ও উৎপাদন নিয়ে প্রতি বা সপ্তাহে পাঠচক্র আয়োজন করা। এটি উন্মুক্ত পাঠসভা হবে।

নিজের পদের দায়িত্ব হিসেবে কী কী কাজ করবেন? উত্তরে আমিরুল বলেন, আমাদের প্রাথমিক কাজ হলো, বর্তমান অবৈধ সরকার যারা অবৈধভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতায় টিকে আছে এবং তাদের সুবিধাভোগী বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী যারা কেউই মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল  না। তাদের বলা হয় সল্টলেকের মুক্তিযোদ্ধা। এই সল্টলেকের মুক্তিযোদ্ধাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে মুক্তিযোদ্ধের যে প্রকৃত চেতনা সেই চেতনায় দেশকে ফিরিয়ে আনতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে যা-যা করা দরকার আমি তা করব।

কিন্তু এতদিন পর কেন ছাত্রদলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পোস্ট—এমন প্রশ্নে সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগর বলেন, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত আগ্রহ ও ছাত্রদলের অভিভাবকরা সময়ের বাস্তবতার নিরিখে এই পদটি তৈরি করেছেন।

 /এমএনএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ