পর্যবেক্ষণে থাকছে ৯ সংস্থা, আগ্রহ নেই বিদেশিদের

Send
এমরান হোসাইন শেখ
প্রকাশিত : ২০:১৮, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫৮, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৬

ইউপি নির্বাচন-২০১৬আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রথম ধাপের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছে ৯টি পর্যবেক্ষক সংস্থা। এ সব সংস্থা প্রায় ৫ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োগে কমিশনের কাছে আবেদন করেছে। তবে কোনও বিদেশি সংস্থা ও ব্যক্তি ইউপি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আবেদন করেনি। এদিকে, জাতীয় ও স্থানীয় শতাধিক পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধনের মেয়াদ কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে নতুন করে আবেদন আহ্বান না করে নিবন্ধিত সংস্থাগুলো মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, নয় সংস্থা প্রথম ধাপের নির্বাচনে ৪ হাজার ৯৩৪জন পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমতি চেয়েছে। এ নির্বাচনে ১২০জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪ হাজার ৮১৪জন স্থানীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানিয়েছে সংস্থাগুলো। ইউপি নির্বাচনের পর্যবেক্ষণে আবেদনকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ-জানিপপ ১০জন, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ-বামাসপ ১৫জন, ডেমক্রেসিওয়াচ ৮০জন, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন ৩ হাজার ৭৮০জন, ব্রতী ৩০০জন, সোসাইটি ফর রুরাল বেসিক নিড-স্রাবন ৭০৮জন, পলিসি রিসার্স স্টাডিজ ফাউন্ডেশন (পিআরএসকে) ১৪জন, বাকেরগঞ্জ ফোরাম ১২জন এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন পরিষদ ১৫জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেবে বলে তাদের ‍আবেদনে ইসিকে জানিয়েছে।

পর্যবেক্ষণে অনুমতি দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসির জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে আবেদনের নিয়ম রয়েছে। ইসিতে শতাধিক সংস্থা নিবন্ধিত হলেও সাধারণত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০-২৫টির মতো সংস্থা পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়ে থাকে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো পর্যবেক্ষণের আগ্রহ কম সংস্থাগুলোর। তবে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে ২৯টি সংস্থার প্রায় ৪ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছিল। ওই সময়ে বিদেশি পর্যবেক্ষক ছিল না।

নিবন্ধনের মেয়াদ বাড়ছে ১ বছর

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে জাতীয় ও স্থানীয় শতাধিক পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধনের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে চলে আসায় নতুন করে নিবন্ধনের আবেদনের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে বর্তমানে নিবন্ধিত সংস্থাগুলো এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম সংসদ নির্বাচনের আগে প্রথমবারের মতো পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চালু হয়। ২০০৮ সালে ১৩৮টি সংস্থাকে নিবন্ধন দেয় ইসি। তখন নিবন্ধনের মেয়াদ ছিল একবছর মেয়াদ। পরবর্তী সময়ে নিবন্ধনের মেয়াদ ৫ বছরসহ বিভিন্ন সংশোধনী এনে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। ২০১০ সালে শতাধিক সংস্থার নিবন্ধন দেওয়া হয়। এসব সংস্থার মেয়াদ গত জানুয়ারিতে শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় ইউপি নির্বাচনে এসব সংস্থাকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ দিতে মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে আবেদন না চেয়ে জাতীয় ও স্থানীয় নিবন্ধিত সংস্থাগুলোর মেয়াদ বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন।

নিবন্ধিত সংস্থাগুলোর মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে উল্লেখ করে ইসি কর্মকর্তা বলেন, ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে কয়েকটি সংস্থা ইতোমধ্যে পর্যবেক্ষক নিয়োগের তালিকাও জমা দিয়েছে। তাদের সুবিধা বিবেচনা করেই সব নিবন্ধিত সংস্থার মেয়াদ একবছর বাড়ানো হয়েছে।

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ