behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

‘ঢাকার নিম্ন আদালত থেকে আদাবর থানা কতদূর?’

আমানুর রহমান রনি১৮:১২, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৬

 অভিযুক্ত এসআই রতনঢাকার নিম্ন আদালত থেকে আদাবর থানা কতদূর? নিম্ন আদালত থেকে একটি আদেশ বা গ্রেফতারি পরোয়ানা সেখানে যেতে কতদিন সময় লাগতে পারে?
আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রতন কুমার হালদার কর্তৃক লাঞ্ছিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফারহানা আক্তার এসব প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, এসআই  রতনের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় যাওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তা অস্বীকার করছে। পুলিশ তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।
শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় ঢাকা নারী শিশু নির‌্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এ দায়ের করা ওই ছাত্রীর মামলায় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এসআই রতন কুমার হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ১২ দিন পার হলেও তা আদাবর থানায় পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিক্ষার্থী ফারহানা তার আইনজীবীর বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, তিনদিন আগে গ্রেফতারি পরোয়ানা আদাবর থানায় পৌঁছেছে। আমি আমার আইনজীবীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে পুলিশ এখন তা অস্বীকার করছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার না করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহিনুর রহমান জানান,আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা এখনও থানায় পৌঁছেনি। পরোয়ানা থানায় এলে আইনগত  ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ওই ছাত্রীর স্বামী সজীব আহমেদ রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আমাদের সোর্স এবং আইনজীবীর মাধ্যমে জানতে পেরেছি আদালতের পরোয়ানা থানায় পাঠানো হয়েছে। কিন্তু রতনকে পুলিশ ধরছে না। পুলিশ পুলিশের প্রতি সহানুভূতিশীল দেখাচ্ছে। আগামী ১৬ মার্চ আদালতে শুনানি রয়েছে, ওইদিন আমরা বিষয়টি আদালতকে জানাবো।’

তিনি বলেন,‘রতন এখনও সিভিল ড্রেসে ঘোরাফেরা করছে। আমাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তার কিছু হলে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর খবর আছে বলে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার জানান, এসআই রতনের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা এখনও আমরা পাইনি। পরোয়ানা হাতে পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গত ৩১ জানুয়ারি ফারহানা রিং রোড দিয়ে শ্যামলী থেকে রিকশাযোগে শিয়া মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় জাপান গার্ডেন সিটির বিপরীত পাশের সড়কে এসআই রতন তাকে গতিরোধ করেন। ওই ছাত্রীর অভিযোগ, রতন তাকে রিকশা থেকে নামিয়ে একটি দোকানের ভেতরে নিয়ে যান। তার গায়ে হাত দিয়ে তল্লাশীর চেষ্টা করেন। তাকে ইয়াবা ব্যবসায়ীও বানানোর চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে তিনি ছাড়া পেয়ে থানায় অভিযোগ দেন রাতেই। তবে থানা পুলিশ অভিযোগ না নিলে পরে ওই এলাকার ডিসিকে জানানো হয় বিষয়টি। ডিসি তার অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই রতনকে প্রত্যাহার করে নেন।

পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৪ এ তিনি একটি মামলা দায়ের করেন। ওইদিন আদালত মামলা আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। একই দিন তেজগাঁও বিভাগের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের তদন্ত কমিটি ছাত্রী হয়রানির ঘটনায় কোনও প্রমাণ মেলেনি এমন তথ্য জানান ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয় আদালতে। সেখানে বলা হয়, আদালতের নির্দেশে ছাত্রী হয়রানির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে এসআই রতনের বিরুদ্ধে ছাত্রী হয়রানির প্রমাণ পেয়েছে। এরপর আদালত ১৬ ফেব্রুয়ারি এসআই রতনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

/এআরআর/এমএসএম

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ