behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

একান্ত সাক্ষাৎকারে এসএম আতিকুর রহমানস্কুবা ডাইভিং শিখলে বিদেশে প্রচুর কাজের সুযোগ আছে

গোলাম মওলা০৬:০৯, মার্চ ০১, ২০১৬

এসএম আতিকুর রহমানসাগরতলের নায়ক এসএম আতিকুর রহমান— ৩০ বছর যাবত তিনি শত শত তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছেন স্কুবা ডাইভিং। তার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে ‘ওশানিক স্কুবা ডাইভিং সেন্টার’।বর্তমানে তিনি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেভ আওয়ার সি’র সিনিয়র গবেষক। সম্প্রতি স্কুবা ডাইভিংয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি।

বাংলা ট্রিবিউন: স্কুবা ডাইভিং কী ধরনের পেশা ?

এসএম আতিকুর রহমান:  পদ্মা সেতুসহ বাংলাদেশের নদী ও সমুদ্রে বড় বড় বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের আগে পানির নিচের যে তথ্য ব্যবহার করা হয়, তা মূলত স্কুবা ডাইভারদের সরবরাহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। আমাদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পদ্মা সেতুর নদী শাসনের নকশা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া,  পাওয়ার স্টেশন বা পোর্টের কাজেও স্কুবা ডাইভাররা কাজ করেন। এর বাইরে আরও অনেক বড় বড় কনস্টাকশনেও ডাইভারদের কাজ করতে হয়।

বাংলা ট্রিবিউন: এই পেশায় ঝুঁকি কেমন?

এসএম আতিকুর রহমান: স্কুবা ডাইভিং এমন এক ধরনের ক্যারিয়ার, যেটাতে ঝুঁকি আছে। আছে রোমাঞ্চও। এতে  অ্যাডভেঞ্চারের মজাও আছে। 

বাংলা ট্রিবিউন: স্কুবা ডাইভিং শিখে কী ধরনের কাজ পাওয়া যায়? 

এসএম আতিকুর রহমান: স্কুবা ডাইভিং শিখে নিলে দেশে-বিদেশে কাজ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। সমুদ্র-সম্পর্কিত পড়ালেখা, আলোকচিত্রের কাজেও স্কুবা ডাইভিং বেশ উপকারী। এই পেশায় কাজ শেখার ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।   

বাংলা ট্রিবিউন: স্কুবা ডাইভিং পেশার প্রতি মানুষের আগ্রহ কেমন?

এসএম আতিকুর রহমান:  বাংলাদেশে এই পেশায় এখনও বেশি মানুষ আসেননি। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, যেন বাংলাদেশের মধ্যবিত্তরাও প্রশিক্ষণ নিয়ে এই পেশায় এগিয়ে আসতে পারেন। এর ফলে বৈদেশিক মুর্দ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব পড়বে। যারা এই স্কুবা ডাইভিংকে পেশা হিসাবে নিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিচরণ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

বাংলা ট্রিবিউন: স্কুবা ডাইভিং নিয়ে আপনার স্বপ্ন বা লক্ষ্য কী?

এসএম আতিকুর রহমান: বাংলাদেশে স্কুবা ডাইভিংকে একটি শিল্পে রূপান্তর করতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি সাগরতলের অপরূপ সৌন্দর্য ও রহস্যগুলো  উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছি। স্কুবা ডাইভিং পেশাকে বহুমুখী মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউন: এই পেশায় আসতে গেলে কি প্রশিক্ষণ জরুরি?

এসএম আতিকুর রহমান: মনে রাখতে হবে, এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। এ কারণে এই পেশায় আসার আগে অবশ্যই প্রশিক্ষণ নিয়ে তারপর সাগরে নামতে হবে। তবে এমন কারও কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়া যাবে না, যিনি নিজেই ঠিকমতো ডাইভিং জানেন না।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার দৃষ্টিতে এই পেশায় গুরুত্ব কেমন?

এসএম আতিকুর রহমান: স্কুবা ডাইভিং পেশা আর্থিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি করছে। আমি মনে করি, এই পেশা হওয়া উচিত, নিজেকে পৃথিবীর বুকে পরিচিত করা এবং সমাজকে কিছু দেওয়ার জন্য।

সাগরতলে এসএম আতিকুর রহমান

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার নেতৃত্বে কী কী বড় প্রজেক্টের কাজ হয়েছে?

এসএম আতিকুর রহমান: বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবল করার ক্ষেত্রে সাগরের নিচের তথ্য কালেকশন ও স্টাডির টিম লিডার ছিলাম আমি। সম্প্রতি ‘নদী ও জীবনের সন্ধানে’ নামের একটি প্রজেক্টে যে আন্ডার ওয়াটার এক্সপ্লোর টিম গঠন করা হয়েছে, সেখানেও আমি টিম লিডার হয়ে কাজ করছি। আমি নৌবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডে একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে কাজ শুরু করি। পরে যুক্তরাজ্যের একটি বেসরকারি ফার্মে কনসালটেন্ট হিসাবে যোগ দেই। তিন বছরপর কেনাডিয়ান আরেকটি বেসরকারি ফার্মের যোগ দেই। এই দুটি ফার্মের কাজ ছিল মূলত নদী ও সাগরের নিচের বিভিন্ন তথ্য কালেকশন ও স্টাডি করা। এখন পর্যন্ত এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যেতে হচ্ছে। এরবাইরে বড় বড় কয়েকটি কনস্টাকশন প্রজক্টে ইনেকপেকশনের কাজ করতে হচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশে কতজন প্রশিক্ষিত স্কুবা ডাইভার আছেন?

এসএম আতিকুর রহমান: বাংলাদেশে স্কুবা ডাইভারের সংখ্যা হাজার খানেক।

বাংলা ট্রিবিউন: সাগরের কত মিটার গভীরে আপনারা যেতে পারেন?

এসএম আতিকুর রহমান: বাংলাদেশের সাগরে ৩০ মিটার পর্যন্ত পানির গভীরে গিয়ে তথ্য ও ভিডিও চিত্র তুলে আনার সুযোগ রয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: কত দিন ধরে আপনি এই পেশায় আসেন?

এসএম আতিকুর রহমান: আমি ৩০ বছর ধরে আন্ডার ওয়াটার নিয়ে কাজ করছি।

বাংলা ট্রিবিউন: সাগরতলে শুধু চিত্র ধারণ করেন, নাকি অন্য কাজও আছে?

এসএম আতিকুর রহমান: সাগরতলে শুধু চিত্র ধারণই করা হয় না, পানির নিচের ময়লা অপসারণের কাজও করতে হয়।

একান্ত সাক্ষাৎকারে এসএম আতিকুর রহমান

বাংলা ট্রিবিউন: অন্যদেশের ডাইভাররাও কি বাংলাদেশ আসেন?

এসএম আতিকুর রহমান: বাংলাদেশের সাগরেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ রেকর্ডধারী ডাইভাররা এসে ডাইভিং করে যান। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আন্তর্জাতিক ও রেকর্ডধারী ডাইভাররা এসে আমাকে সন্ধান করেন। আমিও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গেলে তাদের সহযোগিতা পাই।

বাংলা ট্রিবিউন: এ পেশায় এলেন কিভাবে?

এসএম আতিকুর রহমান: মেলিটারি ডাইভিং থেকেই স্কুবা ডাইভিংয়ে হাতে খড়ি। প্রশিক্ষণ নিয়েছি  মূলত বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর ডাইভিং ইনস্টিটিউট থেকে। নেভিতে চাকরি করার সুবাধে এই পেশায় আশা। ১৯৮৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এই পেশায় রয়েছি।

/এমএনএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ