দেশটাকে পরিষ্কার করি কার্যক্রমের ২ বছরগণমাধ্যম ভালো কাজের প্রচারে সরব নয়: ফিদা হক

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ১৮:২৫, মার্চ ০৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৮, মার্চ ০৩, ২০১৬

ফিদা হকফিদা হক—তরুণদের নিয়ে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘পরিবর্তন চাই’-এর চেয়ারম্যান। তার প্রতিষ্ঠিত ‘পরিবর্তন চাই’-এর অধীনে ফেব্রুয়ারির প্রথম শনিবার ‘দেশটাকে পরিষ্কার করি দিবস’ পালন করেন।  তরুণদের নিয়ে নতুন কিছু করার, দেশটাকে ভিন্নভাবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি। সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মতো দেশটাকে পরিষ্কার করির কাজ শেষ করে তিনি মুখোমুখি হয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনের। কথা বলেছেন তার বিভিন্ন স্বপ্ন ও উদ্যোগের বিষয়ে। 

পরিবর্তন চাই কর্মসূচি হাতে নিলেন কেন এবং আপনারা কী পরিবর্তন করতে চান?

২০১৩ সালের শেষের দিকে নির্বাচনকে ঘিরে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে উঠেছিল আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভীষণ অবনতি ঘটেছিল, তখন আমি মনে-মনে ভীষণ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিলাম। বয়সে নবীনদের সংখ্যাগরিষ্ঠ একটা গণতান্ত্রিক দেশে রাজনীতি আর সমাজনীতির চর্চা এর থেকে অনেক ভালো, অনেক উন্নতমানের হওয়া উচিত বলেই ভেবেছিলাম।সেই সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন এই  চিত্তবিক্ষিপ্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছিলাম, তখন দেখলাম আমি একা নই। আমার মতো আরও অনেকেই এই অচলায়তন থেকে বের হয়ে আসার উপায়-বুদ্ধি নিয়ে আলোচনা করছেন। তাদের সঙ্গে এককাট্টা হয়েই ‘পরিবর্তন চাই’-এর গঠন এবং আত্মপ্রকাশ।
পরিবর্তন চাই-এর উদ্দেশ্য হলো—সত্য, সুন্দর আর পরিচ্ছন্নতার জন্য আন্দোলন। তাই আমরা সমাজে যত অসঙ্গতি আছে, তার সবকিছুর পরিবর্তন চাই। ঠিক যেমনটি মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, তুমি যে পরিবর্তন দেখতে চাও, নিজেই সেই পরিবর্তন হয়ে ওঠো। কিন্তু সবকিছুর বিরুদ্ধে একসঙ্গে জিহাদ ঘোষণা করা বাস্তবসম্মত নয়। সীমিত পরিসরে, সীমিত সম্পদ নিয়ে কাজ শুরু করে আমরা কয়েকটা বিষয়ে নজর দিলেও এখন মূলত উন্মুক্ত নাগরিক পরিসরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কাজ করাই আমাদের মূল কার্যক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরে একদিন ‘দেশটাকে পরিষ্কার করি’ দিবসও পালন করছি আমরা গত দুবছর।

কিন্তু একদিন দেশটাকে পরিষ্কার করার পর সেটার ধারাবাহিকতা থাকছে কি, অভিজ্ঞতা কী বলে? নাকি আর দশটা এনজিও কর্মসূচির মতোই একটা কিছু করলাম টাইপ কিছু দাঁড়ালো?

না ব্যাপারটা মোটেই একদিনের জন্য নয়। একে তো পরিবর্তন চাই ‘দেশটাকে পরিষ্কার করি দিবসে’র বাইরে সারাবছরই  বিভিন্ন জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম চালাই, তার ওপরে আমরা রাস্তাঘাটে ডাস্টবিন বসানোর বিষয়টাকে ভীষণ গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। বেশ কিছু ডাস্টবিন ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে  ইতোমধ্যে বসিয়েছি। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করাও আমাদের কাজের একটা অংশ। একটা দিন উৎসবের মধ্যে দিয়ে সবাই মিলে দেশটাকে পরিষ্কার করে সবাই সবাইকে যদি সবক্ষেত্রেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সীমাহীন গুরুত্ব মনে করিয়ে দেই–ক্ষতি কী?

দেশটাকে পরিচ্ছন্ন করি কার্যক্রমের অংশ.

কিন্তু আপনার সঙ্গে যারা কাজ করেন, আপনি নিশ্চিত তারা যেখানে- সেখানে ময়লা ফেলেন না কখনও?

না তারা আসলেই যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলছেন না। ‘পরিবর্তন চাই’  তাদের অন্তত এ ব্যাপারে পরিবর্তন করতে পেরেছে। আস্তে আস্তে পরিচ্ছন্নতার এই চর্চা বাইরে থেকে তাদের মনের ভেতরেও ঢুকে পড়বে। তখন তাদের মন হবে পরিচ্ছন্ন। এভাবেই নতুন প্রজন্ম আর বাংলাদেশ একদিন বদলে যাবে। ভালোর দিকে। তবে এই মুহূর্তে সিটি করপোরেশনগুলোর উচিত শহরের সব জায়গায়– বিশেষ করে ব্যস্ত জায়গাগুলোয় যথাযম্ভব ডাস্টবিন বসানো আর শহরের সার্বিক বর্জ্য ব্যবস্থাপণাকে জোরদার করা।

দুবছর হয়ে গেল। এখন তো আত্মসমালোচনার সময় এসেছে। কিন্তু আমরা বহুজনের সঙ্গে এই দিবসের কার্যক্রম নিয়ে কথা বললাম। আপনাদের কার্যক্রম কেন ব্যাপকভাবে পরিচিতি পেল না?

সম্পূর্ণ একমত নই। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, ‘পরিবর্তন চাই’-এর ‘দেশটাকে পরিষ্কার করি’ কার্যক্রমের সঙ্গে তরুণ প্রজন্ম ব্যাপকভাবে পরিচিত, বিশেষ করে যারাই একটু পরিবর্তন আর পরিবেশ-মনস্ক। আর নতুন একটা অভ্যাসের চর্চা নিয়ে কাজ করতে গেলে দুবছর যথেষ্ট সময় নয়। তবে আমরা আত্ম-পর্যবেক্ষণ আর আত্মসমালোচনা অবশ্যই করি। আরেকটা বিষয় বলব, আমাদের দেশের মিডিয়া কেন জানি ভালো কাজগুলোর প্রচারের ব্যাপারে খারাপ কাজগুলোর মতো করে উচ্চকিত হয় না। কিন্তু ভালো কাজেরও প্রচারের দরকার আছে।

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ