শুভবোধের উদয় হোক

Send
লীনা পারভীন
প্রকাশিত : ১৬:৪৪, মার্চ ০৫, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪৮, মার্চ ০৫, ২০১৬

লীনা পারভীনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নতুন করে নিশ্চয় কারও কাছে পরিচিত করতে হবে না। এই বাংলাদেশ যেখানে আজ আমরা দাঁড়িয়ে নিজেকে বড় নেতা ভাবি, যে মাটিতে দাঁড়িয়ে আমরা কথা বলি, সরকার-বিরোধী আন্দোলন করি, সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী আন্দোলন করি তার কিছুই হতো না যদি না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষকগণ তা না চাইতেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়তে আসেন তাদেরকে সমাজের অনেক মেধাবী, এগিয়ে থাকা এবং কোনও কোনও অর্থে ভাগ্যবান মনে করা হয়। ধরেই নেওয়া হয় সেখানে শিক্ষার্থী যারা পড়াশুনা করেন তারা হচ্ছেন বাংলাদেশের ভবিষ্যত নেতা বা দিকপ্রদর্শক। ইতিহাস অন্তত তাই বলে। হতে পারে কালের বিবর্তনে তার চেহারা কিছুটা বিবর্ণ হয়ে গেছে, তাই বলে কি সবকিছু শেষ হয়েছে?
এসব কথা বলার একটাই কারণ। সাময়িককালে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি দেখিনি, রাজনৈতিক কোনও আন্দোলন দেখিনি। হ্যাঁ, কিছু প্রতিবাদ হয়েছে। আর প্রতিবাদের নামে কখনও কখনও ঔদ্ধত্যপনা দেখেছি। আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্ক্ষলা দেখেছি।
সম্প্রতি কিছুদিন ধরে ফেসবুকে এমনই এক আন্দোলনের একটি ভিডিও দেখছি। মেট্রোরেল নিয়ে যে প্রতিবাদী ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে সেখানে দেখলাম একজন ভিডিওটি শেয়ার করে কমেন্ট করেছেন, ‘৮ বছরের দুঃশাসনের জীবনে এমন ধরা জীবনেও খায় নাই... হু হু কইরা কানব আইজকা রাইতে আর প্রতি অমাবস্যা আর পূর্ণিমায় এই ব্যাথা আবার আইব...”ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আমি এতে লজ্জিত, ঘৃণিত বোধ করছি। আমরাও প্রগতিশীল আন্দোলন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অনেক সফল আন্দোলনের সামনেই ছিলাম। হলে আন্দোলন করেছি প্রভোস্টের বিরুদ্ধে কিন্তু কোনওদিন শিক্ষকের গায়ে হাত তোলাতো দূরে থাক, ধাক্কা দেওয়ার কথাও মাথায় আসেনি আমাদের। অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে চলতো আমাদের তর্ক-বিতর্ক। আমার সময়ে ছিলো ভিসি আজাদ স্যার, প্রভোস্ট ছিল নবী স্যার। ওনাদের সঙ্গে প্রচুর তর্ক করেছি, উঁচু গলায় কথা বলেছি। আবার স্যাররা পরে ডেকে আমাদেরকে আদরও করে দিতেন। আন্দোলন সফল হয়েছে আবার স্বাভাবিক সম্পর্কে আমরা ফিরে যেতাম।

কিন্তু আজকে এ কী অবস্থা? এর নাম আন্দোলন? এর নাম প্রগতিশীলতা? এর নাম সফলতা? একজন শিক্ষকের সম্পর্কে এমন মন্তব্য কোন রুচিতে আসে? এদের নেতারাই বা কোন রাজনৈতিক শিক্ষা দিচ্ছেন এদেরকে? কোন আদর্শের রাজনীতি করে এরা? এদের নেতৃত্ব যদি হয় সন্ত্রাসী তৈরি করা হয়, তাহলে এদেরকে রুখে দেওয়ার এখনই সময়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিও অনুরোধ রইলো আপনারা দয়া করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন, জাতি আপনাদের দিকেই তাকিয়ে থাকে। বর্তমানে আমরা অসম্ভব এক দুঃসময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। কে কোন মতের বা পথের অনুসারী তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বিভক্তি তৈরি হচ্ছে সু-পরিকল্পিতভাবে। এখনই যদি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের এগিয়ে নিতে না পারি তবে বাংলাদেশ কোন পথে যাবে তা কি আমরা নিশ্চিত? আমাদের ভবিষ্যত তাহলে কোন দিকে যাবে?

একটি দেশকে সামনে নিয়ে যেতে হলে এগিয়ে আসতে হবে সমাজের প্রতিটি মানুষকে। একা কারও পক্ষে দেশ এগিয়ে নেওয়া কখনওই কোনও আমলেই সম্ভব ছিলো না হবেও না। আশা করছি শুভবোধ এবং বুদ্ধির উদয় হবে সবার মধ্যে।

লাইভ

টপ