সম্পত্তির মালিকানায় বঞ্চিত দেশের বেশির ভাগ নারী

সম্পত্তির মালিকানায় বঞ্চিত দেশের বেশির ভাগ নারী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট১৯:৪৮, মার্চ ০৭, ২০১৬

সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হলেও সম্পত্তির লিখিত মালিকানার ক্ষেত্রে অধিকার বঞ্চিত হচ্ছেন বেশির ভাগ নারী। অধিকার থাকলেও দেশের প্রায় ৫৪ শতাংশ নারীর সম্পত্তির লিখিত মালিকানা নেই, গ্রামের তুলনায় শহুরে নারীদের ক্ষেত্রে এই বৈষম্যের হার আরও বেশি।

সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনের দেশব্যাপী পরিচালিত 'পরিবারে নারীর ক্ষমতায়ন' বিষয়ক জরিপে দেখা গেছে- দেশের ৫৪.৮৮ শতাংশ নারীর কাছে তাদের অধিকারভুক্ত সম্পত্তির কোনও লিখিত মালিকানা নেই। ২৪০০ জন গ্রামীণ নারীদের মধ্যে এই হার প্রায় ৫৩ শতাংশ, সমানসংখ্যক শহরে বসবাসকারী নারীদের ক্ষেত্রে তা ৫৬ শতাংশ।

এদিকে জরিপের ফলাফলে আরও দেখা গেছে, নিজের সম্পত্তি ভোগ করার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন কর্মজীবী নারীরা। ১৬০০ জন কর্মজীবী নারীদের মধ্যে ৩৯.৬৯ শতাংশ জানিয়েছেন- তারা তাদের প্রাপ্ত সম্পত্তি ভোগ করতে পারছেন, নিজের সম্পত্তি ভোগে স্বাধীনতা নেই বলে জানিয়েছেন ২৪.৮১ শতাংশ কর্মজীবী নারী। অপরদিকে ১৬০০ জন গৃহিণীদের ৩১.৭৫ শতাংশ জানিয়েছেন তারা ভোগ করতে পারছেন। ২৯.৪৪ শতাংশ জানিয়ছেন তারা স্বাধীনভাবে নিজেদের সম্পত্তি ভোগ করতে পারছেন না। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, এই প্রশ্নে ৩৮.৮১ শতাংশ গৃহিণী ও ৩৫.৫০ শতাংশ কর্মজীবী নারী মতামত দেননি।

উল্লেখ্য, দেশের আটটি বিভাগে ৬০০ জন করে মোট ৪৮০০ জন নারীর ওপর বাংলা ট্রিবিউন এই জরিপ পরিচালনা করে।

গ্রাফিক্স: রাশেদ বাবু

 

জরিপ পরিচালনা:  বাংলা ট্রিবিউন

জরিপ পরিচালনার সময়কাল: ২২ ফেব্রুয়ারি- ২৯ ফেব্রুয়ারি         

নমুনা (sample) সংগ্রহের প্রক্রিয়া:
১. প্রতিটি বিভাগে ৩০০ জন শহুরে এবং ৩০০ জন গ্রামীণ নারীকে ২০টি করে প্রশ্ন করা হয়। (এভাবে আটটি বিভাগে মোট ৪ হাজার ৮০০ জনের ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়)।

২. শহুরে বলতে বোঝানো হয়েছে- বিভাগীয় শহরে বসবাসকারী নারী এবং গ্রামীণ বলতে বোঝানো হয়েছে- জেলা, উপজেলা, থানার গ্রাম পর্যায়ে বসবাসকারী নারী।

৩. শুধু নারীদের ওপরই এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।  
৪. পেশাভিত্তিক অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা সমান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থী ১০০ জন, কর্মজীবী নারী ১০০ জন এবং গৃহিণী ১০০ জন।
৫. দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নির্বাচিত প্রতি অংশগ্রহণকারীর উত্তর নেওয়ার পর ৫ মিনিট অন্তর অংশগ্রহণকারী নির্বাচন করা হয়।

৬. জরিপকারীরা একই স্থানে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা অবস্থান করেছেন।  
৭. নমুনা সংগ্রহের জন্য জেলা/বিভাগের হাটবাজার/শপিংমলকে স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

৮. দেশের আটটি বিভাগে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।

লাইভ

টপ