behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

রাস্তার সদ্ব্যবহার হচ্ছে না: ড. এসএম সালেহউদ্দিন

ওমর ফারুক০১:৪০, মার্চ ০৮, ২০১৬

ড. এসএম সালেহউদ্দিনঢাকা শহরের জন্য মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের সময় ভূমি ব্যবহারের সঙ্গে-সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থাকে আমলে আনা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন অথরিটির (ডিটিসিএ) সাবেক অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এসএম সালেহউদ্দিন। তিনি বলেন, এত বড় শহরের জনসংখ্যা কেমন হবে, সে তুলনায় কী পরিমাণ গাড়ি ও সড়ক লাগবে—এ বিষয়গুলো ছিল উপেক্ষিত। এর ফলে শহরে কেবল দালান-কোঠা উঠেছে। সে তুলনায় রাস্তা বাড়েনি। একটা নগরীতে যেখানে ২৫-৩০ শতাংশ রাস্তা দরকার, সেখানে আমাদের আছে মাত্র ৮-৯ শতাংশ। রাস্তা যা আছে, তার সদ্ব্যবহার হচ্ছে না। পরিণতিতে ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। ঢাকাকে বাঁচাতে এখন সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ সব কথা বলেন।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি বলছেন, ভূমি ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবহন নিয়ে অতীতে কোনও সমন্বিত পরিকল্পনা হয়নি। তাহলে আপনারা কী করলেন?

ড. এসএম সালেহউদ্দিন: ডিটিসিবিতে থাকাকালে আমরা বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ঢাকা মহানগরীর জন্য কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা বা স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান-এসটিপি প্রণয়ন করি। ২০০৩-০৬ পযন্ত নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এসটিপি প্রণয়ন করা হয়। অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত এসটিপি প্রণয়ন কমিটিতে আমি ছিলাম সদস্য। ২০২০ সাল পর্যন্ত বিশ বছরের জন্য প্রণীত এসটিপি সরকারের অনুমোদন পায় ২০০৮ সালে। এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে মন্ত্রিসভার মাধ্যমে আবারও অনুমোদন দেয়।

বাংলা ট্রিবিউন: কী আছে এসটিপিতে?

ড. এসএম সালেহউদ্দিন: ঢাকা মহানগরীতে সুন্দর পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় অন্তত ৫০টি প্রস্তাব করা হয়েছে এই পরিকল্পনায়। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—গণপরিবহনের জন্য মেট্রোরেল এবং বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), পূর্ব-পশ্চিমমুখী সড়ক নির্মাণ, সার্কুলার সড়ক, সার্কুলার ওয়াটারওয়ে, পথচারীদের জন্য নিরাপদে পায়ে হাঁটার পথ তৈরি, রেল সার্ভিসের উন্নয়ন, বাস রুট ফ্রাঞ্চাইজ-বিআরএফ, রিকশা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি।

বাংলা ট্রিবিউন : কিন্তু এগুলোর একটাও তো বাস্তবায়ন করা হয়নি।

ড. এসএম সালেহউদ্দিন: হ্যাঁ, তা ঠিক। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে উত্তরা থেকে সদরঘাট পর্যন্ত বিআরটি-৩ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিআরটি হলো- সড়কের মাঝখান নিয়ে বিশেষ লেন তৈরি করা হবে, যেখান দিয়ে শুধু গণপরিবহন চলাচল করবে। এটা করতে পারলে গণপরিবহন নিরবচ্ছিন্নভাবে চলাচল করতে পারবে। কিন্তু এই বিআরটি সম্পন্ন করা যায়নি।

তবে আশার কথা হলো, দেরিতে হলেও সরকার মেট্রোরেল লাইন-৬-এর (উত্তরা-মিরপুর-ফার্মগেট-মতিঝিল) কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এর সয়েল টেস্ট হয়ে গেছে। উত্তরায় ডিপো তৈরির কাজ চলছে।

বাংলা ট্রিবিউন : কিছুদিন আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন যে, মেট্রোরেল তিন স্তরে নির্মাণ করা হবে।

ড. এসএম সালেহউদ্দিন: আমিও এ কথা শুনেছি। আমার মনে হয়, মেট্রোরেলকে যদি উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এনে চালু করা হয়, তাহলে সুফল আসবে না। কারণ উত্তরার মানুষ মেট্রোরেলে চড়ে আগারগাঁও পর্যন্ত এসে বাঁকিপথ চলাচল করবে কিভাবে? তারা কি মেট্রোরেল থেকে নেমে আবারও বাসে গাদাগাদি করে মতিঝিল আসতে চাইবেন? মনে হয় না। এ কারণে লোকজন এখনকার মতো বাস কিংবা প্রাইভেটকার নিয়েই চলাফেরা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। এমন পরিস্থিতি এড়াতে মতিঝিল না হোক প্রথম দফায় অন্তত কাওরান বাজার পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করা হলে সুফল পাওয়া যাবে।

বাংলা ট্রিবিউন: এসটিপি বাস্তবায়ন কি বিআরটি কিংবা মেট্রোরেলেই সীমাবদ্ধ?

ড. সালেহউদ্দিন : সবকিছুর আগে আমরা বাস রুট ফ্রাঞ্চাইজ-বিআরএফ চালু করেছিলাম। বিআরএফ হলো এমন একটি সিস্টেম যা অনুসরণে একটি রুটে কেবল একটি কোম্পানির বাস চলবে। তাহলে ওই রুটটিতে একাধিক কোম্পানির বাস যাত্রীদের নিয়ে টানাটানি করবে না। অহেতুক সড়কে দাঁড়িয়েও থাকবে না। ২০০৯ সালে আজিমপুর থেকে উত্তরা পর্যন্ত রুটে বিআরএফ চালু হয়। ছয় মাস বিআরএফ খুব ভালো চলছিল। কিন্তু পরিবহন মালিকরা ছয় মাস পরই এ রুটে অন্য কোম্পানির কিছু মিনিবাস ঢুকিয়ে দেন। এর ফলে বিআরএফ তছনছ হয়ে যায়।

বাংলা ট্রিবিউন : এতগুলো পরিকল্পনার মধ্যে বর্তমানে মাত্র একটি বাস্তবায়নের পথে এগুচ্ছে। এতে সুফল কতটা আসবে?

ড. এসএম সালেহউদ্দিন:  এসটিপির সবগুলো সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে শুধু এক-দুইটা বাস্তবায়ন করলে সুফল আসবে না। কারণ, এখন যদি মেট্রোরেল চালু করা হয়, তাহলে সবাই মেট্রোরেলের দিকে ছুটবে। মেট্রোরেলের প্রতি ঘণ্টায় যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৬০ হাজার। সব মানুষ ছুটে এলে মেট্রোরেলে তো জায়গা হবে না। তখন যাদের গাড়ি আছে তারা নিজেদের গাড়ি নিয়ে চলাফেরা করবেন। সমস্যা তো থেকেই যাবে। এর সঙ্গে যদি বিআরটি করা যায়, তাহলে কিছুটা সুফল পাওয়া যাবে।

বাংলা ট্রিবিউন: এসটিপির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র চার বছর বাকি। কিন্তু কিছুই হল না। মেয়াদ শেষে এসটিপির কী হবে?

ড. এসএম সালেহউদ্দিন: দেখতে দেখতে সময় পার হয়ে গেছে। তবুও আমরা হতাশ নই। কারণ এসটিপি সংশোধনের কাজ চলছে। এর মেয়াদ আবার বাড়বে। তবে যাই হোক, সব কাজই যেন সমন্বিতভাবে করা হয়।

বাংলা ট্রিবিউন: এত পরিকল্পনা হচ্ছে, কিন্তু সময় মতো বাস্তবায়ন হচ্ছে না, সুফলও আসছে না। আমরা কি এভাবে চলব?

ড. এসএম সালেহউদ্দিন:  আমি সব সময় বলে থাকি, শিডিউল অনুযায়ী সময় মতো যেন প্রতিটি কাজ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। যাদের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হবে, মানসম্পন্ন কাজ হবে না, তাদের অবশ্যই শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। না হলে একের পর এক পরিকল্পনা করেও সুফল পাওয়া যাবে না। তখন প্রকল্পের নামে শুধু ব্যয় বাড়বে, আর মানুষের ভোগান্তিও বাড়বে। মূল কথা ‘কস্ট, কোয়ালিটি ও টাইম’—এ তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে না পারলে মানুষের চাহিদা পূরণ হবে না।

বাংলা ট্রিবিউন: এসব তো গেল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা। মানুষ যেন দ্রুত উপকার পায়, সে জন্য স্বল্প মেয়াদি কী করলে এই নৈরাজ্য থেকে রেহাই পাওয়া যায়?

ড. এসএম সালেহউদ্দিন:  আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি—ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা, রাস্তা থেকে বাজার তুলে দেওয়া, মার্কেটের সামনে ও সড়কে পার্কিং বন্ধের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থা করে দিলে নগরীর যানজট কমপক্ষে দশ শতাংশ কমে যাবে। ঢাকার দুই মেয়র ফুটপাত দখলমুক্ত করতে যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে সবার সহযোগিতা করা দরকার।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি গণপরিবহনের রুট পুনর্বিন্যাস করতে হবে। এক রুটে যেন একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল করতে না পারে, সেদিকে জোর দিতে হবে। কেননা একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাস চলে বলে সারাক্ষণই অসুস্থ প্রতিযোগিতা হয়। এতে দুর্ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা সব সময় লেগে থাকে।

বাংলা ট্রিবিউন: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সম্প্রতি কয়েকটি সড়কের মোড়ে মোড়ে ইউ-লুপ নির্মাণ করার কথা ঘোষণা করেছে। এই ইউ-লুপ কি এসটিপির সুপারিশ বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাড়াবে না?

ড. এসএম সালেহউদ্দিন:  ইউ-লুপ নির্মাণ এসটিপির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না। এসটিপিতে এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণে বাধা নেই। এসব বিবেচনা করে গাজীপুর থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত ২২টি মোড়ে ইউ-লুপ নির্মাণ হবে। এর ফলে যানবাহনের ডানে মোড় নেওয়া বন্ধ হবে। তখন নিরবচ্ছিন্নভাবে গাড়ি চলাচল করতে পারবে। এখন যেমন ডানে মোড় নেওয়ার জন্য গাড়ি রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে, ইউ-লুপ নির্মাণ হলে এমন হবে না।

/এমএনএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ