behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ মডেল: ডিসি লালবাগ

আমানুর রহমান রনি১২:২১, মার্চ ১০, ২০১৬

ডিসি লালবাগ মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ (২)

জঙ্গি মোকাবেলায় বাংলাদেশ পুলিশ বিশ্বমানের ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ। তিনি মনে করেন, পুলিশের দক্ষতার কারণেই কখনও জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি। সারা বিশ্ব বাংলাদেশকে জঙ্গি দমনে মডেল হিসাবে গ্রহণ করতে পারে। বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়াও এই পুলিশ কর্মকর্তার লেখালেখির বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। এবারের বই মেলায় ‘খেয়াল’ নামে তার একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। যা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। সাক্ষাতকারের চুম্বকাংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

বাংলা ট্রিবিউন : পুলিশ পেশা মহৎ হলেও বাংলাদেশে মানুষের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব রয়েছে, পুলিশকে নিয়ে মানুষ নীতিবাচক কথা বলে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এই পেশায় ঝুঁকিও রয়েছে। এসব জেনেও কেন এই পেশায় আসলেন?

মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ : পুলিশ জীবনের বাস্তবতা নিয়ে কাজ করে। মানুষের জীবনের অনেক কথা আছে যা অন্য মানুষকে বলতে পারে না তা পুলিশকে বলতে পারে। পুলিশ মানুষের বিপদ আপদের সবসময়ের বন্ধু। তাই দেশের মানুষের জন্য এবং দেশের সেবা করার জন্যই পুলিশে যোগদান করেছি।

বাংলা ট্রিবিউন : বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে কোন অপরাধ প্রবণতা বেশি দেখা যায়?

মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ : আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে ছোটখাটো অপরাধ বেশি দেখা যায়। চুরি, ডাকাতি, খুন ও ছিনতাই। এসব অপরাধই বেশি দেখা যায়। তাছাড়া উত্তেজনার মূহুর্তে আমাদের দেশের মানুষ বড় অপরাধ করে ফেলে। হুজুগে বাঙালি বলি না আমরা? হুজুগের তালে পড়ে অনেকে অনেক কিছুই করতে পারে। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তারা সহজেই যে কোনও বিষয়ে আসক্তি হতে পারে। অপরাধে জড়ায়। তারা ভালো কাজও করতে পারে। খারাপ কাজও করতে পারে। এ বিষয়ে শিক্ষার বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ধর্মীয় শিক্ষাটাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে না বুঝে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ না করাই ভালো। আমরা অনেক জঙ্গিকে দেখেছি তারা কোরআনে হাফেজ। কিন্তু তাদেরকে কোরআন হাদীসের ও ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে জঙ্গিবাদে জড়ানো হয়েছে। তাদের সামনে যখন ভালো আলেম বসিয়ে দিয়েছি, তখন তারা জঙ্গিবাদের পক্ষে যুক্তি দিয়ে পারেননি। অতএব প্রাতিষ্ঠানিক ও ধর্মীয় শিক্ষা সঠিকভাবে গ্রহণ করতে হবে। তাহলে অপরাধ কমে আসবে। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক মুক্তিরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি জঙ্গিবাদের কথা যেহেতু বললেন, তাই জানতে চাই, বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশেও জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে। কখনও কখনও দেশীয় বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য গ্রেফতার হচ্ছে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের প্রভাব কেমন?

ডিসি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ

মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ: আপনি একটি ভালো প্রশ্ন করেছেন। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ যখনই মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করেছে, তখনই পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দমন করেছে। সারা বিশ্বে তা একটা মডেল হওয়ার মতো দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশ্বমানের ভূমিকা রেখেছে। অতীতে বলেন, নিকট অতীতে বলেন বা সাম্প্রতিক সময়ে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গি দমনে চমৎকার ভূমিকা রেখেছে। 

বাংলা ট্রিবিউন: জঙ্গিবাদ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি?

মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ: আমাদের সমাজে অনেক জায়গায় সামাজিকভাবে লোকজন মিলিত হয়। যেমন, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ। এসব জায়গায় আসা মানুষকে সহজে সচেতন করা যায়।একজন ইমাম সাহেব যদি মসজিদে জঙ্গিবাদের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করেন, তাহলে তা সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়। কারণ, ইমাম সাহেবদের কথা সবাই বিশ্বাস করেন। আমি আমার এলাকার সব মসজিদের ইমাম সাহেবদের নিয়ে বৈঠক করেছি। তাদের বলেছি, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বয়ান করার জন্য। তারা তা করছেন। এছাড়াও মিডিয়াও এজন্য ভূমিকা রাখতে পারে। আমার একটি মানবতার ধর্মের কবিতায় আমি এই কথা বলেছি।

বাংলা ট্রিবিউন: আমাদের পাঠকদের জন্য কবিতার দুই লাইন পড়ে শোনাবেন?

মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ: একসেকেন্ড, বইটি দেখে বলি। এই কবিতায় আছে যে-

মহান সৃষ্টিকর্তা

সারাবিশ্বের অধিকর্তা,

করেন না কোনও ভুল

যুগ যুগ ধরে মানবের তরে

পাঠালেন নবী রাসূল।

 

বাংলা ট্রিবিউন: আমদের দেশে জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের সংখ্যা কম। এতে পুলিশি সেবা দিতে কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা?

মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ: অবশ্যই পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো উচিৎ। বর্তমান সরকার ৫০ হাজার পুলিশ নিয়োগ দিচ্ছে। আমি জনবল বাড়ানোর চেয়ে ঘন ঘন প্রশিক্ষণের বিষয়ে জোর দিতে বলব। দক্ষ পুলিশরা বেশি কাজ করতে পারবে।

বাংলা ট্রিবিউন: বর্তমানে ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেটিড কার্ড জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের একটি বিষয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা কেমন রয়েছে?

মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ: সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় আমাদের বড় সক্ষমতা রয়েছে। তবে সবকিছু মিডিয়াতে বলা যাবে না। তাহলে অপরাধীরা এসব বিষয়ে জেনে যাবে। এসব বিষয়ে আমরা গোপনেই কাজ করি। কৌশলগুলো আমরা বাইরে প্রচার করি না।

বাংলা ট্রিবিউন : থানাকে নারীবান্ধব করা ক্ষেত্রে আর কি কি কাজ করা যায়?

মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ: আপনি জানেন, আমাদের প্রতিটি থানা নারীবান্ধব। নারী পুলিশ নারীদের সমস্যার কথা শুনে থাকে। তাছাড়াও থানায় শিশুডেস্ক রয়েছে। থানায় আরও নারী পুলিশ বাড়ানোর কাজ চলছে।

বাংলা ট্রিবিউন : পুলিশ কি বর্তমানে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারছে কিনা?

মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ: দেখেন আমরা সরকারি চাকরি করি। আমাদের একটি নীতিমালার মাধ্যমে চলি। পুলিশের আচরণ বিধিমালা ঠিক রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বাংলা ট্রিবিউন : শুনেছি আপনি লেখালেখি করেন। এবারের ২১ শে বইমেলায় ‘খেয়াল’ নামে আপনার একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা লেখালেখির মাধ্যমে সমাজ সেবায় কিভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন?

মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ: অবশ্যই, এখানে আমার আর একটি কবিতা আছে। কবিতার নাম নেশা। নেশা কবিতার দুইটি পার্ট। একটি পার্টে খারাপ নেশা আর একটিতে ভালো নেশার কথা বলেছি। মানুষ যখন মাদক নেয় তখন তা খারাপ নেশা, আবার সে যখন বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলে তখন তা ভালো নেশা। প্রত্যেকের উচিৎ ভালো নেশায় আসক্ত হওয়া। আমি মনেকরি একজন পুলিশ তার সার্ভিসের পাশাপাশি লেখালেখি করে সমাজে ভূমিকা রাখতে পারেন।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি লেখালেখি করেন কত বছর ধরে?

ডিসি লালবাগ মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ (১)

মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ: আমি ১৯৮৩ থেকে লেখালেখি করি। স্কুলজীবন থেকেই লেখালেখি শুরু করি। এরপর কিছুদিন গ্যাপ পড়েছিল।এখন আবার চলছে। এবারের বই মেলায় আমার একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। আপনি নাম বলেছেন। এটাই আমার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এখানে ৩৯ কবিতা রয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি বলেছেন আপনার লেখালেখিতে বার্তা থাকে। আপনার কবিতা গুলোয় আসলে কি ধরনের বার্তা রয়েছে?

মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ: আমার কবিতায় মাদক, ট্রাফিক, যানজট, বসন্ত, পয়লা বৈশাখ, ভাষা, মা ও মাটি, শিক্ষা, রিকশাওয়ালাদের মতো শ্রমজীবী মানুষের বার্তা রয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: ব্যস্ততার মধ্যেও লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশিং ও লেখালেখির সমন্ময় করেন কিভাবে?

মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ : লেখালেখির জন্য চিন্তা, অনুশীলন অধ্যয়নের ধৈর্য লাগে। এর জন্য অবশ্যই সময় দরকার। ভাবনার জন্য। তবে পুলিশিং আগে। তারপর লেখালেখি। আমি অনেক অনুষ্ঠানে বসে কিংবা অবসরে ও গাড়িতে বসে কবিতা লিখেছি।

বাংলা ট্রিবিউন: কবিতা ছাড়া সাহিত্যের আর কোনও দিকে আপনার বিচরণ রয়েছে কি?

মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ: কবিতা ছাড়া গল্প লিখেছি। জাতিসংঘের মিশনে থাকতে ‘শান্তির হাসি’ এবং ‘আটলান্টিকের গর্জন’ নামক পৃথক দুটি ছোট গল্প লিখেছি।

বাংলা ট্রিবিউন: ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করি। ভালো থাকবেন।

মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ: বাংলা ট্রিবিউনকেও ধন্যবাদ।

/এআরআর/টিএন/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ