behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

একান্ত সাক্ষাৎকারে ‘বেড়াই বাংলাদেশ’-এর মাহমুদ হাসান খানবিদেশিদের বাংলাদেশ দেখাতে চাই

এমরান হোসাইন শেখ২০:৪৮, মার্চ ১১, ২০১৬

টিমের সঙ্গে মাহমুদ হাসান খান‘বাংলাদেশিদের বিদেশ নয়, বিদেশিদের বাংলাদেশ দেখাতে চাই। মানুষকে নিয়ে যেতে চাই প্রকৃতির কাছাকাছি। খুঁজে বের করতে চাই দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নতুন-নতুন পর্যটন স্পট।’ কথাগুলো বলছিলেন দেশের একদল ভ্রমণ পিপাসুর সমন্বয়ে গঠিত ফেসবুক গ্রুপ ‘বেড়াই বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদ হাসান খান। যিনি একযুগেরও বেশি সময় ধরে মনের টানে ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে। নতুন-নতুন পর্যটন ডেস্টিনেশন খুঁজে বের করে তা দেশি-বিদেশিদের কাছে পরিচিত করেছেন। ভ্রমণের নেশায় বিদেশি কোম্পানির উচ্চ বেতনের চাকরিও ছেড়েছেন। বৃহস্পতিবার বাংলা ট্রিবিউনের আলাপকালে বলেছেন নিজেরে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা। 

বাংলা ট্রিবিউন: ভ্রমণের প্রতি আপনার আগ্রহটা সৃষ্টি হলো কিভাবে? 

মাহমুদ হাসান খান: ভ্রমণের নেশাটা আমার ছোট বেলায় গড়ে ‍ওঠা পরিবেশ থেকেই হয়। আমার জন্ম নানাবাড়িতে। বরিশালের এই জায়গাটা অনেক সু্ন্দর ছিল। গাছপালা, জঙ্গল, নদীনালাবেষ্টিত। এ কারণে ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি একটা ঝোঁক তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আমার আব্বা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাকরি করেছেন। ওই চাকরির সুবাদে আমাকেও সেসব জায়গায় থাকতে হয়েছে। এসব কারণেই প্রকৃতির প্রতি আমার আগ্রহটা গড়ে উঠেছে। তবে, আমি চাকরিতে যোগদান করার পর বেশ খানিকটা সমস্যায় পড়ে যাই। কোরিয়ান একটি পেপার মিলের প্রধান কার্যালয়ে চাকরি করতাম। এই চাকরির কারণে চাইলেও কোথাও সেভাবে সময় করে যেতে পারতাম না। তখন সব সময় মনটা খারাপ থাকত। পরে অবশ্য আস্তে-আস্তে একটা পর্যায়ে শুক্রবার ঢাকার আশপাশে বের হওয়া শুরু করলাম। এরপর বিয়ে পরেও তা অব্যাহত রাখি। বন্ধের দিন সাধারণত আমরা ঢাকা থাকতাম না। পাহাড়-জঙ্গল­-নদী এ রকম প্রকৃতির কোথাও গিয়ে ঈদ করতাম। অচেনা কোনও গ্রামেও চলে যেতাম। নিজেরা বাজার করে কোনও পরিবারের মাধ্যমে তা রান্না করিয়ে সবাইকে নিয়ে মজা করে খেতাম। পরে আমার স্ত্রী-সন্তান সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে যাওয়ায় ফেসবুকে এটা গ্রুপ করার চিন্তা করলাম। যদি ১০/১২ জনের মতো পাই তাদের নিয়ে ঘোরাঘুরি করব। ফেসবুকের পেজের নাম দিয়েছি বেড়াই বাংলাদেশ আর ইংরেজিতে ভিজিট বাংলাদেশ। গ্রুপটা খোলার এই ঘোরাঘুরি আরও বেড়ে গেল। গত ৩ বছর কোনও শুক্রবার ঢাকায় থাকিনি। যদি কোনও শুক্রবার বা বন্ধের দিনে আনুষ্ঠানিক ট্যুর প্লান নাও থেকে থাকে দেখা যায় বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়ে ঢাকার নিকটে কোনও প্রকৃতির দেখতে যওয়ার কথা বলে যাত্রার স্থান ও সময় জানিয়ে দিলাম দেখা গেল সেখানে ২০/২৫জন জড়ো হয়ে গেছে। এভাবে পরিকল্পনা করে বা পরিকল্পনা ছাড়াই আমাদের ঘোরাঘুরি চলছে।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি কি ঘোরাঘুরির নেশা থেকে চাকরি ছাড়ছেন না কি অন্য কিছু?

মাহমুদ হাসান খান: হ্যাঁ, সম্পূর্ণ ঘোরাঘুরির নেশায় চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। চাকরির কারণে অনেক সময় চাইলেও ইচ্ছামতো কোথাও যেতে পারতাম না। কাছেই আমি মনে মনে চাকরি ছেড়ে স্বাধীনমতো কিছু একটা করার প্রচেষ্টা করেছি। ভালো কিছু করতে না পারলেও চাকরি ছেড়ে ঘোরাঘুরি নিয়ে মনের দিক থেকে অনেক শান্তিতে আছি। সময়টাও সুন্দর করে কাটাতে পারছি।

বাংলা ট্রিবিউন: ঘোরাঘুরির মধ্যে লাভজনক কিছু কি আপনি পাচ্ছেন?

মাহমুদ হাসান খান: কোনও লাভের চিন্তা থেকে আমি বেড়াই বাংলাদেশ গড়ে তুলিনি। একান্ত নিজের ঘোরাঘুরির ইচ্ছা থেকে এই গ্রুপটা গড়ে ‍তুলেছি। এই গ্রুপের পক্ষ থেকে আমরা যেসব ট্যুরের ব্যবস্থা করি সেটা আমার মনের তাগিদেই করি। এখানে কোনও ধরনের বাণিজ্যিক চিন্ত‍া হয় না। বরং কোনও ট্যুরের পরে যদি কিছু অর্থ বেঁচে যায় সেটা ‍ মানবতার সেবায় খরচ করে থাকি। তবে, এর বাইরে আমার ‘ট্রিপ বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মাধ্যমে আমি বিদেশিদের বাংলাদেশ ভ্রমণে সহযোগিতা করে থাকি। সেখানটায় কিছুটা আর্থিক লাভালাভের বিষয় আছে। অবশ্য এর পেছনে আমরা মূল উদ্দেশ্য লাভবান হওয়া নয়, বিদেশিরা যেন বাংলাদেশ দেখতে আসেন তাকে প্রমোট করা। আমি বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পর্যটনবিষয়ক মাগ্যাজিন Thorn tree, India mike, trip advisor, lonely planet—এসবে দেশের প্রকৃতি ও পর্যটন নিয়ে অনেক লেখালেখি করেছি। এতে অনেকে আগ্রহ দেখাতেন আসার জন্য। আমি তাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে ছবি ঠিকানা দিয়ে তাদের আনতাম। বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করতাম। তাদের জন্য গত ১০ বছর ধরে আমার বাসায় অতিরিক্ত একটি রুম রেখেছি। সেখানে আমি তাদের ফ্রিতেই রাখি। এখন বর্তমানে সামান্য কিছু সার্ভিস চার্জ নেই। ট্যুর প্ল্যান করে দেই। ট্রেন, স্টিমার বাসের টিকিট কেটে দেই কোনও ধরনের সার্ভিস চার্জ ছাড়াই। এভাবে এক পর্যায়ে আমি কোম্পানিটি গড়ে তুলেছি। এখন প্রত্যোক মাসে ট্রিপ বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে ১০/১২টার মতো ট্যুর হচ্ছে। এগুলোর বেশিরভাগই হচ্ছে ইকো ট্যুর। বরিশালে আমি একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছি বিদেশিদের গ্রামের পরিবেশে থাকার জন্য সব ধরনের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেছি। সেখানে নিয়ে একদিন পানিতে ঘোরাই। অন্তত ৫০ জন বিদেশি ওইখানে গিয়ে বলেছেন, এটা তাদের বেস্ট ট্যুর। গ্রামীণফোনের মাদার কোম্পামি টেলিনরের মতো বড়-বড় কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও আমার সাথে ট্যুরে গিয়েছেন।

বাংলা ট্রিবিউন: বেশির ভাগ ট্যুর অপারেটরদের দেখি বিদেশে ভ্রমণের ওপর জোর দিয়ে থাকেন, সেখানে আপনি কেন বাংলাদেশের ওপর জোর দিয়ে থাকেন?

মাহমুদ হাসান খান: অনেকে আমাকে বিদেশ নিয়ে কাজ করার জন্য বলেছেন। কিন্তু আমি সেটা করি না এবং ভবিষ্যতেও করতে চাই না। আমি আমার দেশের জায়গাগুলো দেখাতে চাই। দেশের ভ্রমণের জন্য নতুন নতুন জায়গা খুঁজে বের করতে চাই। আমার একমাত্র লক্ষ্য বাংলাদেশ ভ্রমণ। আমার সবগুলো ঘোরাঘুরি কিন্তু দেশের মধ্যেই। আমি গত ১৫ বছরে দেশের বাইরে কোথাও যাইনি। আমার দেশের মধ্যেই ঘুরতে ভালো লাগে। চাই অন্যরাও যেন দেশের মধ্যে ঘুরতে চায়। দেশের অচেনা অজানাকে জানতে চায়।

ট্যুর অপারেটরদের দেখি বাইরের ট্যুর নিয়ে ব্যস্ত। কোথাও ট্যুরিজম ফেয়ার হলে দেখা যাবে শতকরা ৯০ ভাগই থাইল্যান্ড মালয়েশিয়া নেপাল সিঙ্গাপুর না হলে ভুটানকে সেল করেন। দেশকে নিয়ে কাজ করার মতো মানুষ খুবই কম দেখতে পাই। বুঝি না কেন আমাদের অন্যদেশ সেল করতে হবে। বিদেশিদের তো দেখি না বাংলাদেশ সেল করতে। আমি তো অনেকদিন হলো, দেশ নিয়ে আছি সেটাই তো শেষ করতে পারছি না। বিদেশ পাওয়ার আমার টাইম নেই। আমি প্রমোট করি দেশকে। বিদেশ ট্রিপে দেশি টাকা বিদেশে খরচ করিয়ে কিছু ট্যুর অপারেটর একটা কমিশন নিচ্ছেন। কিন্তু দেশের ট্রিপে মানুষ দুইদিক থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে, দেশকে জানতে পারছে আর দেশের টাকা দেশেই খরচ হচ্ছে। কাজেই কমিটমেন্টের কারণেই আমি দেশ নিয়ে কাজ করছি। বাণিজ্যকভাবে কখনও বিদেশ নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা নেই। আমি বাংলাদেশিদের বিদেশ নয়, দেশি-বিদেশি উভয়কে বাংলাদেশ দেখাতে চাই। 

নদীতে মাহমুদ হাসান খান

বাংলা ট্রিবিউন: দেশের কোন-কোন স্পটে আপনাদের ঘুরতে ভালো লাগে?

মাহমুদ হাসান খান: দেশের মধ্যে কিছু কমন প্লেস আবার কিছু আনকমন প্লেসে আমরা যাই। আমরা মাসে অন্তত, দুটো করে ডে-ট্রিপ করি। ঢাকার নিকটস্থ যেকোনও জায়গা নির্ধারণ করে ভোরে বেরিয়ে যাই। সারাদিন ঘোরাঘুরি করে আবার সন্ধ্যায় ফিরে আসি। আমরা পুরনো ঢাকায় হাঁটাহাঁটি ট্যুর করি। আর একট করার চেষ্টা করি লং ট্যুর। পাহাড় নদী হাওড় বিল। সেখানে ২/৩ দিনের জন্য যাই। আমি নিজেই দেশের বেশ কয়েকটি আনকমন জায়গাকে ট্যুর করে পরিচিত করেছি। এখন অন্য অনেকে সেখানে ঘুরতে যাচ্ছে। দোহারের মৈনট ঘাট নামে একটি জায়গা রয়েছে। ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন হিসেবে সেখানে ঘুরে যাওয়া যেতে পারে এই চিন্তা বোধ হয় আমি প্রথমে করেছি। বছর তিনেক আগে আমি সেখানে বড় একটি গ্রুপ নিয়ে যাই। তারা স্থানটাকে খুবই পছন্দ করেন। আমরা স্থানটার নাম দিয়েছি ছোট কক্সবাজার। জায়গা অনেকটা সমুদ্র সৈতকের মতো। পরে আমি একাধিকবার সেখানে লোকজন নিয়ে গিয়েছি। এখন দেখছি প্রত্যেক সপ্তাহেই অনেকেই সেখানে যাচ্ছেন। সোনারগাঁ‍‍ওয়ে নুনেন টেক নামক একটি জায়গা আছে।  সেখানকার নাম দেওয়া হয়েছে মায়াদ্বীপ। সে জায়াটিতেও আমি জনপ্রিয় করেছি। বরিশালের উজিরপুর সাতলার শাপলা বিলটাকেও আমরা পরিচিত করতে উদ্যোগ নিয়েছি। এবারের বর্ষ মৌসুম থেকে সেখানে আমরা যাওয়া শুরু করব। পাশাপাশি এই প্রচারণাও চালাতে চাই। যেমন ধরেন নোয়াখালীতে কিন্তু সেই অর্থে আকর্ষণীয় দেখার কিছুই নেই। সেখানকার প্রকৃতি সুন্দর। অনেক জায়গা রয়েছে সেখানে গাছগাছালির জন্য সূর্যের আলো পর্যন্ত দেখা যায় না। সারি-সারি হাজার হার নারকেল সুপারি গাছ। আমরা চিন্তা করছি, সেখানে একটি গ্রামকে উন্নয়ন করতে। আমরা চাচ্ছি সেখানকার স্থানীয় আগ্রহী কোনও ব্যক্তি যেন এগিয়ে আসেন। এভাবে কেবল নোয়াখালী নয় প্রত্যেক অঞ্চল থেকে কয়েকজন এগিয়ে এলে আমরা সারা দেশটাতে পর্যটন ডেস্টিনেশনের পরিণত করতে পারি। এতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। এটা করা গেলে এলাকার সৌন্দর্য্য যেমনি বৃদ্ধি পায় তেমনি আর্থিকভাবেও অনেকে উপকৃত হয়। কোথাও একদল ট্যুরিস্ট গেলে হোটেল মালিক, লঞ্চ বা নৌকার মাঝি, একজন রিকশাওয়ালা বা অটোচালকও টাকা পাচ্ছেন। বিদেশি ট্যুরিস্ট হলে এতে দেশেরও আয় বাড়ছে। এজন্য সবাই যদি তার এলাকা নিয়ে একটু-একটু করে কাজ করি তাহলে অনেক বড় কাজ হয়ে যাবে।

বাংলা ট্রিবিউন:  অনেকে পর্যটন খাতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার কথা বলে থাকেন, এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?

মাহমুদ হাসান: আমি মনে করি সরকারের দিকে তাকিয়ে তো কোনও লাভ নেই। অনেক ট্যুর অপারেটরদের বলতে শুনি সরকার এই করে না সেই করে না কিন্তু বুঝতে হবে আমাদের সম্পদ সীমিত। সরকার আর কতটা করবে। আমরা অনেকেই ট্যাক্স দেই না। কাজেই সরকার যে দেবে পাবে কোথায়। আমরা সবাই মিলে উন্নয়ন করলেই তো যথেষ্ট। সরকার যদি পরিবেশটা সৃষ্টি করে দেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ নিরাপদ পরিবেশের ব্যবস্থা করে দেন সেটাই যথেষ্ট। যার যার ক্ষেত্র থেকেই আমাদের কিছুটা হলেও করা ‍উচিত। আমরা যদি একজন ট্যুরিস্টকে ডেকে ভালো দুটো কথা বলি একচাপ চা খাওয়াই, দেখবেন ওই সামান্য কারণে ওই এলাকার প্রশংসা করলেন। আমি মনে করি ‘আমি’ মানেই বাংলাদেশ। আমি কোনও বিদেশির সঙ্গে যে আচরণ করব ওই বিদেশি মনে করবেন এটা বাংলাদেশি নাগরিকদের আচরণ। কেউ ভালো আচরণ করলে গোটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য তিনি ভালো সার্টিফিকেট দিয়ে দেবেন। বলবেন মানুষ খুবই ভালো।

বাংলা ট্রিবিউন: পর্যটন স্পট হিসেবে কোনগুলো মানুষের বেশি পছন্দ?

মাহমুদ হাসান খান: আমার মনে হয় মানুষ বাংলাদেশের প্রকৃতিটাকেই বেশি পছন্দ করেন। ইকো ট্যুরিজমের ওপর ঝোঁক বেশি। অনেকে ট্যুরিস্ট স্পট বলতে কক্সবাজার সি বিচটাকে বেশি প্রাধান্য দিতে চান। কিন্তু আমি এর সঙ্গে একমত নই। এটা ঠিক কক্সবাজার সি বিচ বিশ্বের সব থেকে বড়। কিন্তু ‌আমার অভিজ্ঞতা বলে এটা বিদেশিদের প্রত্যাশিত ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন না। তাদের ‍কাছে এটা পছন্দ নয়। বিদেশিরা বিশ্বের অনেক বিচ দেখছেন। সেই তুলনায় আমাদের ব্যবস্থাপনা সুন্দর নয়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে। তাদের জন্য আলাদা ট্যুরিস্ট জোন নেই। তারা সমুদ্রে গিয়ে একটু খোলামেলা পোষাক পরে নামতে চান কিন্তু দেখা যায় এগুলো করতে গেলে মানুষ ফ্যাল-ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। সেলফি তোলে। এটা কিন্তু খুবই বিরক্তিকর। ওরা ব্যক্তিগত বিষয়ে কোনও হস্তক্ষেপ পছন্দ করে না। সেখানে সন্ধ্যার পরে বিনোদনের কোনও জায়গা নেই। আমার যে অভিজ্ঞতা বিদেশিরা বাংলাদেশের প্রকৃতির কাছে যেতে যায়। আমার মনে হয়, শতকরা ৫ ভাগ কক্সবাজার যেতে চান না। আমরা অনেক অপারেটর বিদেশিদের প্রকৃতির কাছে নিতে পারি না কক্সবাজারকে ফলাও করে প্রচার করি তাই বাধ্য হয়ে ‍অনেকে সেখানে যান।

বাংলা ট্রিবিউন: পর্যটন শিল্প বিকাশে বাধা মনে করেন কোনটাকে?

মাহমুদ হাসান খান: বাধা বলতে গেলে অনেক কিছুকে বলা যেতে পারে। আবার ভিন্নভাবে দেখলে দেখা যাবে এগুলো তেমন কোনও প্রতিবন্ধকতা নয়। তবে আমার অজ্ঞিতা বলে বিদেশিদের জন্য বড় বাধা হচ্ছে পরিবহন সুবিধা। বিদেশি পর্যটন বহনে ভালো কোনও পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। আমাদের পরিবহনে তাদের জন্য কোনও কোটা নেই। ট্রেন, লঞ্চ বা স্টিমারে তাদের জন্য টিকিটে কোটা রাখা দরকার। এসব যানবাহনে অনলাইনে টিকিট টাকার সুযোগ থাকলেও বিদেশে বসে কাটা যায় না। অথচ আমরা কখনও বিদেশে গেলে আগে থেকে অনলাইনে টিকিট বুকিং দিতে পারি কিন্তু এই ব্যবস্থা আমাদের এখানে নেই। এটা চাইলে কিন্তু খুব সহজেই করা যেতে পারে।

/এমএনএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ