বাংলা ট্রিবিউনকে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদশিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়ে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না

Send
সাদিকুর রহমান
প্রকাশিত : ১৮:৫১, মার্চ ১২, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৩, মার্চ ১২, ২০১৬

অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদঅষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্যাদা পুনর্বহালের দাবিতে গত ১০ মাস ধরে দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত জানুয়ারি মাসে টানা সাতদিন ধর্মঘটও পালন করেছেন তারা। তবে একই মাসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করা এক বৈঠকের পর সাময়িকভাবে কর্মবিরতি স্থগিত করেন তারা। এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও মন্ত্রিপরিষদের সিনিয়র সচিবদের সঙ্গে দফায় দফায় শিক্ষকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সঙ্গে বিভিন্ন মেয়াদে বাড়ছে শিক্ষকদের কর্মবিরতি স্থগিতের সময়সীমাও। সর্বশেষ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ক্লাবে অনুষ্ঠিত ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বৈঠক শেষে আগামি ২৯ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে স্থগিতের মেয়াদ। এমন অবস্থায় কোন পথে যাচ্ছে শিক্ষকদের আন্দোলন, শিক্ষকদের কর্মপরিকল্পনা কী, এমন প্রশ্নসহ বাংলা ট্রিবিউনকে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ক্লাবে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপচারিতায় ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা আদায়ের জন্যে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। এক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার দাবি আদায়ে আমরা এখনও সোচ্চার। কারণ শিক্ষকদের মর্যাদা ছাড়া আর কিছুই নেই। তাই এ মর্যাদা ধরে রাখতে আমরা লড়াই করব। মর্যাদার বিষয়ে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ১০ মাস ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে আমরা  কোনও কঠোরতা অবলম্বন করিনি এখনও । শান্তভাবে বারবার সরকারের কাছে আমাদের দাবি উত্থাপন করছি। আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের আন্দোলনের জন্য ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় যেন কোনও ক্ষতি না হয়।

শিক্ষকদের আন্দোলন ও দাবি পূরণে অগ্রগতির বিষয়ে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন,  শিক্ষকদের দাবি না মানলে আন্দোলন চলবে। এখন সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে বৈঠক চলছে। আমরাও আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ধৈর্য ধরে আছি, যে কারণে হয়ত মনে হচ্ছে, আন্দোলন নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শিক্ষকদের তো আলাদা একটা সম্মান আছে। তারা তো যেনতেনভাবে  আন্দোলন করতে পারেন না। শিক্ষকরা ভদ্র মানুষ, তাই তাদের আন্দোলনও সে রকমই হবে। বিভিন্নভাবে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেছানো হচ্ছে। কিন্তু আমরা এরপরও শান্ত আছি। কারণ আমরা মনে করি, মন্ত্রিপরিষদে যারা আছেন, তারা অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ও বিজ্ঞব্যক্তি। আমাদের দাবি ও মর্যাদার বিষয়টি তারা বুঝবেন।

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে আমাদের দাবিগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের কান ভারী করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী একজন সচেতন মানুষ। তিনি এ সব কথায় কান না দিয়ে শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার দাবি মেনে নেবেন- সেটাই আশা করি। আগেই বলেছি, আমরা শান্ত আছি ও ধৈর্য ধরে আছি। আগামি দিনে আরও ধৈর্য ধরব। কিন্তু এর একটা সীমা আছে। সীমা অতিক্রম করলে সে অনুযায়ী আমরা তখন  ব্যবস্থা নেব।

শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সর্বশেষ সভা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সভায় আমরা শিক্ষকদের দাবি নিয়ে আরো স্পষ্ট ও বিষদ আলোচনা করেছি। তারা তাদের মতামত জানিয়েছেন। সেগুলোই মন্ত্রিপরিষদের সঙ্গে শিক্ষকদের আগামি বৈঠকে তুলে ধরবো।’

এসআর/ এপিএইচ/

লাইভ

টপ