behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বাংলা ট্রিবিউনকে আবুল হাসানাত আমিনীধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো তৃতীয় শক্তি গড়ে তুলছে

চৌধুরী আকবর হোসেন১৭:০৮, মার্চ ১৭, ২০১৬

আবুল হাসানাত আমিনীবাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল বলে মনে করেন ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী। তিনি জানান, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো তৃতীয় শক্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। আবুল হাসনাত আমিনী একই সঙ্গে আরেকটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল খেলাফত ইসলামী বাংলাদেশের আমির। এছাড়া, ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করছেন। বর্তমান সময়ের ধর্মভিত্তিক রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে। 

বাংলা ট্রিবিউন: ২০ দলীয় জোট ছেড়ে এসেছেন, ভুল করেছেন বলে মনে হচ্ছে এখন?  

আবুল হাসানাত আমিনী: প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলেরই জোটে যোগ দেওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য থাকে। জোটবদ্ধ আন্দোলন, নির্বাচন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে সরকার গঠন—ইত্যাদি।  ১৯৯৯ সালে চারদলে যোগ দেওয়ার সময় এগুলোকে সামনে রেখেই জোটে গিয়েছিল ইসলামী ঐক্যজোট। এরপর আমরা জোটবদ্ধ হয়ে তৎকালীন সরকার বিরোধী আন্দোলন করেছি, ২০০১ সালে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেছি, বিজয়ী হয়েছি। ২০০৮ সালেও আমরা জোটবদ্ধ নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। ২০১৪ সালের বির্তকিত নির্বাচনে তো ২০দল অংশই নেয়নি। এরপর জোটের আন্দোলনে ধারাবাহিক ব্যর্থতা, দেশজুড়ে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা-মামলায় আমরা একটা বৃত্তের ছকে আটকে গিয়েছিলাম। ফলে ২০ জোটেও আমরা তেমন ভূমিকা রাখতে পারছিলাম না। এছাড়া, সারাদেশে দল গোছানোর জন্যও আমাদের একটা অবস্থানে যাওয়া দরকার ছিল। এসব কারণেই মূলত জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামী ঐক্যজোটের মজলিসে শুরা। সুতরাং আমরা মনে করি, ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে সঠিক সময়ে আমরা সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি। দেশের শীর্ষ আলেমরা আমাদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। ভুল করেছি বলে মনে হচ্ছে না।

 

বাংলা ট্রিবিউন: ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবির মধ্যে বাংলাদেশে ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী?

আবুল হাসানাত আমিনী: প্রথমত ধর্মভিত্তিক রাজনীতি মানে আর্দশিক রাজনীতি। যাদের কোনও ধর্ম নেই, তারাই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তোলেন। দ্বিতীয়ত,  বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। এর পেছনে যথেষ্ট কারণও রয়েছে, স্বাধীনতার পর যতগুলো সরকার এদেশে ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণের তুলনায় নিজ দল ও কর্মীদের প্রাধান্য দিয়েছে। জনগণের সম্পদ লুটেপুটে খেয়ে এসব দলের নেতারা সমাজে আজ প্রতিষ্ঠিত বড় ব্যবসায়ী, বিশিষ্ট দানবীর পরিচয় বহন করছেন। কিন্তু জনগণ কী পেল? তারা কি শান্তিতে ঘুমাতে পারছে, নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছে? তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পেয়েছে? জনগণ এসব দলবাজদের ওপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত, বিরক্ত। তারা চায় এদেশে দু’দলের বাইরে তৃতীয় কোন শক্তি ক্ষমতায় আসুক। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো সেই শক্তি গড়ার চেষ্টা করছে। জনগণও তাদের সাপোর্ট করছে।

বাংলা ট্রিবিউন:  ধর্মীয় দলগুলো ধর্মীয় ইস্যুতে যতটা সোচ্চার,  ততটা দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে সোচ্চার নয় কেন? দেশের প্রতি ধর্মীয় নেতাদের কোনও দায়বদ্ধতা নেই ? 

আবুল হাসানাত আমিনী: যখন কোনও নাস্তিক-মুরতাদ বা ইসলামবিরোধী শক্তি পবিত্র ধর্ম ইসলাম, নবী করীম (স.), সাহাবায়ে কেরাম, ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কটূক্তি করেন, রাষ্ট্রে ইসলামবিরোধী আইন প্রণয়নের পাঁয়তারা করেন, তখন একজন ওয়ারেসে নবী হিসেবে প্রতিটি ইসলামি দলের নেতাকর্মী, আলেম এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলাকে নামাজ-রোজার মতোই ফরজ মনে করেন। দেশের অন্যান্য ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনে ইসলামি দলগুলো সম্পৃক্ত রয়েছে। হয়তো মিডিয়ায় এর প্রচারটা সেভাবে হচ্ছে না। তবে, এ ব্যাপারে ইসলামি দলগুলোর আরও সচেতন হওয়া দরকার।  

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ