৪০ কেন্দ্র স্থগিত বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শেষ

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:৪৩, মার্চ ২২, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৭, মার্চ ২২, ২০১৬


মুন্সীগঞ্জের একটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের দৃশ্যসংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যালট ছিনতাইসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ৭১২ ইউপির ৪০টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
বাংলা ট্রিবিউনের সিলেট প্রতিনিধি জানান, জেলার টুকেরবাজার ইউনিয়নের আখালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুরুষ কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা নির্বাচন অফিসার আজিজুল ইসলাম। এই কেন্দ্রের দুটি বুথে বেলা ২টার দিকে হামলা চালান ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এছাড়া, কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ শহীদ আহমদের কার্যালয় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন ছাত্রলীগ কর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা পৌনে ২টার দিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ওই কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। এ সময় ৭-৮ জন ছাত্রলীগ কর্মী তার পিছু নিয়ে দুটি বুথে হামলা চালান। সাংবাদিকরা চিত্র ধারণ করতে গেলে হামলাকারীরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যাবহার  করেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) রহমত উল্যাহ জানান, কেন্দ্রে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মিনিট ওই কেন্দ্রে ভোট স্থগিত ছিল।
খুলনা প্রতিনিধি জানান, খুলনার যোগীপোল ও সুরখালীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় পুলিশের গুলিতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এদিকে, সুরখালী, আটলিয়া ও মাগুরঘোনায় চার চেয়ারম্যান প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

নির্বাচন বর্জনকারী চার প্রার্থী হলেন ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বদরুজ্জামান তসলিম ও মাগুরঘোনা ইউপির বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম, সুরখালী ইউপির নৌকার প্রার্থী মুশফিকুর রহমান সাগর ও বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ হেমায়েত আলী।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের চুঙ্গাপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির ক্যাডাররা ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেন। এ সময় পুলিশ পাঁচ রাউন্ড গুলি করলে দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়।

পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, মঠবাড়িয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতা গুলিবিদ্ধসহ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে। এছাড়া, একটি কেন্দ্র ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। নির্বাচন বর্জন করেছেন স্বরুপকাঠী উপজেলার ১০নং সারেংকাটি ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম।
মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের পাতাকাটা মুজাহার হাজীবাড়ি কেন্দ্রে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক বন কর্মকর্তা মতিউর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। মঠবাড়িয়া বড়মাছুয়া ইউনিয়নের মধ্য বড়মাছুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংঘর্ষে উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কামরুল আকন গুলিবিদ্ধ হন।
মঠবাড়ীয়া উপজেলার দাউদখালীতে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীদের হামলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহিদুল আলম শামীম আহত হন। এছাড়া, মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের সাফা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ইউনিয়নের বড়কান্দা ভোট কেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধরা হলেন, বড়কান্দা গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৪২), সোহেল মিয়া (৩৫) ও মনির হোসেন।

স্ট্রাইকিং ফোর্সের এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, ফতেহাবাদ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য প্রার্থী বিল্লাল হোসেন (টিউবয়েল) ও কবির হোসেন (ফুটবল) প্রতীকের সমর্থকরা আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ত্রিশ মিনিট  ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। 

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার পথে দুই নির্বাচনি কর্মকর্তা ‍গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় ভোট গ্রহণ সাময়িক স্থগিত করা হয়।
গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন চরকিং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল আউয়াল ও পোলিং অফিসার শাহাদাত হোসেন।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাচনি কর্মকর্তা মো. মাহবুব রহমান ভুঁইয়া জানান, তাদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, ভোট কারচুপি, নির্বাচনে অনিয়মসহ সহিংসতার অভিযোগে সাতক্ষীরার ৫টি উপজেলার ১২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

কেন্দ্রগুলো হলো তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ভাগবাহ, অভয়তলা ও দাতপুর, সদর উপজেলার আলীপুর, মাহমুদপুর, ভাড়ুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমিনিয়া দাখিল মাদ্রাসা, কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের কলাটুপি, দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া, শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের মেহেদী নগর, মাহজানপুর ও পূর্বখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।  

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলায়  কেন্দ্র দখলের চেষ্টাকালে বিভিন্ন চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 

পুলিশ জানায়, সকাল পৌনে ৯ টার দিকে কমলনগরের তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর চর পাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থী মন্তাজ উদ্দিন ও আব্দুল মতিনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের ৬ জন আহত হন। এ সময় মাজহারুল ইসলাম ও সবুজ নামে দুজনকে আটক করা হয়। 

এছাড়া, চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের নোমানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা ও চশমা প্রতীকের সমর্থকদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। হাজিরহাট ইউনিয়নের চর জাঙ্গালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ৩ জন আহত হন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের সাতবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ব্যালট বাক্স ভাঙচুর ও ব্যালট পেপার পানিতে ফেলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাদের হামলায় হেলাল উদ্দিন আহাম্মদ নামে এক পোলিং কর্মকর্তা আহত হন। এ ঘটনার পর ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।

প্রিজাইডিং অফিসার মো. ফজলুল হক জানান, অন্তত ৪০-৫০ জন হামলাকারী হঠাৎ করে ঢুকে সবকিছু ভেঙে ব্যালট পেপারের বই ছিনিয়ে নিয়ে পুকুরের পানিতে ফেলে দেন। এ সময় তাদের হামলায় পোলিং অফিসার হেলাল উদ্দিন আহত হন।

ভোলা প্রতিনিধি জানান, ভোটকেন্দ্র চত্বরে মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় ভোলায় তিনটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সাময়িক স্থগিত করা হয়।

কেন্দ্রগুলো হচ্ছে পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের সুইডিশ মিশন কেন্দ্র, চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৪নং কেন্দ্র ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচরা ইউনিয়নের ৯নং কেন্দ্র।

এছাড়া, বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শেখ সাদি বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। এদিকে, লালমোহনের ফুলবাগিচা কেন্দ্র, ভোলা সদরের ভেলুমিয়া, ধনিয়া ও ইলিশায় বিভিন্ন প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অর্ধ শতাধিক লোক আহত হয়েছেন।

বরিশাল প্রতিনিধি জানান, শহরতলির রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের ভারুখার দীঘি এবং মঙ্গলহাটা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে স্থগিত হওয়ার দেড়-দু ঘণ্টার মধ্যে ফের ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

এদিকে, একই ইউনিয়নের পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট শুরুর কিছুক্ষণ পর ব্যালট-বাক্স ছিনতাই ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। পরে ওই  কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়।

সদর উপজেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, এ ব্যাপারে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, কুতুবদিয়া উপজেলার পড়ডেইল ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ফিরোজ খান চৌধুরী ভোট বর্জন করেন।

ফিরোজ খান অভিযোগ করেন, জাল ভোট ও ভোটকেন্দ্র দখলের কারণে তিনি এ বর্জনের ঘোষণা দেন।

এদিকে, সাতক্ষীরায় ৮ নম্বর ধুলিহা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন বিএনপি প্রার্থী আবু হুদা মোহাম্মদ মোদাচ্ছিরুল হক।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী আবু হুদা মোহাম্মদ মোদাচ্ছিরুল হক অভিযোগ করেন, বড়দল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধুলিহা  ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ধুলিহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিহলপুর পল্লী উন্নয়ন উচ্চ বিদ্যালয় এবং কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তার এজেন্টদের প্রবেশ করতে দেয়নি আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা। এ সময় নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যালটে সিল মেরে ভোট ডাকাতির অভিযোগ করেন তিনি।

/বিটি/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ