behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বাংলা ট্রিবিউনকে শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ফরীদ আহমদ রেজাজামায়াতের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে বলে মনে হয় না

সালমান তারেক শাকিল২২:২৩, মার্চ ২৩, ২০১৬

ফরীদ আহমদ রেজাফরীদ আহমদ রেজা। লন্ডনপ্রবাসী এই শিক্ষক বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল। ১৯৮২ সালে জামায়াতের অনুজ সংগঠনটির দ্বিতীয় শীর্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তবে, খুব বেশিদিন নিজ নিজ পদে বহাল থাকতে পারেননি তিনি ও তার সময়ের সভাপতি অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের।
সম্প্রতি ফরীদ আহমদ রেজা তার ব্যক্তিজীবন, কর্মজীবন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলসহ নানা বিষয়ে ফেসবুকে কথা বলেছেন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে।

বাংলা ট্রিবিউন: এখন কী করছেন?

ফরীদ আহমদ রেজা:  দীর্ঘদিন শিক্ষকতায় ছিলাম। সম্প্রতি শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়েছি। তবে, একটি সরকারি বিভাগে খণ্ডকালীন কাজ করছি। কিছুদিন লন্ডনের একটি প্রাচীন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে সপ্তাহে কয়েকটি কোরআন সার্কেল পরিচালনা করি। পড়াশোনা ও লেখালেখি করি। পড়াশোনাটা বেশি করছি কোরআনকেন্দ্রিক। লন্ডনের বাংলা পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করছি। কয়েকবছর ‘কবিতা’ নামে একটি কবিতাবিষয়ক সাময়িকী সম্পাদনা করেছি।

বাংলা ট্রিবিউন:  আপনার পরিবারের সদস্যরা কী করছেন?

ফরীদ আহমদ রেজা: আমার স্ত্রী দেশে থাকতে শিক্ষক ছিলেন। এখানেও খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করছেন। আমার দুই ছেলে, দুই মেয়ে। ছেলেদের গ্র্যাজুয়েশন শেষ হয়েছে, এখন কাজ করছে। দুই মেয়ে ইউনিভার্সিটিতে পড়ছে। এ বছর এক মেয়ের এবং আগামী বছর অন্য মেয়ের গ্র্যাজুয়েশন শেষ হবে।

বাংলা ট্রিবিউন:  শেষ কবে দেশে এসেছেন, আবার কবে আসবেন?

ফরীদ আহমদ রেজা: ২০০৩ সালে গিয়েছিলাম আম্মাকে নিয়ে আসতে। এরপর আর যাওয়া হয়নি। আবার কবে আসবো তা বলা কঠিন। তবে আমরা প্রবাসীরা ঘনঘন দেশে না গেলেও দেশ নিয়ে ভাবি।

বাংলা ট্রিবিউন:  আপনার কোনও বই প্রকাশিত হয়েছে?

ফরীদ আহমদ রেজা: দুটো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচিত কলাম নিয়ে একটি, নাম ‘বিপরীত উচ্চারণ’। অন্যটি কবিতার বই, ‘যিসাসের আগমন অনিবার্য’। প্রকাশ করেছে কৈতর প্রকাশনী। আরও কয়েকটি পাণ্ডুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায়।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার সঙ্গে কথোপকথনে গোলাম আযম বলেছিলেন, একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ নেই। আপনি এর উত্তরে কিছু বলেছিলেন কি? এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

ফরীদ আহমদ রেজা: অধ্যাপক গোলাম আযম আমার সঙ্গে কথোপকথনের সময় এ কথা বলেননি, বলেছেন ৮২ সালে ছাত্রশিবিরের বিরোধ-মীমাংসার রায় ঘোষণার সময়। আমার সেখানে কোনও কথা বলার সুযোগ ছিল না। আমি ছিলাম একজন দর্শক মাত্র। এ বিষয়ে আমার অভিমত ‘বিরাশি সালের কথকথা’র পর লিখিত পাদটীকায় আমি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি। আমার মতে, নৈতিক বা রাজনৈতিক কৌশল—কোনও বিচারেই ৭১ সালে তাদের ভূমিকা ঠিক ছিল না। তারা বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ইত্যাদি পালন করেন। অন্যদিকে, তাদের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা মানুষকে ভিন্ন বার্তা দেন। তারা সাংগঠনিকভাবে ৭১ সালের ভূমিকার ব্যাপারে শুরু থেকে নীরব ভূমিকা পালন করে আসছেন। এ নীরবতা রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্নবোধক হয়ে আছে। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে স্বাধীনতা-উত্তর প্রজন্ম এটাকে রাজনৈতিক অস্বচ্ছতা হিসেবে বিবেচনা করে। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলব, আমার মতে, দুটো প্রসঙ্গ বাংলাদেশের রাজনীতির জন্যে অপরিহার্য, অর্থাৎ ‘নন-নেগোশিয়েবল’। একটি ইসলাম, অন্যটি মুক্তিযুদ্ধ। কোনও রাজনৈতিক দল এর কোনও একটির প্রতি উন্নাসিকতা বা বিরোধিতা করলে বাংলাদেশের জনগণ তাদের গ্রহণ করবে না।

বাংলা ট্রিবিউন:  আপনি বলেছেন, যাদের মুখের ভাষা এবং বুকের ভাষা এক নয়, তাদের সঙ্গে জীবন বাজি রেখে কাজ করা সম্ভব নয়। এখনও কি তাই মনে করেন?

ফরীদ আহমদ রেজা: এখন আরও অনেক কিছু মনে করি। তখন এ কথা বলার কারণে আমাকে অনেক সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে। কোনও ব্যক্তির কথায় এবং কাজে স্বচ্ছতা না থাকলে এবং তা সমাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হলে সমাজ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু সামষ্টিক অস্বচ্ছতার দায় এর চেয়ে অনেক বেশি। এ অভিজ্ঞতা থেকেই আমি এ মন্তব্য করেছি। আমার মতে, সাংগঠনিক বক্তব্য ও জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকারের মধ্যে সাযুজ্য বজায় রাখা উচিত। সে সততা না থাকলে কোনও রাজনৈতিক দলের লিখিত ঘোষণাপত্র যতই আকর্ষণীয় হোক,  সে দলের লোকদের ব্যক্তিগত জীবন বা চরিত্র ‘ফুলের মতো পবিত্র’ হলেও বৃহত্তর জনগোষ্ঠী তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।

বাংলা ট্রিবিউন:  ইবনে সিনার বৈঠকে আপনি ও আহমদ আবদুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলেছেন গোলাম আযম। কিন্তু সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিষয়টি আপনি আলোচনায় বলেছেন। সেখানে মতিউর রহমান নিজামীও ছিলেন। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। কারাগারে আছেন নিজামী। আপনার কি মনে হয়, এখনও তাদের প্রভাব আগের মতোই আছে?

ফরীদ আহমদ রেজা: আমার মনে হয়, তারা এখনও প্রভাবশালী। তাদের রাজনৈতিক চিন্তা ও সাংগঠনিক নির্দেশনা অনুযায়ী এখনও সংগঠন চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। সরকারের গ্রেফতার-নির্যাতন এবং গুম-হত্যা তাদের অনুসারীদের আরও সংহত এবং তাদের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করছে।

বাংলা ট্রিবিউন:  যাদের জন্য ছাত্র শিবির ছাড়তে হয়েছে, আপনাদের কমিটি বাতিল হয়েছে, তাদের সঙ্গে কি যোগাযোগ হয়? তারা কি অনুতপ্ত?

ফরীদ আহমদ রেজা: সাধারণত তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয় না। কারও কারও সঙ্গে ঘটনাচক্রে দেখা হয়ে যায়। দেখা হলে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। তারা অনুতপ্ত কি না, সে ব্যাপারে আমার কাছে সরাসরি কোনও তথ্য নেই। কারণ এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও সঙ্গে কখনও আমার মতবিনিময় হয়নি। তবে আমার ধারণা, তারা মোটেই অনুতপ্ত নয়।

বাংলা ট্রিবিউন:   ছাত্রশিবির ছেড়ে জামায়াতে যোগ না দেওয়ায় সিলেটে বিভিন্ন চাকরিতে যোগ্য হয়েও আপনাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন বিদেশেও কি দলটির নেতাকর্মীরা আপনার পিছু নেন?

ফরীদ আহমদ রেজা: ‘পিছু নেন’ বলতে আপনি কী বলতে চাচ্ছেন, আমার কাছে পরিষ্কার নয়। আমি তাদের কারও কাছে কোনওদিন কোনও সুবিধা বা আশীর্বাদ প্রত্যাশী হইনি। তাদের সাংগঠনিক বলয়ে আমার কোনও যাতায়াত নেই।  আড়ালে-আবডালে তারা যে সব কথা বলেন, তা মাঝে-মাঝে আমার কানে চলে আসে। এ থেকে বুঝতে পারি, সর্বত্র তারা সাফল্যের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ‘বার্তা’ গ্রহণযোগ্যভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের এখানকার কর্মীরা সাংগঠনিক ‘ওহি’র ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন এবং ইসলামী আন্দোলনের বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনও কাজ করতে সব সময় প্রস্তুত আছেন।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার কমিটির সভাপতি আহমদ আবদুল কাদের শিবির ছেড়ে যুবশিবির করার পর চট্টগ্রাম কলেজে আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। আপনার ক্ষেত্রে এমন আচরণ করা হয়েছে কি না?

ফরীদ আহমদ রেজা: না, আমাকে দেশে-বিদেশে কখনও এ রকম অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়নি। নিচের পর্যায়ের অতিউৎসাহী কেউ-কেউ কখনও  বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মাত্র।  ‘বিরাশির কথকতা’ প্রকাশের পর কিছু গালি-গালাজ শুনতে হয়েছে। দুয়েকজন শুভানুধ্যায়ী সেজে সাবধানে চলাফেরা করতে বলেছেন।

বাংলা ট্রিবিউন: যুবশিবির গঠনের পর জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন ভাষায় সংগঠনটির বিরুদ্ধে কথা বলেছে। এটি অন্যান্য ধর্মভিত্তিক সংগঠনেও দেখা যায়। এর কারণ যদি ছোট করে বলেন?
ফরীদ আহমদ রেজা: আমার মতে এটা ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় বিরোধের সুত্রপাত হয়েছে রাজনীতিকে কেন্দ্র করে। প্রতিটি পক্ষ তাদের রাজনৈতিক বিরোধকে ধর্মীয় মোড়কে উপস্থাপন করে জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছে। এখনও  চলছে। ইসলামে রাজনীতি আছে এবং ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক বিধান আর ধর্মীয় বিধানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এ দুটোকে গুলিয়ে ফেলার মানসিকতা বা অভ্যাস বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক সব দলের মধ্যেই রয়েছে। বাংলাভাষীদের মধ্যে ধর্মীয় রাজনীতির প্রথম উদ্যোক্তা জামায়াত নয়। কিন্তু বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে অনেক বিষয়ে জামায়াতকে অনুসরণ করতে দেখা যায়। হতে পারে, এখানেও অন্যরা জামায়াতকে অনুসরণ করছে। 

বাংলা ট্রিবিউন: পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আপনারা চেয়েছেন। সর্বশেষ সাবেক জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কামারুজ্জামানও চেয়েছিলেন। আদৌ কি জামায়াতে এ ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে? পর্যবেক্ষক হিসেবে যদি বলেন?

ফরীদ আহমদ রেজা: আমার মতে, স্বাভাবিক অবস্থায় তাদের মধ্যে কোনও পরিবর্তন আসবে না। সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে প্রথমে তারা এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালাবেন। আইনি লড়াইয়ে জিততে না পারলে তারা নতুন নামে আত্মপ্রকাশের চিন্তা করতে পারেন, এর আগে নয়। তবে সরকারের দমননীতি অব্যাহত থাকলে তারা গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এবং বিভিন্ন নামে পার্শ্বসংগঠন করে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। আরেকটি কথা এখানে স্পষ্ট করা দরকার। ‘আমরা নাম পরিবর্তন চেয়েছি’—কথাটা সরাসরি এ রকম নয়। জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ভূমিকা রেখেছে, এ ব্যাপারে জামায়াত বা জামায়াতবিরোধী কারও কোনও দ্বিমত নেই। বাংলাদেশের জনগণের কাছেও সেটা অস্পষ্ট নয়। আমাদের কথা ছিল, এমনি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ‘জামায়াতে ইসলামী’ নিজ নামে রাজনীতি করতে হলে ৭১ সালে তাদের ভূমিকার ব্যাপারে স্পষ্টভাবে কথা বলতে হবে। তাদের বলতে হবে, ‘আমরা ৭১ সালে সঠিক কাজ করেছি’ এবং সঙ্গে সঙ্গে এর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে হবে। নতুবা বলতে হবে, ‘৭১ সালে আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না।’ এটা করলে তারা রাজনৈতিক সততার পরিচয় দেবেন, যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে যেকোনও রাজনৈতিক দলের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। যদি এর কোনওটাই তারা করতে না চান তা হলে তাদের উচিত, পুরাতন নাম বাদ দিয়ে নতুন নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলা। তখন ব্যক্তিগত দায় বজায় থাকলেও ৭১ নিয়ে তাদের সাংগঠনিক কোনও দায়-দায়িত্ব থাকবে না। ঠিক এমনটি মাওলানা আব্দুর রহীমও চেয়েছিলেন।

বাংলা ট্রিবিউন: জামায়াতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

ফরীদ আহমদ রেজা: প্রথমে বলে দেওয়া ভালো, বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যে ভাষায় জামায়াত প্রসঙ্গে কথা বলেন, তাতে মনে হয়, তারা দলটিকে ক্ষমতার জোরে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। তারা বোঝেন না, কয়েকজন নেতাকে রাজনৈতিক আদালতের রায়ে ফাঁসি দিয়ে, অথবা জেল-মামলা-গুম করে জামায়াতে ইসলামীর মতো সংগঠনকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না। সরকারি নির্যাতনের কারণে বরং তাদের দলীয় কর্মীরা নতুন প্রেরণায় উজ্জীবিত হচ্ছে।  এছাড়া, এর ফলে যারা জামায়াতের রাজনীতি পছন্দ করেন না তাদের মধ্যেও জামায়াতের প্রতি সহানুভূতি বাড়ছে। এর মানে, আইনগত কারণে দল হিসেবে জামায়াতের নাম রাখার সুযোগ না থাকলেও জামায়াত যে রাজনৈতিক তত্ত্ব ধারণ করে তা এবং এর অনুসারীরা টিকে থাকবেন। টিকে থাকার মানে কিন্তু এ নয় যে তাদের রাজনৈতিক ভবিষৎ উজ্জ্বল। জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শক্তি এবং আর্থিক ভিত অত্যন্ত মজবুত, এতে কোনও সন্দেহ নেই। মনে রাখা ভালো, মিছিল করার শক্তি বা জনসভার উপস্থিতি দেখে গণভিত্তি পরিমাপ করা যায় না। যে ধরনের জনসমর্থন থাকলে এককভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় তা থেকে তারা অনেক দূরে অবস্থান করছেন। এর কারণ অনেক। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল ২০০১ সালে। চারদলীয় জোটের কারণে ওই সময়  দলের প্রধান দুই শীর্ষনেতা মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন। তখন তাদের এমপি ছিলেন ১৮ জন এবং প্রাপ্ত ভোট ছিল মাত্র শতকরা ৬ ভাগের কাছাকাছি। পক্ষান্তরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাদের প্রাপ্ত ভোট ছিল শতকরা ৫ ভাগের মতো এবং তখন তাদের মাত্র দুজন এমপি নির্বাচিত হন। তাদের জনসমর্থন বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়েছে ধরে নিলেও তা বড় জোর শতকরা ৭ থেকে ৮ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ২০০১ সালের শুভ-সময়ে যারা জামায়াতের সঙ্গে সখ্য গড়েছেন তাদের শতকরা কতজন আগামী দিনে নিজ অবস্থানে টিকে থাকবেন, এর কোনও নিশ্চয়তা নেই। কারণ বাংলাদেশে কখনও সুযোগ সন্ধানী লোকের অভাব হয় না। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এবং আলেম সমাজের বিরোধিতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে।  বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে বলে মনে করার কোনও কারণ দৃশ্যমান নয়।

/এমএনএইচ /

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ