behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

মানবতাবিরোধী অপরাধব্যর্থতার দায় নিতে রাজি নয় তদন্ত সংস্থা

উদিসা ইসলাম০১:২৮, মার্চ ২৫, ২০১৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালট্রাইব্যুনাল ও আপিল বিভাগ থেকে বারবার ব্যর্থতার প্রশ্ন তোলা হলেও ৬ বছর পূর্ণ করে ফুরফুরে মেজাজে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। কারণ, সংস্থা মনে করেন তাদের কোনও ব্যর্থতা নেই।
সংস্থাটির প্রধান আব্দুল হান্নান খান বলেন, ট্রাইব্যুনাল বিচার করেন, আর বিচার কেমন হয়েছে তা দেখেন আপিল বিভাগ। আমাদের কাজ বিচার পর্যন্ত। সেখানে আমরা শতভাগ সফল।
‘এখন পর্যন্ত যতগুলো মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, কোনওটিতেই কেউ খালাস পাননি’- এই যুক্তিতে কোনও ব্যর্থতার দায় নিতে তিনি রাজি নন।
সর্বশেষ জামায়াতের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতা মীর কাসেম আলীর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানিকালে প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। এর আগেও জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায়ে তদন্তসংস্থা ও প্রসিকিউশনের কড়া সমালোচনা করা হয়েছিল। কেবল আপিল বিভাগ না, প্রসিকিউশনের  অবহেলা ও তদন্ত সংস্থার বিষয়ে একাধিকবার সমালোচনা করেছেন ট্রাইব্যুনালও।
এইসব সমালোচনার বিষয়ে সংস্থার বক্তব্য বিষয়ে আব্দুল হান্নান খান বলেন, বিচার বিভাগের পর্যবেক্ষণের বিপরীতে আমার কিছু বলা সাজে না। তবে তাদের যেসব পর্যবেক্ষণ বিষয়ে আমরা গণমাধ্যমে জেনেছি, সেখানে তথ্যগত কিছু ভুল আছে এটুকু বলতে পারি। মীর কাসেমের মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি দেখলে বিষয়টি আমাদের কাছে পরিস্কার হবে।

আগামী ২৫ মার্চ তদন্ত সংস্থার ছয়বছর পূর্ণ হচ্ছে। এর মধ্যে মোট ৩৮টি মামলার তদন্তকাজ শেষ করেছে সংস্থাটি। কাজ চলছে আরও ২৮টি মামলার। এ মামলাগুলোর মধ্যে মোট ৬৮জন আসামি পলাতক রয়েছেন। জেলা ও থানা পর্যায়ের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ আসামি পলাতক থাকার পরও এই দায় সংস্থা নেবে না বলে জানিয়েছেন সানাউল হক। তিনি বলেন, আমাদের গ্রেফতারের কোনও ক্ষমতা নেই। সেখানে পলাতকের দায় আমাদের ওপর কেন বর্তাবে। পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজটা করা যায় নাকি গ্রেফতারের ক্ষমতা ছাড়া সম্ভব না-এ প্রশ্নে হান্নান খান বলেন, যেটা আমার নেই সেটার দায় আমার ওপর পড়বে কেন। আমার মনে হয় তদন্ত সংস্থা হান্ড্রেড পারসেন্ট সফল।

এর আগে বাগেরহাটের রাজাকার নেতা শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার এবং খান আকরাম হোসেনের যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ে আসামিপক্ষের এক আইনজীবীর যুক্তির আলোচনায় বলা হয়, একই ঘটনার বিচারে সব অপরাধীকে না আনায় তদন্ত সংস্থা বা প্রসিকিউশনের ব্যর্থতা সন্দেহাতীতভাবেই হতাশাজনক, অপ্রত্যাশিত। রায়ে বলা হয়, “মামলার এ ধরনের অমনোযোগী তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশে আমরা নিজেদেরকে সীমিত রাখছি।”

গত ২০১৫ সালের ২০ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজাকার মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসেন চুটুর মামলার রায়েও তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে ওই তদন্ত কর্মকর্তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের আর কোনও মামলার দায়িত্ব না দিতে বলা হয়।

এসব নিয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট মন্তব্য না করে তদন্ত সংস্থা নিজেদের সফল হিসেবে উল্লেখ করে সানাউল হক বলেন, বৃক্ষ তোমার নাম কি, ফলে পরিচয়। একের পর এক তদন্তে যখন সাজা নিশ্চিত হচ্ছে তখন আর আমাদের ব্যর্থ বলবেন কেন? আমরা অনেক প্রতিকুলতার ভেতর কাজ করে এই ফল আনতে পেরেছি। এরজন্য তিনি গণমাধ্যম, বিচারপ্রার্থীসহ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এপিএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ