মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভাস্বর রাবির বধ্যভূমি

Send
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৯:৩০, মার্চ ২৫, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩৫, মার্চ ২৫, ২০১৬

রাবির বধ্যভূমি

বাহারি ফুল গাছ দিয়ে ঘেরা এক টুকরো ভূমি। সমতল থেকে বেশ খানিকটা জায়গা উঁচু করে বাঁধানো। এর ভেতরে একটি বড় কূপকে ঘিরে বানানো হয়েছে কংক্রিটের গোলাকার বেদি। কূপের গভীর থেকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে ৪২ ফুট উঁচু ইটের স্তম্ভ। এ স্তম্ভটি বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের এক টুকরো ইতিহাস। পাকিস্তানি বাহিনী আর তাদের এ দেশীয় দোসরদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ভয়াল স্মৃতি। নাম না জানা অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার পূর্বদিকে অবস্থিত এই স্মৃতিস্তম্ভটি। প্রতিদিন কয়েকশ দর্শনার্থী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে আসেন। অনেকে ঘুরতে এসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল মামুন সাগর বলেন, ‘আড্ডা দিতে বধ্যভূমিতে এসেছিলাম। এখানে এসে বুঝতে পারলাম এটা হৈ-হল্লা বা আড্ডাবাজির জায়গা নয়।’

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থেকে রাজশাহীতে বেড়াতে এসেছেন খোরশেদা জান্নাত ও আরশেদা জান্নাত। সুযোগ পেয়ে তারাও চলে এসেছেন বধ্যভূমি দেখতে।

বধ্যভূমি

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালের ২৩ এপ্রিল আবিষ্কৃত একটি গণকবরের ওপর স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়। সেসময় মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম এবং স্থানীয় কন্ট্রাক্টর জেবর মিয়া গণকবরটি খনন করেন। মৃত্যুকূপ থেকে বেরিয়ে আসে হাজারো মানুষের মাথার খুলি ও কঙ্কাল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ শামসুজ্জোহা হল ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর ঘাঁটি। ৯ মাস ধরে পাকিস্তানি বাহিনী এবং রাজাকার ও আল-বদররা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী কাটাখালি, মাসকাটা দীঘি, চৌদ্দপাই, শ্যামপুর, ডাশমারী, তালাইমারী, রানীনগর ও কাজলার কয়েক হাজার নারী-পুরুষকে এখানে ধরে এনে হত্যা করে। তাদের হাত থেকে রেহাই পাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ছাত্র, কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও। এই হলের পেছনে এক বর্গমাইল এলাকাজুড়ে ছিল বধ্যভূমি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাজলা এলাকা এবং রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পাওয়া যায় আরও কয়েকটি গণকবর।

বধ্যভূমি

১০ বছর ধরে একাই বধ্যভূমির পরিচর্যা করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মনসুর আলী। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় খুব ছোট ছিলাম। এখন বধ্যভূমির দেখভালের সুযোগ পাওয়ায় ভালো লাগে। সারা দিনে তিনশর বেশি দর্শনার্থী আসেন বধ্যভূমি দেখতে। অনেকে এর ইতিহাস জানতে চায়। আমি যতটুকু জানি তাদের বলি।’

দুঃখ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনকার ছেলেমেয়েদের কাছে দিনদিন এ জায়গার গুরুত্ব যেন হারিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই এসে বেদিতে বসে আড্ডা দেয়। জুতা পায়ে ওপরে ওঠে। দেখে খুব খারাপ লাগে। যারা দেশের জন্য জীবন দিলেন তাদেরকে এমন অসম্মান করে কীভাবে?’

 

/এসটি/

লাইভ

টপ