Vision  ad on bangla Tribune

নড়াইলে বধ্যভূমিতে সরকারিভাবে শহীদদের তালিকা প্রকাশের দাবি

নড়াইল প্রতিনিধি২০:৪৪, মার্চ ২৬, ২০১৬

নড়াইলে চিত্রা নদীর তীরে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধনড়াইলের বধ্যভূমির কথা স্মরণে এলে মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিকামী মানুষ আজও শিউরে ওঠেন। জনশ্রুতি আছে, চিত্রা নদীর তীরে তৎকালীন লঞ্চঘাটের পন্টুনের ওপর রাজাকাররা আনুমানিক ৩ হাজার নিরীহ মুক্তিকামী মানুষকে গলা কেটে ও গুলি করে হত্যার পর নদীতে ভাসিয়ে দেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নড়াইল মহাকুমা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান সোলায়মান মোল্যার নির্দেশে তৎকালীন নড়াইল ডাক বাংলাসহ, (বর্তমান নড়াইল জেলা পরিষদ ডাক বাংলা) বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতন ক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হয়। নড়াইলের সবচেয়ে ঘৃণিত এই ব্যক্তির নির্দেশে নড়াইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভারতগামী শরণার্থী, নিরীহ বাঙালি, মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ সমর্থক, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে ধরে ক্যাম্পে এনে নির্যাতন করা হতো। পরে এদের হাত-পা বেঁধে নড়াইল লঞ্চ ঘাটের পন্টুনে এনে গলা কেটে ও গুলিতে হত্যার পর নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো।

রাজাকার সোলায়মানের কাছে  বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দিদের নাম লেখা একটি খাতা  থাকতো। প্রতিরাতে ওই খাতার  তালিকা ধরে লাল কালিতে টিক চিহ্ন দিয়ে লেখা হত ‘রিলিজ ফরএভার’।এরপর  বরাশোলা গ্রামের ওমর, কাগজিপাড়ার মোমরেজ,ফুলসরের ওহাব ও পেড়লির আশরাফকে এ বিচার কার্যকর করার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হতো। এই জল্লাদদের প্রত্যেককে প্রতিটি হত্যার জন্য ১০ টাকা করে বকশিস দেওয়া হতো। বর্তমানে লঞ্চ ঘাটটি আর নেই। এই বধ্যভূমির পাশে চিত্রা নদীর পাড়ে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এখানে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হলেও মাত্র কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন সদরের শাহাবাদ ইউনিয়নের ধোন্দা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মকলেস ফকির, লোহাগড়া থানার কুমড়ি গ্রামের শিক্ষক কাজী বেলায়েত হোসেন, যশোর শহরের পুরান কসবা এলাকার শামছুসজালাল বাবুল, শেখাটি ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামের ইববার শেখ, নায়েব আলী সরদার, সোবহান সরদার, লাল মিয়া শেখ ও  ছব্দুল শেখ। এদের সবাইকে নড়াইল ডাক বাংলোয় ধরে এনে রাতে লঞ্চঘাটের পন্টুনের ওপর গলা কেটে হত্যার পর মরদেহ চিত্রা নদীতে ভাসিয়ে দেয় পাকিস্থানের দোসর রাজাকাররা।

নড়াইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার এডভোকেট আব্দুল মতিন বাংলাট্রিবিউনকে বলেন, বধ্যভূমিতে শহীদদের তালিকা সরকারিভাবে প্রকাশের জোর দাবি জানাচ্ছি।

২০১০ সালের ২০ জুলাই শেখাটি গ্রামের শহীদ ইবরার শেখের ভাই আলাউদ্দিন শেখ বাদী হয়ে নড়াইল শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান মওলানা সোলাইমানসহ ৭ সহযোগির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নড়াইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

এপিএইচ/

 

লাইভ

টপ