Vision  ad on bangla Tribune

ছুটিতে থেকেও ঘুষ নেওয়া, শেরে বাংলা থানার দুই পুলিশ বরখাস্ত

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট০১:৪২, মার্চ ২৭, ২০১৬

পুলিশছুটিতে বাড়িতে থাকা অবস্থায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শেষে আরও কঠোর শাস্তি নেওয়ার সুপারিশ করা হতে পারে।
শনিবার রাতে তাদের বরখাস্ত করা হয় বলে পুলিশ সূত্র জানায়। বরখাস্ত দুই পুলিশ সদস্য হলেন, উপপরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিয়ার রহমান।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শেরে বাংলা নগর থানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এসআই  জানান, শুক্রবার রাতে ফার্মগেট এলাকার একটি রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির ৩ কর্মকর্তাকে আটক করে এসআই দেবাশীষ। তাদের থানায় নিয়ে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওই এসআই। আটকৃতদের গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে। তাদের সঙ্গে টাকা না থাকায় গ্রামের বাড়ি থেকে টাকা দিতে চায়। এরপর দেবাশীষ গ্রামের বাড়ি থেকেই টাকা নিতে রাজি হয়। কারণ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিয়ার রহমানের গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে। তিনি ছুটিতে গ্রামের বাড়িতেই ছিলেন। রাতে আটকৃতদের আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে কুড়িগ্রামে বসে ৭৫ হাজার টাকা নেয় শফিয়ার।শনিবার সকালে ওই তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তাদের কাছ থেকে ৪৫ টি পাসপোর্ট রেখে দেওয়া হয়। বাকি টাকা দিলে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হবে বলে জানায় এসআই  দেবাশীষ। তবে শুক্রবার রাতের ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি ঢাকায় জানাজানি হয়ে যায়।তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বিপ্লব কুমারকেও কে বা কারা ফোন করে বিষয়টি জানায়। এরপর তিনিও গোপনে তদন্ত শুরু করে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর শনিবার রাতে তাদের বরখাস্ত করা হয়।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার রাতেই বিপ্লব কুমার সরকার ওই তিনজনকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিজি বিশ্বাসকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওসি তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে ২৬ মার্চে অনুষ্ঠানের ডিউটিতে চলে আসেন। কিন্তু ওদিকে এসআই দেবাশীষ ও শেরে বাংলা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আটকৃতদের সঙ্গে দেন দরবার করেন। এরপর ঘুষ নিয়ে শনিবার সকালে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরিদর্শকের (অপারেশন) জড়িত থাকার বিষয়টিও ডিএমপি কমিশনারকে জানানো হয়েছে। তদন্ত করে দোষ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, এএসআই  শফিয়ার কুড়িগ্রামে ভিকটিমদের আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এসআই দেবাশীষ ও এএসআই  শফিয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত রিপোর্টের পর দোষ অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

/এআরআর/ এমএসএম 

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ