behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বাংলা ট্রিবিউনকে তরুণ নির্মাতা তারিকুল ইসলামভালো ছবিতে ভালো ব্যবসা হয়

গোলাম মওলা০৯:৩৪, মার্চ ২৭, ২০১৬

কয়েক বছর ধরে দেশের চলচ্চিত্র ব্যবসায় মন্দাভাব চলছে। এ অবস্থায় দিন-দিন সিনেমার সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। সিনেমা হলও কমে যাচ্ছে। অনেক সিনেমা হল এখন বন্ধ হওয়ার পথে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যে যারা আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভালো কাহিনীভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন তাদের ছবি ভালো ব্যবসা করছে। ভালো নির্মাতা হিসেবেও তারা পরিণত হচ্ছেন। এসব মন্তব্য তরুণ নির্মাতা তারিকুল ইসলামের। বৃহস্পতিবার বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে ‘চলচ্চিত্রের ব্যবসা ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে একান্ত আলাপচারিতায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

তারিকুল ইসলাম২

নির্মাতা তারিকুল ইসলামের মতে, সারাদেশে এখন তিনশ’টির মতো সিনেমা হল অবশিষ্ট রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি এখন বন্ধ হওয়ার পথে।গত কয়েক বছরে ঢাকা শহরে হাতেগোনা কয়েকটি মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল নির্মিত হলেও চলচ্চিত্র ব্যবসায় দুরাবস্থা এখনও বিরাজ করছে। তারপরেও এই পরিস্থিতির মধ্যেও থেমে নেই সিনেমা তৈরির কাজ।

তিনি জানান, বর্তমানে বেশ ঝুঁকি নিয়েই অনেক তরুণ নির্মাতা বানাচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র। এর অনেকগুলোই নির্মাণশৈলির কারণে উঠে আসছে আলোচনায়। আর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারসহ গল্পের গাঁথুনি ভালো-এমন বেশ কিছু চলচ্চিত্র ব্যবসায়িক সফলতার পাশাপাশি নির্মাতা হিসেবেও অনেককে এনে দিয়েছে বিশেষ পরিচিতি। তিনি নিজেও এই দলে আছেন।

তারিকুল জানান, এরই মধ্যে ধারাবাহিকসহ ৩৮ টির বেশি নাটক ও ৫টি বিজ্ঞাপন নির্মাণ করেছেন। সম্প্রতি তিনি নির্মাণ করছেন ‘মানিক চাঁদ বাংলাদেশি’ নামের একটি চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্র এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের অবস্থা, ব্যবসায়িক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।  

বাংলা ট্রিবিউন: বর্তমানে চলচ্চিত্রের অবস্থা ও ব্যবসায়িক পরিস্থিতি কেমন?

তারিকুল ইসলাম: গেল কয়েক বছরে সিনেমা হলের সংখ্যা কমলেও চলচ্চিত্র তৈরিতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। এর ফলে তরুণ নির্মাতারা এই সেক্টরে আসা শুরু করেছে। অবশ্য তরুণ নির্মাতাদের অনেকে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে, যারা শতভাগ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছেন, তারা ধীরে-ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। চলচ্চিত্র ব্যবসাও ধীরে-ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউন: অনেকেই বলেন, চলচ্চিত্র ব্যবসায় এখন মন্দাভাব চলছেএ অবস্থার মধ্যে কিভাবে কিছু চলচ্চিত্র জনপ্রিয় হচ্ছে?

তারিকুল ইসলাম: এদেশে এই কিছু বছর আগেও হাজার দেড়েকেরও বেশি সিনেমা হল ছিল। কিন্তু, প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে নতুন মিডিয়া তৈরি হওয়ায় এবং আগের নির্মাতারা সময়ের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নতুন ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে না পারায় এ ব্যবসায় এক রকম ধস নেমেছে। সারাদেশে বারোশ’র মতো পুরোনো সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। অবশ্য ইদানিং এ পরিস্থিতি বাঁক নিচ্ছে। এখন ঢাকা শহরসহ অন্য বড় শহরগুলোতে ছোট আয়তনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধাসমৃদ্ধ মাল্টিপ্লেক্স তৈরি হয়েছে এবং হচ্ছে। বিভাগীয় ও জেলা শহরে এমনকি থানা শহরেও প্রযুক্তিগত সুবিধাসমৃদ্ধ মাল্টিপ্লেক্স তৈরি হচ্ছে। একইভাবে বেশ কিছু ভালো মানের চলচ্চিত্রও তৈরি হচ্ছে। নতুন নতুন অনেক অভিনয়শিল্পীও তৈরি হচ্ছে, নতুন নতুন নির্মাতা তৈরি হচ্ছে। নতুন নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এইভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই ইন্ড্রাস্ট্রি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

বাংলা ট্রিবিউন: অনেক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নাকি খরচের টাকাই ঘরে তুলতে পারছে না?

তারিকুল ইসলাম: এ কথা সত্য। যে সব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান না বুঝে, না জেনে চলচ্চিত্রে বিনিয়োগ করেছে, তারা ক্ষতির মুখে পড়েছে। আবার এরই মধ্যে অনেকে লাভও করেছে। ‘মনপুরা’ ছবি কিন্তু ভালো ব্যবসা করেছে। মনপুরার মতো আরও অনেক ভালো ছবি আছে, যেগুলো ভালো ব্যবসা করেছে। কিছু-কিছু চলচ্চিত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই বিনিয়োগের সব টাকা উঠে গেছে। আবার অনেক চলচ্চিত্র আছে, সারা বছরেও যেগুলোর বিনিয়োগের টাকা উঠছে না। চলচ্চিত্র ব্যবসায় লাভ করার বিষয়টা নির্ভর করে অনেক কিছুর ওপর।চলচ্চিত্রে ভালো ব্যবসা করতে চাইলে দরকার সঠিক বাণিজ্যিক পলিসি। এর সঙ্গে দরকার ভালো গল্প, এরপর ভালোভাবে নির্মাণ, যথার্থ লোকেশন, ভালো অভিনয়ের পাশাপাশি সাউন্ড সিস্টেমসহ প্রযুক্তির ব্যবহারও হতে হয়  প্রয়োজন অনুযায়ী।

তারিকুল ইসলাম৩

বাংলা ট্রিবিউন: রাজ্জাক, শাবানা, আলমগীরের মতো জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পী এখন বেরিয়ে আসছে না কেন?

তারিকুল ইসলাম: এ সময়ের অনেক অভিনয় শিল্পীকে দেখা যাচ্ছে  জনপ্রিয় হওয়া শুরু করার পরপরই নানা ধরনের কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে অনেক কিছুতে জড়িয়ে পড়েন তারা। অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করে দেন। এর ফলে রাজ্জাক, শাবানা, আলমগীরের মতো জনপ্রিয় হতে পারছেন না। দর্শকদের মনেও তারা স্থান করে নিতে পারছেন না। একই কারণে এইসব শিল্পী এই সেক্টরে বেশি দিন টেকেনও না।

বাংলা ট্রিবিউন: নির্মাতারা নাকি নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পারেন না, কারণ কি?

তারিকুল ইসলাম: কারণ একটাই বাজেট। বাজেট কম হলে বেশির ভাগ সময় চলচ্চিত্রের মান খারাপ হয়ে যায়। কোনও কোনও সময় প্রযোজকদের কারণেও চলচ্চিত্রের মান খারাপ হয়।

বাংলা ট্রিবিউন: ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র হচ্ছে, এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?

তারিকুল ইসলাম: এখন যৌথ প্রযোজনায় যে সব চলচ্চিত্র হচ্ছে এগুলো আইন বা নীতিমালা অনুসরণ করছে না। বাংলাদেশের একজন বা দুজন শিল্পীকে নিয়েই হচ্ছে যৌথ প্রযোজনার ছবি। এতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের উপকার না হলেও ভারতীয় প্রযোজকদের আয় করার একটা পথ তৈরি হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: এ পর্যন্ত আপনি কতোটি চলচ্চিত্র বা নাটক নির্মাণ করেছেন?

তারিকুল ইসলাম: কয়েকটি ধারাবাহিকসহ ৩৮টি নাটক নির্মাণ করেছি। এগুলোর অধিকাংশই এটিএন বাংলা, এনটিভি, চ্যানেল আইসহ দেশের অধিকাংশ টিভিতে প্রচারিত হয়েছে। কয়েকটি কোম্পানির ৫টি বিজ্ঞাপন নির্মাণ করেছি। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘মানিক চাঁদ বাংলাদেশী’ নামের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করছি। আর ৪/৫ দিন শ্যুটিং করলেই এই ছবির কাজ শেষ হবে। আগামী ডিসেম্বরে এই ছবি মুক্তি দেওয়া হবে।

/টিএন/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ