behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

‘অটোরিকশায় ওড়না পেঁচিয়ে’ কলেজছাত্রীর মৃত্যু!

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট২২:২৬, মার্চ ২৮, ২০১৬

 মৃতদেহকোচিং শিক্ষকের দাওয়াত খেয়ে বান্ধবীদের সঙ্গে বাসায় ফেরার পথে রাজধানীর ধোলাইপাড়ে ‘অটোরিকশায় ওড়না পেঁচিয়ে’ আরেফিন আক্তার জুথি (১৯) নামে এক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।চিকিৎসকরা জানিয়েছেন,গলায় ফাঁস দিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে ধোলাইপাড়ের গোয়ালিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত জুথির রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। তার বাবার নাম ডা.আজিজুল হক। শনিরআখড়ার পলাশপুরের ১৬০৫ নম্বর বাসায় বাবা-মায়ের সঙ্গে তিনি থাকতেন।
নিহতের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।ঢামেক পুলিশ বক্সের ইনচার্জ মোজাম্মেল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের বান্ধবী আখী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘আমাদের কোচিং স্যার শরীফ।তার কাছে আমরা ব্যাচ করে পড়ি।স্যার আজকে আমাদের চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ট্রিট দিয়েছে। আমরা চার বান্ধবী ইভা, জুথি, মিশু ও আমি মিলে বিকেল পৌনে ৩ টার দিকে ধোলাইপাড়ের গোল্ডেন সান রেস্টুরেন্টে খেতে যাই। খেয়ে আসার সময় আমরা একটা অটোরিকশায় উঠি।পথে মিশু ও ইভা নেমে যায়।ঘোয়ালবাড়ি এলাকায় এসে জুথি আমার কাছে ভাড়া দেয়। আমি ভাড়া হাতে নেই। এর একটু পরেই জুথি ‘ও মা’ বলে চিৎকার দেয়।এরপর আমি তাকিয়ে দেখি জুথি চালকের দিকে মাথা নিচু করে পড়ে আছে।আমি ওকে ধরে তুলি।দেখি মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে।ঘটনাস্থল এলাকায় জুথির বাবার চেম্বার।আমি সেখানে দৌঁড়ে যাই।কিন্তু চেম্বারটি বন্ধ ছিল। এরপর আমার মাকে আমি ফোন দেই।আমার মা বাবাকে ফোন দেয়।পরে জুথির বাবাকে আমার বাবা ফোন দিয়ে জানায়।এর মধ্যে আমার অপর বান্ধবীরা জুথিকে ধরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমি শরীফ স্যারকেও ফোন দেই। সবাই হাসপাতালে আসে। আমি বাসায় চলে আসি।’
কোচিং স্যার শরীফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘আমি তাদের চাইনিজ খাওয়ানোর পর একটি অটোরিকশাতে তুলে দেই। আইসক্রিম কিনে দেই। এর কিছুক্ষণ পর এ ঘটনা ঘটে। অপর ছাত্রীরা আমাকে জানায়। জুথি আমার দূর সম্পর্কের আত্মীয় হয়।ওদের বাসায় আমার যাওয়া আসা রয়েছে।’
কিভাবে জুথির মৃত্যু হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওর বান্ধবীরাও বলতে পারছে না। কিভাবে হলো। হাসপাতালে ওর ওড়নাটি পাইনি।কিভাবে ঘটনাটি ঘটল আমিও বুঝতে পারছি না। অটোরিকশাটিকেও পাওয়া যায়নি। প্রথমে জুথিকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।পরে ঢামেক হাসপাতালে আনা হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পৌনে ৬ টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
এদিকে ঢামেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যুর কারণ লিখেছেন,‘হ্যাং’। সাধারণত যেসব মানুষ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বা যাদের ঝুঁলিয়ে হত্যা করা হয় সেসব ক্ষেত্রে এই শব্দটি লেখা হয়। নিহত জুথির গলায় দাগ রয়েছে।তার মুখ থেকেও রক্ত বের হচ্ছে।

আগামী ৩ এপ্রিল দেশ জুড়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হবে।মতিঝিল আইডিয়াল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জুথি এই পরীক্ষায় অংশ নিতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর কালুখালি উপজেলার কাটাখালিয়া গ্রামে। নিহতের লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

/এআরআর/ এমএসএম /   

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ