behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ভূমিকা রাখছে পুলিশ: এআইজি নজরুল ইসলাম

আমানুর রহমান রনি০৩:৪৮, মার্চ ২৯, ২০১৬

এআইজি নজরুল ইসলামবাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ব্যধি। দেশের বেশকিছু জেলায় এই ব্যধি ছিল ভয়াবহ। জামালপুর তার মধ্যে একটি। সেই ব্যধির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে ‍তুলে প্রতিষেধক দিয়েছিলেন সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (এআইজি) নজরুল ইসলাম। যিনি এখন পুলিশ সদর দফতরের গণমাধ্যম শাখার প্রধান। পুলিশের সঙ্গে সংবাদকর্মীদের সমন্বয় করে তথ্যপ্রবাহের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। মানুষের তথ্য পাওয়া ও জানার বিষয়েও রয়েছে তার ভূমিকা। কিভাবে তিনি এতসব করেন।তার উৎসাহের জায়গাটি কী? তা জানিয়েছেন বাংলা ট্রিবউনকে।  

বাংলা ট্রিবউন: পেশা হিসেবে পুলিশকে বেছে নিয়েছেন কেন?

নজরুল ইসলাম: মানুষের সেবা করার ইচ্ছা ছোটবেলা থেকেই ছিল। ছাত্রজীবন থেকেই মানুষের সেবায় কাজ করে আসছি। শিক্ষাজীবন শেষ করে ভেবেছি, মানুষকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম পুলিশ বাহিনী। যারা মানুষকে ২৪ ঘণ্টাই সেবা দেয়। তাই এই পেশা বেছে নিয়েছি। 

বাংলা ট্রিবউন: আপনি জামালাপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন। ওই জেলায় বাল্যবিয়ের প্রচলন ছিল খুব বেশি। আপনি সেখানে যাওয়ার পর বাল্যবিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। এটা কিভাবে সম্ভব হয়েছিল?

নজরুল ইসলাম: হ্যাঁ, আপনি সত্যি বলেছেন। জামালপুরে আমার একটি উদ্যোগ ছিল। যাতে ওই এলাকার মানুষও সাড়া দিয়েছিল। তাই উদ্যোগটি সফল হয়েছে। সবশ্রেণির মানুষ পুলিশের সঙ্গে ছিল। তাই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছিল।

বাংলা ট্রিবউন: একটু ব্যাখ্যা করে যদি বলতেন।

নজরুল ইসলাম: গতবছরের ১৮ মে বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে এর প্রতিরোধকল্পে একটি বিশেষ ধরনের চিঠি লিখেছিলাম। নিজের খরচে ওই চিঠির আট হাজার কপি করে জেলার সাত উপজেলার প্রতিটি গ্রামে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক,  নারীনেত্রী এবং উদ্যোগী মানুষদের কাছে পুলিশ দিয়ে চিঠিগুলো পাঠিয়েছিলাম। চিঠিগুলোতে পুলিশ আমার মোবাইল ও টেলিফোন নম্বর উল্লেখ থাকায় প্রতিদিনই জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাল্যবিয়ে সম্পর্কে নানা তথ্য আমার কাছে আসত। এরপর পুলিশ সেইসব বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিত। উদ্যোগ নেওয়ার মাত্র ১৭ দিনে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় পুলিশ ২৪টি বাল্য বিবাহ বন্ধ করা হয়েছিল। এরপর এই কাজ আরও বেগবান হয়। বাল্যবিয়ের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়া কিশোরী ও তাদের অভিভাবকদের নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই মতবিনিময় করছি। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে জেলার ৭টি উপজেলায় ৮০৩টি কমিটি গঠন করা হয়। জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাসহ প্রায় ৭ শতাধিক শিক্ষক, দেড় হাজার শিক্ষার্থী এবং দুই হাজার কমিউনিটি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়েছি।

বাংলা ট্রিবউন: এ তো আপনি সামাজিক আন্দোলন করে বাল্যবিয়ে রোধ করেছে। কিন্তু এখানে আর কী করার আছে, যার মাধ্যমে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা যায়?

নজরুল ইসলাম: আমি জামালপুরে থাকার সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দিয়েছিলাম। যাতে উল্লেখ করা হয়েছিল, বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের পূর্বশর্ত হিসেবে একজন কাজিকে চেয়ারম্যানের সার্টিফিকেট এবং প্রাথমিক সমাপনী বা জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট অথবা এসএসসি বা সমমানের সার্টিফিকেট সংযুক্ত করতে হবে। কোনও সার্টিফিকেট না থাকলে বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের জন্য সিভিল সার্জন কর্তৃক বয়সের সনদপত্র সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। কাজী দিয়ে রেজিস্ট্রেশন না করে মৌলভীর মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ব্যবস্থার রাখার কথা চিঠিতে বলা হয়।

বাংলা ট্রিবউন: জামালপুরের এখনকার অবস্থা কী? আপনি আসার পর কি সেখানে বাল্য বিয়ে বন্ধ রয়েছে?

নজরুল ইসলাম: হ্যাঁ, মানুষের মনে বাল্যবিয়ের ক্ষতির দিকগুলো ভালো করে গেঁথে গিয়েছে। তাই তারা আর এই কাজের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন না। সেখানে যারা আমার সঙ্গে কাজ করেছিলেন, তারা এখনও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমি তাদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করি।

বাংলা ট্রিবউন: আপনি এখন পুলিশ সদর দফতরের গণমাধ্যম শাখার দায়িত্ব পালন করছেন। এই দায়িত্বকে কিভাবে দেখছেন।

নজরুল ইসলাম: আমি এখানে নিজে ইচ্ছে করে এসেছি। এখানে কাজ করতে পেরে খুব ভালো লাগে। সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা, তাদের মাধ্যমে দেশের মানুষকে তথ্য জানানো কাজটি করে যাচ্ছি। পুলিশ, সংবাদকর্মী ও দেশের নাগরিকদের সঙ্গে একটি সম্পর্ক স্থাপনের কাজ করছি। আমি খুব উপভোগ করি। সবাই সবার সহযোগী, আমার কোনও সমস্যা হচ্ছে না।

  

/এমএনএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ