behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

শ্রমিক নেতাকে ঘুষি মেরে নাকের হাড় ভাঙলেন ট্যুরিস্ট পুলিশ!

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট১৬:০৫, মার্চ ২৯, ২০১৬

ট্যুরিস্ট পুলিশরাজধানীর রামপুরা বনশ্রীর লেগুনা স্ট্যান্ডে আওয়ামী মোটর চালক লীগের এক শ্রমিক নেতাকে দুই দফায় মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ট্যুরিস্ট পুলিশের এক সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই)-এর বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা দুই ঘন্টা ধরে বনশ্রী-ম্যারাদিয়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।এতে সড়কের উভয় দিকের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।  পরবর্তীতে রামপুরা থানা পুলিশ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে সিভিলে থাকা ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসআই মনির হোসেন রামপুরা লেগুনা ষ্ট্যান্ড শ্রমিক ইউনিয়নের সিনিয়র সহসভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী মোটর চালক লীগের রামপুরা থানার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম হোসেন (৩৫) কে মারধর করেন। পরবর্তীতে শ্রমিকরা এর প্রতিবাদে রামপুরা সড়কটি অবরোধ করেন।
রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, একটু ঝামেলা হয়েছিল এখন সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। সড়কে যান চলাচল করছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তা মনিরের ঘুষিতে ও বুটের লাথিতে শ্রমিক নেতা মো. শামীমের নাকের হাড় ভেঙ্গে গেছে। পরবর্তীতে অন্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে বনশ্রীর ফরাজী হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান বলে জানিয়েছেন আহত শ্রমিক নেতার ভাগ্নে আবু বক্কর।
আবু বক্কর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আহত শ্রমিক নেতা আমার মামা হন। দীর্ঘ সাত বছর ধরে তিনি লেগুনা ষ্ট্যান্ডে আছেন। প্রতিদিন রাস্তার যানজট ছাড়াতে মামা কাজ করেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি লেগুনা গুলোকে সারিবদ্ধভাবে রাখার জন্য চালকদের নিয়ে কাজ করছিলেন।এমন সময় ম্যারাদিয়া থেকে এক মোটর সাইকেল আরোহী এসে মামার পেছন দিক দিয়ে মোটর সাইকেল উঠিয়ে দেন। মামা এর প্রতিবাদ করেন। তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। মামাকে তখন ওই ব্যক্তি মারধর করেন। নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে তিনি চলে যান। তখন মামাকে তিনি বলে যান,‘আমি পোশাক পড়ে আসতেছি।’ এর আধাঘন্টা পর ওই ব্যক্তি পুলিশের পোশাক পড়ে এসে মামাকে আবারও মারধর করেন। মারধরে মামার নাক ফেটে যায়। বুটের লাথিতে তিনি বুকে  ব্যথা পেয়েছেন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বনশ্রীর ফরাজী হাসপাতালে নেওয়া হয়।সেখানে এক্সরেতে ধরা পড়ে তার নাকের হাড় ভেঙ্গে গেছে।মামাকে মারধরের খবর শুনে অন্যা শ্রমিকরা সকাল ১০ টার দিকে বনশ্রী-ম্যারাদিয়া সড়ক অবরোধসহ প্রতিবাদ করেন। পরবর্তীতে রামপুরা থানার পুলিশ এসে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে। ওই পুলিশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস পেয়ে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।অবরোধে দুই ঘন্টা ধরে এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।’

তিনি আরও বলেন ‘মারধরের বিষয়টি ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তা শুনতে পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। ট্যুরিস্ট পুলিশের কয়েকজন সদস্য আলোচনার কথা বলে মামাকে হাসপাতাল থেকে তাদের অফিসে নিয়ে যান।আমরা সেখানেই আছি।’

আহত শ্রমিক নেতা মো. শামিম বলেন, ‘এএসআই  মনির পোশাকের গরমে আমার উপর হামলা করেন। আমি তার সঙ্গে কোনও ধরণের খারাপ আচরণ করিনি। শ্রমিরা রাস্তা অবরোধ করেছিলেন। ওসি রফিকুল ইসলাম ঘটনার সমাধান করে দেবেন বলে আশ্বস্থ করলে শ্রমিরা অবরোধ তুলে নেন।’

এদিকে এবিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদর দফতরের এসপি (লজিস্টিক) সরদার নুরুল আমীন বাংলা ট্রিবউনকে বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে আমার সঙ্গে শামীম দেখা করে গেছেন।চা খেয়েছেন। আমি তার মুখ থেকে ঘটনাটি শুনেছি। তাকে এবিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। একজন পরিদর্শককে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশি পোশাকের কেউ অপব্যবহার করলে তার ক্ষমা হবে না। অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

/এআরআর/ /এপিএইচ/ 

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ