behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

স্থান নিয়ে জটিলতাসৈয়দপুরে ৪৫ বছরেও নির্মিত হয়নি স্মৃতিসৌধ

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী১০:৩১, মার্চ ৩০, ২০১৬

স্বাধীনতা

দেশ স্বাধীনের ৪৫ বছর পরও নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে নির্মিত হয়নি স্মৃতিসৌধ। একাধিকবার স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অর্থ বরাদ্দ, স্থান সংকট ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বায়হীনতার কারণে তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত শহীদদের চিহ্নগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে।

৪৭’ এ দেশ ভাগের পর থেকে সৈয়দপুর শহরে বিপুল সংখ্যক উর্দুভাষী এসে আস্তানা গাড়ে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের সময় উত্তর অঞ্চলের অবাঙালি (উর্দু ভাষী) অধ্যুষিত সৈয়দপুরের দৃশ্যপট ছিল দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় একেবারে ভিন্ন।

মুক্তিযুদ্ধে অবাঙালিদের সংগঠিত করতে সেসময় নেতৃত্ব দেন তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য শহীদ ডা. জিকুরুল হকসহ আরও অনেকে। হানাদার বাহিনী বাঙালিদের আটকে রেখে বিমানবন্দরের মাটি কাটার কাজে লাগিয়ে দেয় এবং তাদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়। এসময় দিনাজপুরের চিরির বন্দর উপজেলার আলোক দীঘি ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মাহাতাব বেগ দোসরদের হাত থেকে বাঙালিদের উদ্ধারে। কিন্তু শহরে ঢোকার আগে হানাদার বাহিনী তাকে গুলি করে হত্যা করে।

তিনিই মূলত এ অঞ্চলের প্রথম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। কতজন মানুষ সৈয়দপুরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন তার সঠিক হিসাব না থাকলেও বিভিন্ন সূত্র মতে এ সংখ্যা সহস্রাধিক।

৭১’ এর ২৩ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী হিন্দু ও মাড়োয়ারী পরিবারের ৩৫০ জনকে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সৈয়দপুরে এটি ছিল সবচেয়ে বড় গণহত্যা। এ শহরে এমন অনেক পরিবার রয়েছে যাদের কোনও সদস্যকে বাঁচতে দেওয়া হয়নি। স্বাধীনতা ৪৫ বছর পরও সৈয়দপুরে আজ পর্যন্ত নির্মিত হয়নি স্মৃতিসৌধ। কিন্তু স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জায়গা নির্ধারণের জটিলতা ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগের কারণে বাস্তবায়ন হয়নি।

সূত্র জানায়, ২০০০ সালের ৯ অক্টোবর শহরের ওয়াপদা মোড়ের সড়ক দ্বীপে মুক্তিযুদ্ধের অমর শহীদ স্মৃতি ভাস্কর্য নির্মাণের ভিত্তিফলক উম্মোচন করা হয়। নামকরণ করা হয় ও স্বাধীনতা শহীদ স্মৃতি ভাস্কর্য। এই নকশা তৈরি করেন ভাস্কর হাবিবা সুলতানা বেলী সরকার।

এর আগেও নকশাটি তৈরি করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রধান শিল্প নির্দেশক জিএমএ রাজ্জাক। এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬০ লাখ টাকা। আর সর্বশেষ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৯৮ টাকা। কাগজে কলমে হিসাব-নিকাশ হলেও বাস্তবে তা পরিণত হয়নি।

এদিকে শহীদ ভাস্কর্য স্বাধীনতা স্মৃতি নির্মিত না হলেও ৭১ এর প্রজন্ম ছোট পরিসরে স্মৃতি অম্লান নির্মাণ করেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শিশু পার্কে নিজস্ব অর্থায়নে শহীদ স্মৃতিফলক ও রেলওয়ে কারখানার অভ্যন্তরে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করে প্রশংসিত হয়েছে।

সর্বশেষ সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট সড়কের ডাক বাংলার বিপরীতে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভের ফলক উম্মোচন করা হয় ঘটা করে। পরবর্তীতে কিছু দিনের মধ্যে ভিত্তি স্থাপনের সাইন বোর্ড চুরি হয়ে যায়। এভাবে বারবার থেমে যাচ্ছে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ।

 /এসটি/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ