behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ইউপি নির্বাচনে কারচুপি-সহিংসতাদলগুলো দোষ চাপাচ্ছে ইসির ওপর

এমরান হোসাইন শেখ০১:০৩, এপ্রিল ০৪, ২০১৬

নির্বাচনি সহিংসতাচলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সংঘটিত সহিংসতার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওপর দোষ চাপাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। খোদ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও  বলা হয়েছে, ইসি সম্পূর্ণ স্বাধীন। কাজেই ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার দায়িত্ব কমিশনেরই। এদিকে, আওয়ামী লীগে নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোও অভিযোগের আঙুল তুলছে ইসির দিকে। অবশ্যই, এসব দায় অস্বীকার করে ইসি বলছে, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ব্যর্থতার দায় কমিশনের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।
নির্বাচন কমিশন পৃথক ৬টি ধাপে দেশের ৪ হাজার ২৭৫টি ইউপিতে নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে দুই ধাপে ১ হাজার ১৫১টি ইউপির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এ দুই ধাপের নির্বাচনে গুলি, বোমা, সংঘর্ষ, ব্যালট ছিনতাই, জাল ভোটসহ ব্যাপক সহিংসা ও কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন শত শত মানুষ। দুই ধাপের নির্বাচনে কারচুপির কারণে কমিশনের পক্ষ থেকে শতাধিক কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত তৃণমূলের সব থেকে জনপ্রিয় এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টির আশা প্রকাশ করলেও এটি এখন জনগণের জন্য একটি ভীতিকর ও আতঙ্কের বিষয়ে জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসিকে সাংবিধানিকভাবেই অনেক ক্ষমতা দেওয়া হলেও তার ব্যবহার দেখা যায় না। আর এ কারণে প্রাণহানি বাড়ছে। বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতি। প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে ভোট। জনগণের আস্থা হারাচ্ছে ইসি। তবু তারা নির্বিকার।
এদিকে সংঘাত-সহিংসতা ও ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে পরবর্তী ধাপের ভোট বর্জনের হুমকি দিয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও দলের পক্ষে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, নির্বাচন কমিশন খারাপ নির্বাচনের পক্ষে সাফাই গাইছে।  কমিশন যথাযথভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারছে না। নির্বাচনের নামে  সন্ত্রাসীদের উৎসব আর ভোটারবিহীন কেন্দ্র দখলের মহড়া চলছে। যা নিয়ে ইসি কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

নির্বাচন বর্জনের ইঙ্গিত দিয়ে মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, নির্বাচনে মানুষের রক্ত ঝরছে, লোকজন ঘরে থাকতে পারছে না। এমন নির্বাচন করে লাভ নেই। তৃতীয় ধাপেও যদি এ রকম সন্ত্রাসী, দখলের ভোট হয়, সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে ইসি ব্যর্থ হয়, পরবর্তী তিন ধাপে ভোটে থাকব কি থাকব না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমাদের।

নির্বাচনে সহিংসতা বন্ধ করে অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশন ব্যর্থ উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, মেরুদণ্ডহীন এই ইসির আর স্বপদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই। দ্রুত বিদায় নিতে হবে। এ কমিশনের প্রতি মানুষের কোনও আস্থা নেই।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত শনিবার এক অনুষ্ঠ‍ানে বলেন, ‘এ কেমন কমিশন, লড়েও না, চড়েও না। আগায়ও না, পেছায়ও না?’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন। ভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ করার জন্য নির্বাচন কমিশন যে কোনও ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে। কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন রবিবার কমিশনে গিয়ে ইউপি নির্বাচন নিয়ে দলের পক্ষে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিয়ে আমাদের আভিজ্ঞতা এত করুণ, দুদফা নির্বাচন দেখে আমাদের মনে হয়েছে, এতে দখলের মহোৎসব চলছে।

বিভিন্ন ইউপিতে দল মনোনীত প্রার্থীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, বিভিন্ন সময়ে আমাদের প্রার্থীকে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীকে মেরে ভুট্টা খেতে ফেলে রাখা হয়েছে। কেন্দ্র দখলের ঘটনা চোখের সামনে হচ্ছে। আমরা এ ব্যাপারে ইসিকে চিঠি দিয়েছি। আমরা নির্বাচনের শেষ দেখতে চাই। কিন্তু আমাদের যদি নির্বাচন কমিশন এই মর্মে আশ্বস্ত না করতে পারে, তাহলে তাদের ওপর মানুষের আর কোনও আস্থাই থাকবে না। বাংলাদেশের মানুষের নির্বাচন ব্যবস্থায় আস্থা হারিয়ে ফেলবে। এর আগে শনিবার এক অনুষ্ঠানে পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এক সভায় বলেন, ইউপি নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পক্ষে ব্যালটে সিল মেরে ভোট বাক্সে ঢোকানো, ব্যাপক সন্ত্রাস, অনিয়ম ও আচরণবিধি ভঙ্গের মহোৎসব স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার তৃণমূল পর্যায়ে এই প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনকে কলুষিত করেছে।

কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সহিংসতা এবং ভোট ডাকাতির মধ্য দিয়ে সরকার নির্বাচন ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেকটি মারতে উদ্যত হয়েছে।

এদিকে, ইউপি নির্বাচনকে ‘বিকৃত’ নির্বাচন বলে মনে করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন চরম ব্যর্থ হয়েছে। শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও এই কমিশন আস্থা হারিয়েছে। তাই তিনি ইসির পদত্যাগ দাবি করতে পারেন।

 

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য

রাজনৈতিক দলের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাচন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছেড়ে প্রতিহিংসায় মত্ত হয়েছেন। সে কারণে এসব সহিংসতা ঘটছে। দেখতে পাবেন, যারা এসব করছেন, তারা কোনও না কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ঘটনা ঘটাচ্ছেন তারা, আর উল্টো দায়ী করছেন কমিশনকে। দায়ী হওয়া উচিত ওই সব রাজনৈতিক দলেরই, যেসব দল সহিংসতা করছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এবারের নির্বাচনে আমরা একটা জিনিস দেখতে পাচ্ছি তা হলো, এক দলের বিরুদ্ধে অন্য দলের প্রতিহিংসা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। বরং আন্তঃদলীয় কোন্দলের কারণেই এসব ঘটনা বেশি ঘটছে। আধিপাত্য বিস্তারের জন্য নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছেন কর্মীসমর্থকরা।

তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা সংস্থা হিসেবে কমিশন দায় এড়াতে পারবে না এটা স্বীকার করছি। তবে মনে করি না, কমিশনকে এককভাবে দায়ী করা যাবে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে কমিশনকে দায়ী করার কী আছে ‍বুঝি না। নির্বাচন হচ্ছে একটি রাজৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ। আমাদের রাজনৈতিক দল বা বিশ্লেষকরা বলার চেষ্টা করছেন নির্বাচন বিচ্ছিন্ন একটি বিষয় এবং এটা কমিশন সঠিকভাবে তা পরিচালনা করবে। কিন্তু এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। নির্বাচন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। রাজনীতি যদি স্বচ্ছ ও সহনশীল না হয়, তাহলে নির্বাচন সর্বাংশে সুষ্ঠু করার প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়। আমি কমিশনের সচিব হিসেবে বলব, আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টার কোনও অবহেলা নেই, শৈথিল্যও নেই। নির্বাচন করতে গিয়ে আমার পুরো সময়টা যাচ্ছে টেনশনের মধ্যে। নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সময় কাছাকাছি এলে আমার প্রেশার বেড়ে যায়। তারপরও হচ্ছে না। সবাই যদি কমিশনকে দায়ী করে খুশি থাকতে পারেন, তা করতেই পারেন। তবে এককভাবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সহিংসতা এড়ানো কোনও মতেই সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, যারা বিশ্লেষণ করছেন, তাদের অনুরোধ করব, শুধু নির্বাচন নিয়ে কথা বলে তারা জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করছেন। তাদের গোটা রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়েই মুখ খোলা উচিত।

/এমএনএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ