behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বখাটেদের বিরুদ্ধে মামলায় মধ্যস্থতাকারী পুলিশ!

উদিসা ইসলাম২০:০৮, এপ্রিল ০৪, ২০১৬

ঘটনাস্থল থেকে ফারিজকে নিরাপদে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ সদস্যরারাস্তায় ওড়না ধরে টান দেওয়া, কিংবা বাইক থেকে পোশাকে টান দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ায় মরে গেলেও,  মাসের পর মাস বিচারের কাঠগড়ায় আনা সম্ভব হচ্ছে না বখাটেদের। দিনের পর দিন উত্ত্যক্ত করার পর সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েও জামিন পেয়ে যাচ্ছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে মামলা করানো গেলেও, সে মামলায় বখাটেদের পক্ষে পুলিশকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী অভিভাবকদের।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় দুইজন কলেজ পড়ুয়া মেয়ে যৌন হয়রানির শিকার হন কিছু বখাটের হাতে। আসা যাওয়ার পথে তাদের উত্ত্যক্ত করার কথা পরিবারে জানালে অভিভাবক মামলার প্রস্তুতি নেন। তাদের থানা থেকে নানাভাবে বোঝানো হয় এ মামলা করে কী ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন তারা এবং মামলা না করতে উৎসাহিত করা হয়। চাইলে ছেলের পরিবারকে ডেকে এনে বকুনি দেওয়ার প্রস্তাবসহ মধ্যস্থতার কথা জানানো হয়। মেয়েকে উত্ত্যক্তকারীর সামনে আনার অনাগ্রহ থেকে পুলিশের সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি অভিভাবকরা। বেসরকারী ব্যাংকের এই কর্মকর্তা নিজেকে অসহায় অভিভাবক বলে নামটিও প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন।
মাস তিনেক আগে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় এক বখাটের মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মারাত্মক আহত হন সানি। মেয়েটির ওড়না মোটরসাইকেলে আটকে গেলে বখাটে নবী হোসেন তাকে ছেঁচড়ে বেশ কিছু দূর নিয়ে যান। এ ঘটনায় মেয়েটির চারটি দাঁত ভেঙে যায়। কিন্তু মামলা হয়নি। মেয়েটির বাবা এ নিয়ে এখন আর কোনও কথা বলতে রাজি নন। তিনি বলেন, আমার মেয়ে ছোট, ওই ঘটনায় মধ্যস্থতা হয়ে গেছে। মধ্যস্থতায় সমাধান হয়েছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, সমাধান হয়নি, এখন আমরা সাবধানে থাকি।  

বাইকের আঘাতে নিহতের ঘটনায় সোহান- সর্ব বামে- আটক হলেও জামিনে আছে

গত অক্টোবরে এজিবি কলোনিতে ডজনখানেক বখাটে কিশোর-তরুণের বাইকের ধাক্কায় গণপূর্ত বিভাগের হিসাব সহকারী রুনা আক্তার নিহত হলেও এখনও সেই মামলার ময়না তদন্ত প্রতিবেদনই আসেনি। গত সাড়ে ৫ মাস ধরে তদন্ত কাজ চলছে। এদের একজন সোহান শাহরিয়ারকে আটক করা হলেও তিনি এখন জামিনে আছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র কুণ্ডু বলেন, তদন্ত চলছে। আটক ছেলেটি সম্ভবত জামিনে আছেন। কী ধরণের তদন্ত করছেন যে আসামির বিষয়ে জানেন না প্রশ্নে তিনি বলেন, জানি, মনে হয় এখনও জামিনে আছেন।

ঠিক একইভাবে এ ঘটনার মাত্র চারদিন আগে গুলশানে এক বখাটে কিশোরের এলোপাথাড়ি গাড়ি চালনায় শিশুসহ আহত হন চারজন। অপ্রাপ্তবয়স্ক এই কিশোর ফারিজ -এর বিরুদ্ধে কোনও মামলা না করে আহতদের যে চিকিৎসা খরচ দেওয়া হচ্ছে, সেটাকেই বড় করে দেখানোর চেষ্টা করে পুলিশ। আহতরা মামলা করতে চান বলে জানানো হলেও আহতদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।

এদিকে ঘটনার পর গাড়িটি আটক করলেও এর চালক ফারিজ আহমেদকে পুলিশই নিরাপদে পৌঁছে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে গাড়িটির মালিকানা নিয়েও প্রথম দিন থেকে লুকোচুরি শুরু করে গুলশান থানা পুলিশ।


অবশেষে ঘটনার এক সপ্তাহ পরে চালক ফারিজ রহমান ও গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ১৪ দিনের মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাঁচ মাস পর গত শনিবার সেই মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আর কি, তদন্তাধীন বিষয়, তদন্ত চলছে।’

হবিগঞ্জের ঘটনায় ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়

এদিকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় আসামি আটক হলেও জামিন হয়ে যায়, বিচারকাজ শুরু হয় না এমন উদাহরণও কম না। হবিগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে রাস্তায় লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামি রুহুল আমিন রাহুলকে গত ডিসেম্বরে চার মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ২৬ আগস্ট অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রকাশ্যে রাস্তায় লাঞ্ছিত করে বখাটেরা। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হয়রানির ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণ করে, তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে পুলিশ বাধ্য হয়ে উত্ত্যক্তকারীকে আটকের উদ্যোগ নেয়। এখনও এ মামলার বিচার শুরু হয়নি।

ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেন, আইনি বিষয়ে মধ্যস্থতার কোনও জায়গা নেই। কেউ আইনি সহায়তা নিতে গেলে তাকে সেই বিষয়েই সহায়তা করা দরকার। অপরাধকারীরা যখন ক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকেন, তখন পুলিশকে এ ধরণের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ আসে। তিনি আরও বলেন, বিচার চাইলে বিচার পাওয়া যায়, সেই উদাহরণ সৃষ্টি করে অভিযোগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাশরুকুর রহমান খালেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এমন হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। পুলিশের পক্ষ থেকে অভিভাবকসহ সমাজকে সচেতন করতে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের মধ্যে কোনও সমঝোতা বা মধ্যস্থতা করার তো কথা না।

এপিএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ