behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

রহস্যে ঘেরা মুয়াজ্জিন বেলাল হত্যাকাণ্ড

জামাল উদ্দিন২২:০১, এপ্রিল ০৪, ২০১৬

ঝব্বু খানম জামে মসজিদপুরান ঢাকার ইসলামপুরের ঝব্বু খানম জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন বেলাল হোসেন হত্যাকাণ্ড রহস্যময় হয়ে উঠছে।সকালে দ্রুত আলামত সংগ্রহের পর ঘটনাস্থল তালাবদ্ধ রাখা হয়।  প্রায় দেড়শ’ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত মসজিদটিতে এই প্রথম কয়েকটি ওয়াক্তের আজান ও নামাজের জামায়াত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে অজানা আতঙ্কে কেউই প্রকাশ্যে এ নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি।
রবিবার রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে ভোর সোয়া পাঁচটার আগে যেকোনও সময় দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে মুয়াজ্জিন বেলাল হোসেনকে (৪৯) মসজিদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার মাঝের সিঁড়িতে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে বলে সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করেছে পুলিশ। রাজধানীর কোতোয়ালী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) পারভেজ ইসলাম সুরতহাল রিপোর্টে এমনটিই উল্লেখ করেছেন। তবে কী কারণে কারা তাকে হত্যা করেছে তা  জানাতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান,১৮৭৬ সালে ঢাকার নবাব পরিবারের সদস্যরা ইসলামপুরে মসজিদটি নির্মাণ করেন। ২০০৫ সালে মসজিদটি পুননির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বিল্লাল হোসেন ঝব্বু খানম জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।বিশ্বস্ততার কারণে মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাবও থাকতো তার কাছে।
মসজিদের মার্কেটের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করেন আবদুল আউয়াল। ১৯৭১ সালের পর থেকে তিনি ওই মসজিদ কমপ্লেক্সের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করছেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন,দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় বেলাল হোসেন এই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। কারও সঙ্গে কখনও তার খারাপ সম্পর্ক ছিলো না। ভালো মানুষ হিসেবে এলাকায় তিনি বেশ পরিচিত।

আবদুল আউয়াল আরও জানান,এশার নামাজের পর পাশে এক জায়গায় তিনি ক্রিকেট খেলাও দেখেছেন।পরে বেলাল মসজিদে চলে আসেন বলেই জানান তিনি।মসজিদের আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটের একটি কক্ষে তিনিসহ আরও কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মী থাকেন। ওপরে মসজিদের সঙ্গে অবশ্য তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। সকালে জানতে পারেন মসজিদের ভেতরে মুয়াজ্জিন খুন হয়েছেন। এর আগেও গত রমজানে দুর্বৃত্তরা মুয়াজ্জিনকে বেদম মারধর করে মসজিদের দানবাক্স ভেঙে ও তার কাছ থাকা প্রায় দুই লাখ টাকা নিয়ে যায়।ওই ঘটনারও সুরাহা হয়নি।

চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে মসজিদ। নীচতলায় ১৭টি এবং আন্ডারগ্রাউন্ডে ১৩টি দোকান রয়েছে,যা ঝব্বু খানম জামে মসজিদ মার্কেট হিসেবেই পরিচিত। মসজিদের দেওয়াল ঘেষেই রয়েছে ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটিজ (মাদার তেরেজা) শিশু ভবন।উল্টো পাশে শাহ ওমর গনি বোগদাদী জিন্দাপীর শাহ বাবার (রহ:)একটি মাজারও রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কারও বক্তব্য পাওয়া না গেলেও স্থানীয়রা জানান, মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানেরও কারও কখনও বিরোধ হয়নি।

ঝব্বু খানম মসজিদের কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা

ঝব্বু খানম জামে মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ী পলাশ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মুয়াজ্জিন বেলাল হোসেন খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তার সঙ্গে কখনও কারও কথা কাটাকাটি হয়েছে এমন নজিরও নেই। তারপরও কেনও তাকে কারা হত্যা করলো সেটাই রহস্যের। মতাদর্শগতভাবেও তিনি কারও সঙ্গে কখনও বিরোধে জড়াননি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান দিয়েছেন। আর মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব রেখেছেন।এর বাইরে তিনি আর কিছুই করতেন না।

কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) পারভেজ ইসলাম বলেন,খবর পেয়ে ঝব্বু খানম জামে মসজিদে গিয়ে তারা দেখেন,মুয়াজ্জিন বেলাল হোসেনের লাশ তৃতীয় তলায় উঠার সিঁড়িতে ওপরের দিকে দুই হাত বাধা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বুকের ডান পাশে তিনটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। পেটের মধ্যে আরও দু’টি ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। যে কারণে তার নাড়িভুড়ি বের হয়ে যায়।

ইন্সপেক্টর পারভেজ ইসলাম জানান,বাসা থেকে ফজরের নামাজ পড়াতে এসে মসজিদের পেশ ইমাম তাজুল ইসলাম সিঁড়িতে মুয়াজ্জিনের লাশ দেখে থানায় খবর দেন। পরে তারা গিয়ে লাশের সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠান।

কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডটি মধ্যরাতের মধ্যেই সিঁড়িতেই হয়েছে বলে তাদের ধারণা। কারণ, ঘটনাস্থলে রক্ত জমাট বেঁধে ছিলো। মুয়াজ্জিন বেলাল হোসেন থাকতেন মসজিদের তৃতীয় তলার পূর্ব পাশের একটি কক্ষে। পশ্চিম পাশের আরেকটি কক্ষে থাকতেন হাফেজ মো. মোশাররফ হোসেন। তিনি ওই মসজিদের জুনিয়র মুয়াজ্জিন। ঘটনার সময় মোশাররফ নিজ কক্ষেই ছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এর বাইরে এখনও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। সোমবার সকালে নিহতের ছেলে মো.ইয়াছিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন বলে জানান তিনি।

নিহত মুয়াজ্জিনের ছোট ভাই আবুল বাশার জানান,তারা পাঁচ ভাই ও এক বোন। মুয়াজ্জিন বেলাল হোসেন সবার বড়। তার এক ছেলে হাফেজ ইয়াছিন ফরিদাবাদ মাদ্রাসায় পড়ে। এক মেয়ে তাছলিমা গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের স্থানীয় একটি কলেজে পড়ালেখা করে। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী হলেও বড় ভাই মাওলানা বেলাল হোসেন তাদের অভিভাবকের মতো ছিলেন। আজ রাতেই মানিকগঞ্জের পূর্ব দাশড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

 জেইউ/এমএসএম/  

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ