behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

চূড়ান্ত নয়, ফের খসড়াশিক্ষা আইনে থাকছে জেল-জরিমানাসহ বহুমুখী শাস্তির বিধান

রশিদ আল রুহানী০২:৫৬, এপ্রিল ০৫, ২০১৬

শিক্ষা মন্ত্রণালয়৫ বছর আগে শিক্ষানীতি-২০১০-এর আলোকে শিক্ষা আইন নামে একটি আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে তা চূড়ান্ত করা হয়নি। এরপর চলতি বছরের মার্চ মাসেই চূড়ান্ত হতে পারে বলে নিশ্চিত করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র। এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনে পাঁচ বছরেও চূড়ান্ত হয়নি শিক্ষা আইন, অপরাধীরা অধরাই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় গত মাসে। কিন্তু এবারও চূড়ান্ত নয়, তৃতীয়বারের মতো প্রকাশ করা হলো খসড়া। তবে অপরাধীদের শনাক্ত করে জেল-জরিমানাসহ বহুমুখী শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে এই আইনে। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের পরামর্শ চেয়ে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রবিবার (৩ এপ্রিল) ২৩ পৃষ্ঠার খসড়াটি প্রকাশও করা হয়।
খসড়াটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দ্বিতীয়বারের খসড়া থেকে কিছু জায়গায় পরিবর্তন এনে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। খসড়াটিতে মতামত চেয়ে বলা হয়েছে, আইন সম্পর্কে মতামত দিতে আগ্রহীরা ১০ এপ্রিলের মধ্যে info@moedu.gov.bd ও lawofficer@moedu.gov.bd ঠিকানায় ই-মেইলের মাধ্যমে আইনটি সম্পর্কে নিজেদের পরামর্শ দিতে পারবেন।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, তৃতীয় খসড়াটি প্রণয়নের পর দুই দফায় দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন মহল থেকে বেশ কিছু সংযোজন-বিয়োজনের প্রস্তাব এসেছিল। সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে। শিগগিরই তা চূড়ান্ত করা হবে।

এর আগে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে শিক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রথম সভা হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। ওই সভায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিবকে (আইন ও অডিট) আহ্বায়ক করে শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির কয়েকজন সদস্যকে শিক্ষা আইনের খসড়া তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই কমিটি ২০১২ সালে শিক্ষা আইনের খসড়া তৈরি করে। পরে সংযোজন-বিয়োজন শেষে ২০১৩ সালের ৫ আগস্ট জনমত যাচাইয়ের জন্য আইনের খসড়া মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

খসড়া আইনের বিষয়ে মতামত দিতে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে নানা জটিলতায় আবারও ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। খসড়ায় অনিয়মের জন্য শিক্ষকদের শাস্তি ও কোচিংবাণিজ্য বন্ধের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সংগঠনসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে আপত্তি ওঠে। শিক্ষকরা এ আইনের বিরুদ্ধে মাঠেও নামেন।

আবার ‘শিক্ষানীতি-২০১০’ অনুযায়ী শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল চালু, বেতন কর্তন ও সামারি ট্রায়ালে শিক্ষকদের শাস্তি বিধানের ধারা থাকায় এর বিরুদ্ধে নামে শিক্ষক সংগঠনগুলো। এরপর উদ্যোগটি স্তিমিত হয়ে যায়।

তবে খসড়া আইনটির ওপর সরকারি ৩৪টি, বেসরকারি ৯৪টি প্রতিষ্ঠান ও বিশিষ্ট নাগরিকসহ ব্যক্তি পর্যায়ে ১০৬টিসহ মোট ২৩৪টি মতামত নিয়ে ২০১৪ সালে আবারও আইনটি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় মন্ত্রণালয়। পরে গত বছরের ২০ অক্টোবর দ্বিতীয়বার আইনটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হলেও প্রশ্নফাঁসের শাস্তি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ‘আইনটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পরিমার্জন করার প্রয়োজনে’ ২৭ অক্টোবর তা প্রত্যাহার করা হয়।

ওই খসড়ায় পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস বা এর সঙ্গে জড়িত থাকলে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান ছিল। তবে ‘পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন ১৯৮০’ নামে সুনির্দিষ্ট আইন থাকায় এবার প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।

খসড়া আইনে শিক্ষার্থীদের মানসিক নির্যাতন ও শারীরিক শাস্তি দিতে অনধিক ১০ হাজার টাকা অথবা ৩ মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত খসড়া আইন অনুযায়ী, নিবন্ধন ছাড়া কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন বা পরিচালনা করা যাবে না। জনসংখ্যার ঘনত্ব, ভৌগোলিক অবস্থান, অনগ্রসরতা, দূরত্ব বিবেচনায় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। এই বিধান লঙ্ঘন করলে মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা জরিমানা ও ছয় মাস কারাদণ্ডের শাস্তি রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক ও ইবতেদায়িতে সাধারণ ও ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলের কথা বলা রয়েছে।

অনুমোদনহীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা শাখা ক্যাম্পাস, স্ট্যাডি সেন্টার বা টিউটোরিয়াল কেন্দ্রের জন্য ৫ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে খসড়ায়। এছাড়া কলেজ পর্যায়ে অনুমতি ছাড়া প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার জন্য ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা ৫ বছর জেল বা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া, বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের বেতন ও অন্যান্য ফি যৌক্তিক হারে নির্ধারণের জন্য একটি ‘রেগুলেটরি কমিশন’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি নির্ধারণে শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, অন্যথায় অতিরিক্ত ফি গ্রহণ করলে ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা ১ বছর জেল বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।

অন্যদিকে, এক ব্যক্তি একাধিক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না, বর্তমানে এক ব্যক্তি চারটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারেন। আগের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয় উল্লেখ থাকলেও এবার তা বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে, খসড়ায় এ বিষয়ে আলাদা বিধিমালা তৈরির কথা বলা হয়েছে।

এদিকে, পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিতরণের জন্য একটি পৃথক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে খসড়ায়। ফলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কেবল পাঠ্যপুস্তক ও অন্যান্য পাঠসহায়ক সামগ্রী প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করবে। তবে প্রাইভেট টিউশন, কোচিং ও নোটবই প্রকাশ বন্ধে দুই লাখ টাকা অর্থ দণ্ড বা ছয় মাসের কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়ায়। অবশ্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে এনসিটিবি থেকে পাণ্ডুলিপির অনুমোদন নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বা প্রকাশক কেবল সহায়ক শিক্ষা উপকরণ বা সহায়ক পুস্তক বা ডিজিটাল শিখন-শেখানো সামগ্রী প্রকাশ করতে পারবে।

অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা সংস্কৃতির পরিপন্থী বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কার্যক্রমের জন্য দুই লাখ টাকা জরিমানা বা ৬ মাসের জেল বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়া আইন অনুসারে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত প্রায় ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী বদলি ও পদোন্নতির সুযোগ পাবেন। বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি ও পদোন্নতির সুযোগ নেই। তবে ১৪টি নির্দিষ্ট কারণে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও (বেতন-ভাতার সরকারি অংশ) বাতিল ও আরও কয়েকটি কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের প্রস্তাবনা রয়েছে খসড়ায়।

আইনে প্রাথমিক শিক্ষাকে (প্রথম-অষ্টম শ্রেণি) অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী ২০১৮ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীতের জন্য ইতোমধ্যে কাজ করছে সরকার।

প্রস্তাবিত আইনে শিক্ষার স্তর হবে চারটি। এগুলো হলো প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীর বয়স হবে চার থেকে ছয় বছর। প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হবে ছয় বছর বয়স থেকে। এ স্তর হবে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি হবে মাধ্যমিক স্তর। এরপর শুরু হবে উচ্চশিক্ষার স্তর।

তবে অষ্টম শ্রেণি শেষে পাবলিক পরীক্ষার বিধান থাকলেও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার বিষয়ে নির্বাহী আদেশ দিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত জানাবে।

/এমএনএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ